এ শতকের শুরুর দশক। হলিউডের রোমান্টিক সিনেমার ইতিহাসে যোগ হয়েছিল নতুন নাম ‘টোয়াইলাইট’। স্টেফানি মেয়ারের উপন্যাস থেকে নির্মিত টোয়াইলাইট মুক্তি পায় ২০০৮ সালে। মুক্তির পরই প্রায় ৭ কোটি ডলারের ওপেনিং পায় সিনেমাটি। আজকের দিনেও সব সিনেমা এত বড় ওপেনিং পায় না। কিন্তু এমন সাফল্যের পরও নির্মাতাকে উপযুক্ত সম্মান দেয়নি স্টুডিও। সম্প্রতি এ সিনেমার নির্মাতা ক্যাথরিন হার্ডউইক জানান, তাকে একটি ছোট কাপকেক দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়েছিল।
সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ক্যাথরিন দাবি করেন, হলিউডে নারী নির্মাতাদের উপযুক্ত সম্মান দেয়া হয় না, যা পুরুষরা পান। তিনি বলেন, ‘তারা নারী নির্মাতাদের কাজ দিতে চায় না। একটা কাজে সাফল্য পেলেও নতুন কাজ দেয় না। আমি এ করুণ বাস্তবতা দেখেছি।’
হলিউডে সিনেমা প্রযোজনা করে বড় বড় স্টুডিও। তারাই নির্মাতাদের কাজ দেয়। সিনেমার লাভের অংশও তারাই পেয়ে থাকে। সিনেমা সফল হলে নানা জায়গা থেকে তাদের জন্য উপহার আসে। এমনকি পরিচালকরা গাড়ি বাড়ি উপহার পান। কিন্তু ক্যাথরিন পাননি। তিনি বলেন, ‘আমি একটা ঘরে ঢুকলাম, যার পুরোটা উপহারে ভর্তি। সবাই স্টুডিওকে অভিনন্দন জানাচ্ছিল। তারপর আমাকে একটা বক্স ধরিয়ে দেয়া হলো। সেটা খুলে দেখলাম, একটা মিনি কাপকেক রাখা। এভাবেই তারা আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিল।’
সিনেমাটি নিয়ে শুরু থেকেই স্টুডিওর নানা সন্দেহ ছিল। প্রথমত তারা রবার্ট প্যাটিনসনকে নিয়ে সন্দিহান ছিল। তাকে ভ্যাম্পায়ার চরিত্রে ভালো লাগবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। বিষয়টি নিয়ে ক্যাথরিন ইতিবাচক ছিলেন। এরপর তারা বলেছিল, সিনেমাটি ওপেনিংয়ে কোনোমতে ৩ কোটি ডলার তুললেই তারা খুশি। টোয়াইলাইট এর দ্বিগুণ আয় করেছিল।
কিন্তু এত কিছুর পরও কাপকেক দেয়া হয়েছিল। এতেই শেষ নয়। টোয়াইলাইটের সিকুয়াল নির্মাণ করতে পারেননি তিনি। ‘টোয়াইলাইট: নিউ মুন’ পরিচালনা করেন ক্রিস উইটজ। এরপর ক্যাথরিন নির্মাণ করেছিলেন ‘রেড রাইডিং হুড’। সেখানেও উপযুক্ত সম্মান পাননি ক্যাথরিন। তিনি বলেন, ‘বাজেট ছিল টোয়াইলাইটের চেয়ে অনেক কম। আমরা কোনো বাস্তব লোকেশনে শুট করতে পারিনি। সেট বানাতে হয়েছিল। সিনেমা নির্মাণে আমাকে স্বাধীনতা দেয়া হয়নি।’
সূত্র: ভ্যারাইটি










