আগামীকাল খুফিয়া মুক্তি পাচ্ছে। ওয়েব ফিল্মটির ট্রেলার প্রকাশের পর কেমন সাড়া পেয়েছেন?
দর্শকের কাছ থেকে খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। এছাড়া আমার কাছের মানুষ যারা আমার কলিগ, ফ্রেন্ড অ্যান্ড ফ্যামিলির সবাই অনেক এক্সাইটেড খুফিয়া নিয়ে। আর যারা আমার ভক্ত, তারাও ট্রেলারটা শেয়ার করছেন। সব মিলিয়ে আসলে ভালো লাগছে।
খুফিয়ায়
আপনার চরিত্র নিয়ে বলা যাবে?
আর তো মাত্র একদিন খুফিয়া আসার। খুব ছোট একটা ক্যারেক্টার করেছি আমি। খুফিয়া মুক্তির পরই বিস্তারিত বোঝা যাবে। এখন এ নিয়ে কিছু না বলি। তবে এটা বলে রাখি, আমি খুফিয়ায় বাংলাদেশী এক মেয়ের চরিত্র করেছি। এ জন্যই তারা বাংলাদেশ থেকে অভিনেত্রী খুঁজেছেন এবং নিয়েছেন।
বিশাল ভরদ্বাজের মতো নির্মাতার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
প্রথম যখন আমাকে কাস্ট করা হয়েছে, তখন থেকেই আমি খুব এক্সাইটেড ছিলাম। উনার মতো একজন নির্মাতা আমার অডিশন দেখবে, এ নিয়েই আমার ভেতর অনেক এক্সাইটমেন্ট কাজ করেছে। আর তারপর আমার অডিশন দেখার পর তিনি আমাকে সিলেক্ট করেছেন। তার মতো একজন নির্মাতার সঙ্গে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আমি মনে করি, এটা আমার জীবনের অনেক বড় অর্জন। আমি অনেক কিছু শিখেছি খুফিয়া করতে গিয়ে। এটা বলা দরকার যে বিশাল ভরদ্বাজ অসাধারণ একজন মানুষ। আমি সৌভাগ্যবান। অনেক গুণী নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেছি। বিশাল ভরদ্বাজ নির্মাতা হিসেবে প্রচণ্ড আন্তরিক ও বিনয়ী মানুষ। বলা যায়, তিনি একজন মাটির সঙ্গে মিশে থাকা মানুষ।
বলিউডের তারকাদের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা হয়েছে আপনার। আমাদের দেশের সিনেমা নিয়ে তাদের ভাবনা কেমন?
কলকাতার অনেকেই আমাদের দেশের কাজ সম্পর্কে জানেন। অন্যদিকে বিশাল ভরদ্বাজ, অনুরাগ কাশ্যপ ও টাবুর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। অনুরাগ কাশ্যপ আমাদের দেশের কাজগুলো সম্পর্কে জানেন। আর বিশাল ভরদ্বাজের সঙ্গে আমার সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ নিয়েই অনেক কথা হয়েছে। যেহেতু এটা বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা, যেটা কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অফিশিয়ালি সিলেক্ট হয়েছিল। অন্যদিকে অনেক বছর ভারতের কোনো সিনেমা কানে সিলেক্ট হয়নি। এসব নিয়েই অনেক কথা হয়েছে। আর টাবু বাংলাদেশের চম্পা আপুকে চেনেন। তিনি চম্পা আপুর সঙ্গে কাজ করেছেন কলকাতার সিনেমায়। আসলে তারা সবাই আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি, আমাদের ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি, বিশ্ববাজার ও লোকাল মার্কেট নিয়ে জানেন, এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমার ভালো লেগেছে যে আমার সম্পর্কে জেনেই আমাকে খুফিয়ায় কাস্ট করা হয়েছে। আমার ফিল্ম রেহানা মরিয়ম নূর সম্পর্কে তারা জানেন ও দেখেছেন।
আন্তর্জাতিক ওটিটি ও দেশের ওটিটির মধ্যে কোনো পার্থক্য কি আপনার নজরে আসে?
ওটিটির সবচেয়ে ভালো বিষয় এ প্লাটফর্মগুলো দেশের বাইরেও দেখা যায়। এগুলোর কোনো সীমানা টানা নেই। আমাদের দেশের ওটিটি অনেক ভালো করছে। বাজেট অনেক বড় একটা বিষয়। নেটফ্লিক্সের সিরিজ বা ফিল্মের যে বাজেট থাকে, সেটা আমাদের দেশের ওটিটিতে থাকে না এটা ঠিক। আমার মনে হয়, এ বাজেট সবচেয়ে বড় পার্থক্য। আমাদের দেশের যারা নতুন, তাদের মধ্যে নিজে আমি ভীষণ আশাবাদী। কারণ তারা এ বাজেটে এমনকি টেকনিক্যালি কিছু বাধার মধ্যে থেকেও অনেক ভালো করছেন। আমি বিশ্বাস করি, তাদের চেষ্টায় বাজেট খুব একটা ইস্যু হবে না। তার প্রমাণ তো রেহানা মরিয়াম নূর করেছেই।
আপনার ফ্যাশন সেন্স নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। আপনার ফ্যাশন ভাবনা জানতে চাই।
ফ্যাশন নিয়ে এ ভাবনা একদিনে হয়নি। এটা অনেক দিনের চিন্তা ধারার ফসল। একেক সময় আমি একেক রকমের জিনিস এক্সপ্লোর করতে চাইতাম। তবে সময়ের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর বিষয় মাথায় থাকত। আমি জানি আমি কী করব। আমি যখন কানে গিয়েছি, এটা আমি ঠিক করে নিয়েছিলাম যে আমি জামদানি পরব আর এটায়ই আমি সবচেয়ে বেশি কনফিডেন্ট থাকব। আমি একটুও ঘাবড়িয়ে যাইনি। অবশ্য শুরুতে ভেবেছি যে সবাই এত দামি ব্র্যান্ডের ড্রেস পরবে, দামি জুয়েলারি নেবে, সেখানে আমি কী করব। ওই সময় রেহানা মরিয়াম নূরের পরিচালক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ বলেছিলেন, ‘বাঁধন তুমি কানে ড্রেস দেখাতে যাচ্ছ না। এ ফেস্টিভ্যালে বিশ্বের বাঘা বাঘা নির্মাতা ও তারকারা তাদের কাজ নিয়ে আসেন। এখানে সবচেয়ে বেশি খুশি হব তোমার কাজ নিয়ে যদি আলোচনা হয়। তুমি তোমার মতো করে যাবে, এখানে চাপের কিছু নেই।’ সত্যি বলতে যেদিন আমি জামদানি পরে কানের মঞ্চে হেঁটেছিলাম, অনেক উৎসাহ পেয়েছি। আমি মনে করি, ওই উৎসাহ আমাকে আরো সাহস দিয়েছে।
আমি দেশের ডিজাইনার, নারী উদ্যোক্তা ও আর্টিস্টদের সঙ্গে কাজ করব। এতে আমার ও তাদের চিন্তার ফিউশন করতে পারব।










