লাইভ অ্যাকশনে অসাধ্য সাধন হচ্ছে অনেকদিন ধরে। সাম্প্রতিক অসাধ্য সাধনের একটি উদাহরণ ডুন। ফ্র্যাংক হারবার্টের এ সাই-ফাই থেকে লাইভ অ্যাকশন নির্মাণ সম্ভব বলে অনেকে বিশ্বাসই করতেন না। কিন্তু দেনি ভিলেনোভ তা করে দেখিয়েছেন। এদিকে বৃহস্পতিবার থেকে নেটফ্লিক্সে স্ট্রিম হচ্ছে ওয়ান পিস। মাঙ্গা থেকে নির্মাণ করা হয়েছে লাইভ অ্যাকশন। ওয়ান পিসের লাইভ অ্যাকশন নির্মাণ সম্ভব, এটাও অনেকে মানতেন না। কেননা যে পরিস্থিতি ও অবস্থার বর্ণনা করা হয়েছে, তা লাইভ অ্যাকশনে দুরূহ। তবে আজকের দিনে ভিএফএক্স দিয়ে অনেক কিছুই সম্ভব। পাশাপাশি যদি বাজেট থাকে, তাহলেও সম্ভব অসাধ্য সাধন। তাই ওয়ান পিস নির্মাণের দায়িত্ব নিল নেটফ্লিক্স।
জাপানি মাঙ্গার নিজস্ব একটি ধারা আছে। সে ধারার জনপ্রিয়তম সিরিজ ‘ওয়ান পিস’। এর আগে মাঙ্গা থেকে অ্যানিমে নির্মাণ করা হয়েছিল। সেটি নিয়েও দর্শকদের নানা অভিযোগ ছিল। লাইভ অ্যাকশন নির্মাণের চিন্তা তাই করেননি কেউ। এইচিরো ওদার লেখা মাঙ্গা থেকে লাইভ অ্যাকশন নির্মাণের আগে তার কাছ থেকে অনুমতি নেয় নেটফ্লিক্স। সিরিজে ডি লুফির চরিত্রে অভিনয় করেছেন নবাগত ইনাকি গোদয়, নামির চরিত্রে এমিলি রাড ও ম্যাকেন্যু আছেন জোরোর চরিত্রে। জলদস্যুদের এ গল্পে নেটফ্লিক্স নিজের মতো কিছু বিষয় এনেছে, তবে এর জন্য তারা পেয়েছে ওদার শুভকামনা। নেটফ্লিক্সের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে ওদা লিখেছেন, ‘আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখতে হবে। কোনো কিছু খারাপ হলে তাকে আমরা ভালো বলতে পারি না। এটা ভালো, তবে আমরা আরো ভালো করতে পারি। ভক্তরা আমাকে বিশ্বাস করে। আমি তাদের মিথ্যা বলতে পারব না। তবে আমি বলব, আমরা বাস্তব জীবনের লুফিকে পেয়েছি। এটা দেখে আমি চমকে গেছি। ওয়ান পিস তার প্রতিটি ফ্রেমে যে অসাধারণ কাজ করেছে, তা আমাকে ছুঁয়ে গেছে।’
সিরিজটি নির্মাণ করেছেন স্টিভেন মেইডা ও ম্যাট ওয়েনস। তারা মাঙ্গা থেকে বেশি কিছু বদল করার চেষ্টা করেননি। মেইডা বলেন, ‘এমন একটি অসাধারণ ও প্রিয় সম্পদ থেকে কিছু অদলবদল করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ওদা স্যান (স্যান, জাপানি ভাষায় সম্মানসূচক সম্বোধন) যখন মাঙ্গা লিখেছিলেন, তখন আট পর্বের সিরিজের কথা তো ভাবেননি। তিনি তার নিজের মতো করে গল্প ও চরিত্র তৈরি করেছিলেন।’ ওদা তার কল্পনার চিত্রায়ণ করেছিলেন। সেটিকে অ্যানিমে আনা হয়েছিল এবং সেক্ষেত্রে অনেক কিছু তুলনামূলক সহজ ছিল। লাইভ অ্যাকশনে তা ছিল না। একশ অধ্যায়কে নির্মাতারা এনেছেন আট পর্বে। কিন্তু এর মধ্যেই রেখেছেন মূল গল্পের নির্যাস। ওদা ও ওয়ান পিসের প্রতি সৎ থাকার চেষ্টা করেছেন এরা দুজন।
ওয়ান পিস থেকে সিরিজ নির্মাণের চিন্তা নেটফ্লিক্স করেছিল ২০২০ সালে। তারা এরপর একটি টিম তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও কোরিয়ার নেটফ্লিক্স এক্সিকিউটিভরা এ সিরিজ নিয়ে মনপ্রাণ দিয়ে খাটতে শুরু করেন। মেইডা জানিয়েছেন, এ সিরিজের জন্য তারা শুট করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে। এটি আফ্রিকায় নেটফ্লিক্সের সবচেয়ে বড় শুটিং প্রকল্পের একটি এবং পুরো কাজের জন্য ওদার কাছ থেকে নিয়মমাফিক চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন তারা। এছাড়া পুরো প্রডাকশনের সময় কাজ করেছে বেশ কয়েকটি স্টুডিও।
ওয়ান পিস স্ট্রিম শুরু হওয়ার পর বেশির ভাগই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। বিশেষত মাঙ্গা থেকে যতটা সম্ভব সেরা কাজটিই করার চেষ্টা করেছেন নির্মাতারা, এমনই বলছেন দর্শক। মেইডা বলেন, ‘আমার বিশ্বাস সবচেয়ে সেরা কাজটাই আমরা করেছি। এক্ষেত্রে ওদা স্যানের কল্পনা ও তার সহযোগিতার মাধ্যমে কাজটা সুন্দরভাবে করা সম্ভব হয়েছে। বাজেট নিয়েও অভিযোগ নেই, কেননা সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় বাজেটই পেয়েছি।’ মেইডা আরো জানিয়েছেন, সিরিজের দ্বিতীয় সিজনের পরিকল্পনাও তার আছে। তবে তা নির্ভর করবে প্রথম সিজনের দর্শকের প্রতিক্রিয়ার ওপর।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে মাহমুদুর রহমান










