মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত অনেক গান ছিল মুক্তিবাহিনী ও দেশবাসীর উৎসাহ-উদ্দীপনা আর অনুপ্রেরণার সঙ্গী। অনুপ্রেরণামূলক এসব গণসংগীতের শিল্পী ও সুরকারদের একজন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক ও সংগীত পরিচালক সমর দাস। সমর দাসের সুরারোপিত গানের মধ্যে রয়েছে ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’,
‘নোঙর তোলো তোলো’,
‘ভেবো না গো মা’,
‘কাঁদো বাঙালি কাঁদো’
ইত্যাদি।
আজ সমর দাসের জন্মদিন। তিনি ১৯২৯ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের এক সংগীতপ্রেমী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। লেখাপড়া করেন ঢাকার সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুল ও কলকাতার সেন্ট পল স্কুলে। ১৯৪৫ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তদানীন্তন অল ইন্ডিয়া রেডিওর ঢাকা কেন্দ্রে বাঁশি বাজানোর মধ্য দিয়ে সমর দাসের সংগীত জীবনের সূচনা। ১৯৬১ সালে ঢাকা বেতার কেন্দ্রে সংগীত পরিচালক হিসেবে যোগ দেন।
চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালক হিসেবেও একসময় তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ২৬টি গান নিয়ে কলকাতার এইচএমডি কোম্পানি ১৯৭২ সালে ‘বাংলাদেশের হূদয় হতে’
নামে একটি লংপ্লে রেকর্ড প্রকাশ করে। সমর দাস ছিলেন এ রেকর্ডের সংগীত পরিচালক। ১৯৫০ সালে কলকাতার বাংলা ছবি লটারির অন্যতম সংগীত পরিচালক ছিলেন তিনি। এছাড়া মুখ ও মুখোশ, জিঘাংসা ছবির সংগীত পরিচালনা করেন। তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের দুই হাজারেরও বেশি গানের সুরকার। ১৯৯৩ সালে ঢাকায় সাফ গেমসের সূচনা ও সমাপনী সংগীতের রচয়িতা তিনি।
শিল্পচর্চায় অসাধারণ অবদানের জন্য ১৯৭৯ সালে দেশের ‘সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার’ হিসেবে পরিচিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ দেয়া হয় সমর দাসকে। একুশে পদকসহ আরো অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। তিনি মারা যান ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর।










