বিমল রায় পরিচালিত সিনেমা দো বিঘা জমিন। সিনেমাটি ১৯৫৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল। এবারের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে। কিংবদন্তি পরিচালক বিমল রায়ের ১১৬তম জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে মিল রেখে এ আয়োজন ও প্রিমিয়ারের ঘোষণা হয়েছে। ভারতীয় সিনেমার সোনালি যুগের অন্যতম পথপ্রদর্শক বিমল রায়ের এ কালজয়ী সিনেমাটি সম্প্রতি পুনরুদ্ধার ও সংস্কার করা হয়েছে। এবার ভেনিসে সিনেমাটির ফোর কে সংস্করণটি প্রদর্শিত হবে।
ভেনিসে সিনেমাটি উপস্থাপন করবেন বিমল রায়ের পরিবারের সদস্যরা। থাকবেন তার কন্যা রিংকি রায় ভট্টাচার্য ও অপরাজিতা রায় সিনহা এবং পুত্র জয় বিমল রায় ও ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের পরিচালক শিবেন্দ্র সিং দুঙ্গাররপুর।
দো বিঘা জমিনের গল্প রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাংলা কবিতা দুই বিঘা জমি ও সংগীত পরিচালক সলিল চৌধুরীর লেখা ছোটগল্প রিকশাওয়ালার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এটি ভারতীয় প্যারালাল সিনেমার প্রাথমিক যুগের অন্যতম পথপ্রদর্শক ছবি হিসেবে বিবেচিত হয়।
ছবির কাহিনী এক দরিদ্র কৃষক শম্ভু মাহাতোকে ঘিরে আবর্তিত। সে তার স্ত্রী পার্বতী, ছেলে কানহাইয়া ও বাবা গঙ্গুকে নিয়ে গ্রামে বসবাস করেন। তার সামান্য জমির ওপর লোভ আছে স্থানীয় জমিদার ঠাকুর হরনাম সিংহের। সে শম্ভুর কাছ থেকে তার জমি কেড়ে নিতে চায়। অজুহাত, শম্ভু এক সময় তার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিল। ঋণের ২৩৫ টাকা শোধ করতে শম্ভু বাড়ির জিনিসপত্র এবং স্ত্রীর সোনার কানের দুল পর্যন্ত বিক্রি করে কলকাতায় (তৎকালীন ক্যালকাটা) কাজ খুঁজতে যায়।
বিমল রায় পরিচালিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন বলরাজ সাহনি, নিরূপা রায়, রতন কুমার, মুরাদ, নানু পালসিকার, নাসির হুসেন, রাজলক্ষ্মী, নূরজাহান, নাজির হুসেন, রেখা, মিশ্র, চিত্রা, জগদীপ ও তিওয়ারি।
সিনেমাটি ৭২ বছরের পুরনো এবং সে কারণেই রিল নষ্ট হয়ে গেছে। বেশকিছু দৃশ্য স্পষ্ট ছিল না। কিন্তু ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে দো বিঘা জমিন গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই সিনেমাটি সংষ্কার করে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং কাজটি করেছে ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশন।
দো বিঘা জমিনের উদ্ধার ও সংস্কারের পুরো প্রক্রিয়াটি তিন বছর ধরে চলেছে। এর সূচনা হয় ২০২২ সালে। এটি তিনটি প্রতিষ্ঠান—নন-প্রফিট সংস্থা ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, দ্য ক্রাইটেরিয়ন কালেকশন ও জানুস ফিল্মসের—যৌথ উদ্যোগে সম্ভব হয়েছে।
দো বিঘা জমিন ছিল প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্র, যা ১৯৫৪ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিস ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার জিতে নেয়। এটি কার্লোভি ভ্যারির আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও সম্মানিত হয় এবং ভারতে প্রথম ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডসে সেরা চলচ্চিত্র ও সেরা পরিচালক পুরস্কার জেতে। বলরাজ সাহনিসহ পুরো কাস্টের অভিনয় এখনো ভারতের বহু অভিনেতার অবশ্যপাঠ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।










