বাংলাদেশ সরকার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য ২০২১-২২ অর্থবছরের সরকারি অনুদানের তালিকা প্রকাশ করেছে। গতকাল একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তালিকাটি প্রকাশ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এ বছর ১৯টি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও ছয়টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য যথাক্রমে ১২ কোটি ১৫ লাখ ও ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেয়া হয়। অনুদান পাওয়া পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দুটি এবং সাধারণ শাখায় রয়েছে ১৭টি সিনেমা। এবার সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছে মাহজাবিন রেজা চৌধুরীর ‘১৯৬৯’ সিনেমাটি, যা পরিচালনা করবেন অমিতাভ রেজা চৌধুরী।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শাখায় ৬০ লাখ টাকা অনুদান পাচ্ছে প্রযোজক ও পরিচালক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম খন্দকারের ‘জয় বাংলা ধ্বনি’। একই শাখায় ৬০ লাখ টাকা অনুদানের জন্য নির্বাচিত হয়েছে প্রযোজক ও পরিচালক রফিকুল আনোয়ার রাসেলের ‘একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা’ নামের সিনেমাটি। এছাড়া সাধারণ শাখায় ৬৫ লাখ টাকা পাচ্ছেন প্রযোজক ও পরিচালক রিফাত মোস্তফা। তার সিনেমার নাম যুদ্ধজীবন। ‘যাপিত জীবন’ নামে একটি সিনেমার জন্য প্রযোজক ও পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিব পাচ্ছেন ৬০ লাখ টাকা। ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ সিনেমার পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পাচ্ছেন ৭০ লাখ টাকা। তালিকায় আসা তার প্রযোজিত ও পরিচালিত সিনেমার নাম ‘বনলতা সেন’। ‘অতঃপর রোকেয়া’ নামের একটি সিনেমার জন্য প্রযোজক ও পরিচালক মিস শামীম আখতার পাচ্ছেন ৬০ লাখ টাকা।

প্রযোজক ও পরিচালক মারুফা আক্তার পপি পাচ্ছেন ৭০ লাখ টাকা। তার প্রস্তাবিত সিনেমার নাম ‘বঙ্গবন্ধুর রেণু’। ‘ডোডো’র গল্প নামে একটি সিনেমা পাচ্ছে ৬০ লাখ টাকা। এ সিনেমার প্রযোজক নাজমুল হক ভুঁইয়া, পরিচালক রেজা ঘটক। ‘বকুল কথা’ সিনেমাটি পাচ্ছে ৭০ লাখ টাকা। এ সিনেমার প্রযোজক সঞ্জিত কুমার সরকার। যৌথভাবে পরিচালনা করবেন মাসুদ মহিউদ্দিন ও মাহমুদুল হাসান শিকদার। প্রযোজক ও পরিচালক কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া পাচ্ছেন ৬০ লাখ টাকা ‘আর্জি’ সিনেমার জন্য। প্রযোজক ও পরিচালক সৈয়দ আলী হায়দার রিজভী পাবেন ৭০ লাখ টাকা। এ টাকা পাবেন ‘এইতো জীবন’ নামে একটি সিনেমার জন্য। ‘আহারে জীবন’ মনোনীত হয়েছে অনুদানের জন্য। সিনেমাটির প্রযোজক ও পরিচালক সৈয়দ উদ্দিন আহমেদ ওরফে ছটকু আহমেদ। তিনি পাবেন ৬০ লাখ টাকা। একই পরিমাণ অর্থ পাবে ‘অন্তরখোলা’ সিনেমা। এর প্রযোজক সারা যাকের, পরিচালক রতন কুমার পাল। প্রযোজক ও পরিচালক সরোয়ার তমিজউদ্দিনকে ৬০ লাখ টাকা দেয়া হবে ‘ভাষার জন্য মমতাজ’ সিনেমার জন্য। বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস প্রযোজক হিসেবে নাম লিখিয়েছেন অনুদানের খাতায়। তার সিনেমার নাম ‘লাল শাড়ি’। সিনেমাটি পাবে ৬৫ লাখ টাকা। এটি পরিচালনা করবেন বন্ধন বিশ্বাস। জনপ্রিয় নির্মাতা ও অভিনেতা শরাফ আহমেদ জীবনের একটি সিনেমা পাচ্ছে অনুদান। সিনেমার নাম ‘বিচারালয়’। ৬৫ লাখ টাকা পাবেন তিনি। সিনেমাটির প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে রয়েছে জীবনের নাম। এবার বুঝি অপু বিশ্বাসের পথেই হাঁটলেন বাংলা সিনেমার কিং খানখ্যাত শাকিব খান। তিনি প্রযোজক হিসেবে একটি সিনেমা জমা দিয়েছিলেন। ‘মায়া’ নামের এ সিনেমা পাচ্ছে ৬৫ লাখ টাকা। মায়া পরিচালনা করবেন হিমেল আশরাফ। ‘মুক্তির ছোট গল্প’ নামে একটি সিনেমা পাবে ৬০ লাখ টাকা। এর প্রযোজক মো. দৌলত হোসাইন। সিনেমাটি যৌথভাবে পরিচালনা করবেন মাসউদ যাকারিয়া চৌধুরী ও আব্দুস সামাদ খোকন।

এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়—স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মানবীয় মূল্যবোধসম্পন্ন জীবনমুখী, রুচিশীল ও শিল্পমানসমৃদ্ধ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ‘স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি’র সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ছয়টি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমাকে অনুদানের জন্য বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি চলচ্চিত্রকে ২০ লাখ টাকা করে এবং দুটি চলচ্চিত্রকে ১৮ লাখ টাকা করে অনুদানের জন্য ঘোষণা দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র দুটি ও বাকি তিনটিকে সাধারণ শাখায় অনুদান দেয়া হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘একটি ভোরের অপেক্ষায়’-এর প্রযোজক ও পরিচালক দীপান্বিতা ইতি। লোকনাট্য ও ধামের গানের উপরে প্রামাণ্যচিত্রের জন্য প্রযোজক ও পরিচালক বিপ্লব কুমার পাল বিপু পাচ্ছেন অনুদান। ‘জল তরঙ্গের গান’ নামে আরেকটি প্রামাণ্যচিত্র অনুদানের জন্য বিবেচিত হয়েছে। যার প্রযোজক ও পরিচালক তাহরিমা খান। সাধারণ শাখায় ‘অ্যাথলেট সুলতানা কামাল’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে। এর প্রযোজক নেহরিন মোস্তফা, পরিচালক মো. রিয়াজুল হক। সাধারণ শাখায় ‘বাকিটা ইতিহাস’ ও ‘বামাদেশ’ নামে দুটি চলচ্চিত্রের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাকিটা ইতিহাসের প্রযোজক শুভ কুমার পাল, পরিচালক উম্মে সালমা ঊষা। বামাদেশের প্রযোজক ও পরিচালক রাওয়ান সায়েমা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণের লক্ষ্যে ১৯৭৬-৭৭ সাল থেকে চলচ্চিত্রে অনুদানের প্রথা চালু করে। মাঝখানে বন্ধ থাকলেও ২০০৭-০৮ অর্থবছর থেকে নিয়মিতভাবেই অনুদান দেয়া হচ্ছে। চলচ্চিত্র অনুদান নীতিমালায় বলা আছে, অনুদানের প্রথম চেক প্রাপ্তির নয় মাসের মধ্যে ছবির কাজ শেষ করতে হবে। তবে বিশেষ অবস্থায় অনুরোধ সাপেক্ষে পরিচালক ওই সময় বৃদ্ধি করতে পারেন।