সিনেমার বাজেট নিয়ে ভুল ধারণা আছে অনেকের মধ্যেই। অনেকে মনে করেন সিনেমা নির্মাণে সেট, লোকেশন, ভ্রমণ ও অন্যান্য কাজে বেশির ভাগ অর্থ খরচ হয়। কিন্তু করণ জোহর জানাচ্ছেন, বলিউডে বেশির ভাগ অর্থই আসলে খরচ হয় অভিনেতাদের পারিশ্রমিকে। তার মতে, এ রকম ঘটনা ঘটা উচিত নয়। সম্প্রতি মাস্টার্স ইউনিয়ন পডকাস্টে করণ জোহর এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এ সময়ের অনেক অভিনেতা বেশ বড় অংকের পারিশ্রমিক দাবি করেন। ব্যাপারটি অযৌক্তিক।
করণ বলেন, ‘অর্থের (বাজেট) মূল অংশটি সিনেমার তারকারদের হাতে চলে যায়। এটা হওয়া উচিত নয়। একজন বড় পরিচালক ও তারকার ক্ষেত্রেই যদি বলি, সেক্ষেত্রে বাজেটের ৫০ শতাংশ পায় তারকা ও ৩০ শতাংশ পরিচালক। চিত্রনাট্যকার বা গল্পকার সামান্য অর্থই লাভ করেন। প্রযোজকের লাভের হিসাব আসে সবার পরে।’
এ সময়ে ফ্লপ বা সিনেমা ভালো না করলেও উঠতি তারকারা পারিশ্রমিক কমাতে চান না। অথচ আগের দিনের ‘স্টারডম’ও এখন আর নেই। করণ স্পষ্ট করেই বলেছেন যে এখনকার তারকারা অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির বা অক্ষয়ের মতো তারকাখ্যাতি উপভোগ করতে পারবেন না। তারকাদের দিন আসলে শেষ। অক্ষয়-অজয়দের তিনি ‘লাস্ট অব দ্য মোহিকানস’ বলে সম্বোধন করেন।
করণ আরো বিস্তারে গিয়ে বলেন, ‘জনপ্রিয়তা আর তারকাখ্যাতি দুটো ভিন্ন বিষয়। কেউ ইউটিউবে কনটেন্ট তৈরি করেও জনপ্রিয় হতে পারে। কিন্তু সে কি তারকা? তাদের জন্য কি সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করবে? বিষয়টি আর কখনো ঘটবে না।’
পুরো বিষয়টা কোনো না কোনোভাবে বাণিজ্য ও পারিশ্রমিকের সঙ্গে যুক্ত। এর ওপর প্রভাবও ফেলে। পারিশ্রমিক বা লভ্যাংশ ভাগাভাগির ক্ষেত্রে দুটো বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। সুপারস্টার ও নন-সুপারস্টার। করণের ভাষায়, ‘সিনেমায় সুপারস্টার থাকলে মূল বাজেটের ৬০-৭০ শতাংশ তাদের ভাগেই যায়। সুপারস্টার না হলে অভিনেতা ২০-৩০ শতাংশ পান এবং বাজেটের বাকি অংশ থেকে পরিচালক (যদি বড় মাপের হন) সিংহভাগ, তারপর গল্পকার, টেকনিশিয়ানদের প্রাপ্য নির্ধারণ করা হয়।’
নিজে প্রযোজক হওয়ায় করণ জোহর সিনেমার ব্যবসা ও খরচের পুরো ব্যাপারটি ভেতর থেকে জানেন। তিনি দেখেছেন একজন প্রযোজক তার সিনেমার পরিবেশকদের সঙ্গে যতটা সহজে আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে দরকষাকষি করতে পারেন, অভিনেতাদের সঙ্গে তা পারেন না। তার মতে, স্টারডম ও তারকাখ্যাতি নিয়ে অভিনেতা এমনকি পরিচালক-প্রযোজকরাও এক ধরনের বিভ্রমে ভোগে। তারা মনে করেন সিংহভাগ অর্থই তাদের প্রাপ্য। এ ধরনের বদ্ধমূল ধারণার কারণে পরিস্থিতিও বদলাচ্ছে না।
সুসম্পর্ক রক্ষা করাও একটি অন্যতম বিষয়। করণ বলেন, ‘আপনি চাইবেন না কেউ মনঃক্ষুণ্ন হন। তারকাখ্যাতি অভিনেতাদের মধ্যে বিভ্রম তৈরি করে। তাদের মধ্যে এক ধরনের সূক্ষ্ম অহংকার তৈরি হয়।’ এসব ক্ষেত্রে দরকষাকষি হলে পরিচালক বা প্রযোজকের সঙ্গে তারকা বা অভিনেতার সম্পর্কে ভাঙন ধরে। তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিষয়গুলো এড়ানোর চেষ্টাই করা হয়।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










