অক্ষয় কুমার নামটি একসময় ছিল ব্যবসাসফল সিনেমার সমার্থক। নব্বইয়ের দশকের এই অ্যাকশন হিরো গত দশক এবং তার আগের দশকে একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তার নামই হয়ে দাঁড়িয়েছিল ‘‌হিট মেশিন’। কিন্তু অক্ষয়ের গত দুই বছরের কোনো সিনেমাই বক্স অফিসে দাঁড়াতে পারেনি। প্রতিটি সিনেমাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফ্লপের পাশাপাশি তার সিনেমা নিয়ে হয়েছে সমালোচনা ও ট্রল। বিশেষত সম্রাট পৃথ্বীরাজ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যঙ্গ করেছে দর্শক। এবার এসব ফ্লপ নিয়ে মুখ খুললেন অক্ষয়। বললেন, এসবের পেছনে তার নিজেরও ত্রুটি আছে। নিজেকে বদলানোর সময় এসেছে। তবে এ নিয়ে তিনি খুব চিন্তিত নন।

সম্প্রতি আজ তাকের সঙ্গে কথা বলেছেন অক্ষয়। পরপর চারটি ফ্লপের কথা তাকে স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেন, ‘‌আমার সঙ্গে বিষয়টি প্রথমবারের মতো হলো না। ক্যারিয়ারের একটা সময় টানা ১৬টি সিনেমাও ফ্লপ গেছে আমার। এরপর টানা আটটি সিনেমা ফ্লপ করেছে একসময়। এখন হয়তো তিন কি চারটি সিনেমা ফ্লপ করল। আমার মনে হয় এটা নিজের দোষেই হয়। দর্শকের চাহিদা, পছন্দ বদলে গেছে। আপনাকেও বদলাতে হবে। আপনাকে নতুন করে শুরু করতে হবে কেননা দর্শক অন্য কিছু চায়।’

অক্ষয়ের সাম্প্রতিক চারটি সিনেমার দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, গত বছর মার্চে মুক্তি পাওয়া বচ্চন পাণ্ডে ১৮০ কোটি রুপিতে নির্মিত হয়েছিল। সিনেমাটি আয় করে মাত্র ৭৩ কোটি রুপি। প্রায় সমপরিমাণ বাজেটে নির্মিত হয়েছিল সম্রাট পৃথ্বীরাজ। সিনেমাটির বক্স অফিস আয় ৯০ কোটি রুপির কিছু বেশি। সে হিসাবে ভালো করেছে আনন্দ এল রাইয়ের রক্ষা বন্ধন। সিনেমাটি ৭০ কোটি রুপিতে নির্মিত এবং আয় করেছে ৬২ কোটি রুপি। অক্ষয়ের ‘‌স্বপ্নের প্রজেক্ট’ ছিল রাম সেতু। অভিষেক শর্মা পরিচালিত সিনেমাটির বাজেট ছিল ১৫০ কোটি রুপি। বক্স অফিসে আয় করেছে ৯৩ কোটি রুপির কাছাকাছি। অর্থাৎ কোনো সিনেমাই এর খরচ তুলতে পারেনি। সর্বশেষ ভরাডু্বি হয়েছে সেলফির। সিনেমাটি নিয়ে তুমুল প্রচারণা করেছেন অক্ষয়। কিন্তু কোনোভাবেই বাঁচানো গেল না। মুক্তির তিনদিনে আয় করেছে মাত্র ৮ কোটি রুপি। এর লাইফটাইম আয় ৫০ কোটি ছাড়াবে না বলে মনে করেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা। অক্ষয়ের সাম্প্রতিক ক্যারিয়ারে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে বড় ফ্লপ।

অক্ষয় নিজেও জানেন সিনেমা নির্বাচনে ভুল হচ্ছে তার। তিনি বলেন, ‘‌এটি একটি নির্দেশনা যে আপনার সিনেমা চলছে না। আপনার সিনেমার ধারা বদলাতে হবে। আমি চেষ্টা করছি বদলানোর। আমি এটুকুই করতে পারি।’ সেলফির প্রচারণার জন্য দর্শক-ভক্তদের সঙ্গে সেলফি তুলে গিনেস বুকে রেকর্ডও করেছেন অক্ষয়। তবু তারা হলমুখী হয়নি। এজন্য অবশ্য দর্শকদের দোষারোপ করেন না তিনি। অক্ষয় বলেন, ‘‌সিনেমা ভালো না করার দায় কখনই দর্শকের নয়।’

অক্ষয়ের সিনেমার দুরবস্থা শুরু হয়েছিল কভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে। এরপর তার বেলবটম মুক্তি পায়। সিনেমাটি ভালোই করেছিল। রোহিত শেঠির পুলিশ ইউনিভার্সের ‘‌সূর্যবংশী’ও ভালো ব্যবসা করে। এর পরই ভরাডু্বি। অক্ষয় তাই সত্যিই তার সিনেমার ধারা বদল করছেন। সম্প্রতি শুরু হয়েছে হেরা ফেরি থ্রির শুটিং। অক্ষয় তার চেনা ধারায় ফিরছেন। হাতে আছে আওয়ারা পাগল দিওয়ানা, হাউসফুলের সিকুয়াল। এবার হয়তো ফ্লপ মেশিন থেকে ফের হিট মেশিন হবেন খিলাড়ি।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস