খুব বেশি দিন হয়নি। ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের বুদ্ধিবৃত্তিক সত্ত্বের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে অ্যামাজন। স্বাভাবিকভাবেই গুঞ্জন উঠেছে, পরবর্তী জেমস বন্ড হিসেবে অনেক অভিনেতার নাম শোনা যাচ্ছে। যদিও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। তবে নতুন এক সূচনার ইঙ্গিত দিয়েছে অ্যামাজন এমজিএম। অ্যামাজনের ফিল্ম স্ট্রিমিং বিভাগের প্রধান কোর্টনি ভ্যালেটি ও বৈশ্বিক মার্কেটিং প্রধান সু ক্রল সম্প্রতি প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা জেমস বন্ডের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ন রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা একটা সতেজ ও চমৎকার অধ্যায় যুক্ত করতে চাই ভক্তদের জন্য।’

প্রযোজক আলবার্ট ব্রকলি ১৯৫৯ সালে পরিকল্পনা হাতে নেন জেমস বন্ডকে উপন্যাস থেকে সিনেমার পর্দায় হাজির করতে। তারপর গত ছয় দশক জেমস বন্ডের স্বত্ত্ব ব্রকলি পরিবারের হাতেই রয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রযোজক মাইকেল জি উইলসন ও বারবারা ব্রকলি ঘোষণা করেন, তারা জেমস বন্ড থেকে সরে যাচ্ছেন। যদিও পরবর্তী সময়ে ফ্র্যাঞ্চাইজির বুদ্ধিবৃত্তিক স্বত্ত্বের মালিকানা নিয়ে একটা চুক্তি হয় অ্যামাজনের সঙ্গে। চুক্তি অনুসারে, বারবারা ব্রকলি ও মাইকেল উইলসনের সঙ্গে জেমস বন্ডের মালিকানায় যুক্ত হয়েছে অ্যামাজন। অর্থাৎ তিনটি পক্ষই এখন বন্ড ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক। সেক্ষেত্রে সিনেমার ডিজাইন, চরিত্রের পোশাক-আশাক থেকে শুরু করে বড় একটা অংশ নির্ধারণ করবে অ্যামাজন।

গত সপ্তাহে জেমস বন্ডের প্রযোজক হিসেবে অ্যামি প্যাসকেল ও ডেভিড হেইম্যান যুক্ত হওয়ার খবর প্রকাশ হয়। নতুন মাত্রা যোগ করার জন্যই হলিউডের এ দুই মহারথীকে বাছাই করা হয়েছে। ‘হ্যারি পটার’ সিরিজ প্রযোজনার জন্য বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন হেইম্যান। অন্যদিকে ‘স্পাইডারম্যান’-এর প্রযোজনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অ্যামি প্যাসকেলের নাম। ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি সনি ফিল্ম ডিভিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। প্যাসকেল ও হেইম্যান তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘জেমস বন্ড বৈশ্বিক সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর একটি। আমরা বারবারা ব্রকলি ও মাইকেল উইলসনের সৃষ্টিশীলতার ধারাবাহিকতায় যুক্ত হতে পেরে কৃতজ্ঞতা বোধ করছি। তারা অবিশ্বাস্য সব সিনেমা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন। জীবন্ত করে রেখেছেন বন্ডের চেতনাকে। যেন জেমস বন্ড তার পরবর্তী অ্যাডভেঞ্চারের জন্য সবসময় প্রস্তুত।’

২০২১ সালে ৮৫০ কোটি ডলারে এমজিএম স্টুডিও অধিগ্রহণ করে অ্যামাজন। এ অধিগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জেমস বন্ডের সব সিনেমা বিপনণের অধিকার লাভ করে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সিনেমা বিশ্লেষকরা। কারণ প্যাসকেল ও হেইম্যানের যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে সিনেমা সম্পর্কিত আগের অনেক ধারণাই বদলে যেতে পারে। ডেনিয়েল ক্রেইগকে পঞ্চম ও শেষবার দেখা যায় ‘নো টাইম টু ডাই’ সিনেমায়। সে সময় পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গণমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছিল। নতুন কোনো অভিনেতা জেমস বন্ড হবেন। যাকেই আনা হোক, একটা চমক থাকবে বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে অ্যামাজন।

সূত্র ও ছবি: ভ্যারাইটি