আশঙ্কা ছিল না, তা নয়। তার পরও ট্রাম্পের শুল্কনীতি চমকে দিয়েছে বিশ্বকে। চীনের জন্য বার্তাটা ছিল বেশি কড়া। দেশটির পণ্যে ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এর ঠিক পর পরই নতুন ঘোষণা এসেছে চীন থেকে। দেশটি হলিউডের চলচ্চিত্র আমদানি আরো কমিয়ে দেবে। চায়না ফিল্ম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্প্রতি এক বিবৃতিতে লিখেছে, ‘চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এমন ভুল কাজগুলো অনিবার্যভাবে আমাদের দর্শকের মধ্যে আমেরিকান সিনেমার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেবে। আমরা বাজারের নিয়মকেই অনুসরণ করব। দর্শকের আগ্রহকে সম্মান করব। আমেরিকা থেকে সিনেমা আমদানির হার কমিয়ে দেব।’

চীনের পদক্ষেপকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শিনহুয়া নিউজ এজেন্সির জ্যেষ্ঠ সম্পাদক লিউ হং জানিয়েছেন, এ ঘোষণা মূলত একটা প্রস্তাব। এটা আগামী দিনগুলোয় হলিউড সিনেমা আমদানি বিপুল পরিমাণে কমানোর ইঙ্গিত দেয়। সেটা হলে হলিউডের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা অপেক্ষা করছে আগামী দিনগুলোয়; তার লক্ষণও প্রকাশ হতে শুরু করেছে। এ ঘোষণার পর থেকেই কমতে শুরু করেছে ওয়াল্ট ডিজনি, প্যারামাউন্ট গ্লোবাল ও ওয়ার্নার ব্রুস ডিসকভারির শেয়ারদর।

যুক্তরাষ্ট্রের পর চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ চলচ্চিত্রের বাজার। গত সপ্তাহে মুক্তি পায় ওয়ার্নার ব্রুসের ব্যানারে নির্মিত ‘আ মাইনক্রাফট মুভি’। সিনেমাটি চীনের বক্স অফিস থেকে আয় করেছে ১ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, যা বৈশ্বিক আয়ের ১০ শতাংশ। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা ‘গডজিলা ভার্সেস কং: দ্য নিউ এম্পায়ার’ চীন থেকে আয় করে ১৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। চীনের নতুন নীতি এ পরিসংখ্যানকে অনিবার্যভাবে প্রভাবিত করবে।

প্রথম হলিউড সিনেমা চীনে মুক্তি পায় ৩১ বছর আগে। প্রতি বছর নির্দিষ্টসংখ্যক সিনেমা মুক্তি দেয়া হয়। ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ৬০টি সিনেমা মুক্তি দেয়া হয়েছিল। তারপর থেকেই মুক্তির হার কমছে। তার বড় একটা কারণ বাণিজ্য যুদ্ধ। অবশ্য এ সুযোগে চীনের নিজস্ব সিনেমা শিল্পও শক্তিশালী হচ্ছে। সম্প্রতি চীনা উপকথা থেকে নির্মিত অ্যানিমেটেড সিনেমা ‘নে ঝা টু’ মুক্তি পায়। কেবল অভ্যন্তরীণ বাজারেই সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ১৮০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আয় ২ কোটি ডলার। এমন অপ্রত্যাশিত আকাশচুম্বী সফলতা সিনেমাটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি আয় করা অ্যানিমেটেড সিনেমায় পরিণত করেছে। এটাই প্রথম অ্যানিমেটেড সিনেমা, যা ২০০ কোটি ডলার আয় করেছে। চীন তার ঘরোয়া বাজারে এমন ব্যবসাসফল সিনেমা আগে দেখেনি।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০২৫ সালে হলিউড সিনেমার বড় অংশ চীনের বাজারের ওপর নির্ভর করবে। ‘মিশন ইমপসিবল: দ্য ফাইনাল রেকনিং’, ‘সুপারম্যান’, ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড রিবার্থ’ ও ‘অ্যাবাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ সিনেমাগুলো নিয়ে চীনের কথা মাথায় রাখা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হলিউড নিয়ে চীনের সংকোচন নীতি মার্কিন সিনেমার জন্য বড়সড় ধাক্কায় পরিণত হবে।

সূত্র: গার্ডিয়ান