সোহানুর রহমান সোহান চলে গেলেন। কিন্তু সিনেমায় নিজের ছাপ তিনি ঠিকই রেখে গেছেন। সিনেমায় তিনি তৈরি করেছিলেন নিজস্ব ধারা। এছাড়া তিনি নিয়ে এসেছিলেন এমন কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রীকে, যারা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন। একজন পরিচালকের কেবল সিনেমা নির্মাণ ও মুক্তি দেয়াই কাজ নয়। তিনি নতুন মুখ খুঁজে বের করেন। এক্ষেত্রে সোহানুর রহমান সোহান ছিলেন অগ্রণী। তিনিই বাংলা সিনেমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন মৌসুমি, সালমান শাহ, ইরিন জামানকে। শাকিব খানের প্রথম সিনেমাও সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত।
সোহানুর রহমান চলচ্চিত্র পরিচালনায় তার ক্যারিয়ার শুরু করেন নির্মাতা শিবলি সাদিকের সহকারী হিসেবে। সোহান পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘বিশ্বাস অবিশ্বাস’ মুক্তি পায় ১৯৮৮ সালে। সিনেমায় সোহানুর রহমান নিজস্ব ধারা নিয়ে এসেছিলেন। বাংলাদেশী সিনেমায় রোমান্সে তার অবদান রয়েছে। সোহানুর রহমান পরিচালিত জনপ্রিয়তম সিনেমা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া এ সিনেমার প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মৌসুমি ও সালমান শাহ। সিনেমাটি ‘কায়ামত সে কায়মত তক’-এর অফিশিয়াল রিমেক। বাংলাদেশের সিনেমা পেয়েছিল নতুন এক নায়ক ও নায়িকাকে।
এরপর তিনি নির্মাণ করেছিলেন ‘আখেরি রাস্তা’, ‘বিদ্রোহী কন্যা’, ‘স্বজন’, ‘অনন্ত ভালোবাসা’। এর মধ্যে অনন্ত ভালোবাসা সিনেমার মধ্য দিয়ে রুপালি পর্দায় অভিষেক হয় শাকিব খানের। কেবল শাকিব খানই নন, এ সিনেমায় অভিষেক হয় ইরিন জামানেরও। তিনি মৌসুমির ছোট বোন। চিত্রনায়িকা পপির যাত্রাও সোহানুর রহমানের হাত ধরেই, ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ দিয়ে। তবে সোহানুর রহমানের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার বলা যায় শাকিব খান ও সালমান শাহ। সালমান শাহর স্টারডম তো সবারই জানা। আর শাকিব খান এখনো দাপটের সঙ্গে অভিনয় করছেন বাংলাদেশের সিনেমায়।
নির্মাতা সোহানুর রহমান অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। একটি অনুদানের সিনেমা নির্মাণে হাত দিয়েছিলেন, কিন্তু তা বাদ দিয়ে নিজের মতো সিনেমা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার জন্যও খুঁজছিলেন নতুন মুখ। সবসময়ই তিন নতুন মুখদের নিয়ে কাজ করতে চাইতেন, শেষ সময়েও চেয়েছিলেন। কিন্তু সে সুযোগ তার হয়নি। গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় না ফেরার দেশে চলে যান এ নির্মাতা। একদিন আগেই মারা গিয়েছিলেন তার স্ত্রী।
খ্যাতিমান এ পরিচালকের মৃত্যুতে চলচ্চিত্রাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গতকাল তার মৃত্যুর সংবাদ আসার পরই চলচ্চিত্রাঙ্গনের শিল্পী ও কলাকুশলীরা শোক জানাতে শুরু করেন। শাকিব খান লিখেছেন, ‘আমার এ শাকিব খান নামটি সোহান ভাইয়ের দেয়া। সত্যি কথা বলতে, তার সম্পর্কে কিছু বলার বা লেখার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। ভাবী এবং সোহান ভাইকে মহান আল্লাহ পরপারে শান্তিতে রাখুন।’










