অভিনয়ের ক্ষেত্রে কমেডিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলিউডের অন্যতম কমেডি আইকন হিসেবে। তিনি জনি লিভার। ভারতীয় সিনেমার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। আশির দশক থেকে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু। ১৯৯৩ সালে ‘বাজিগর’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথম বড় ধরনের সাফল্যের দেখা পান। এ পর্যন্ত ৩৫০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে গেছেন নিজেকে। দর্শককে দিয়েছেন নির্মল আনন্দের খোরাক। তবে বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রিতে তার মানের কমেডি অভিনেতার কদর নেই বলে জানান তিনি। ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থার কথা জানিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেন এ কমেডিয়ান। সম্প্রতি ই টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে কথা বলেন তিনি। 

পর্দায় তার উপস্থিতি কমে গেছে কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে জনি বলেন, ‘‌আমি কাজ কমিয়ে দিয়েছি। কারণ, এখনকার চিত্রনাট্যগুলো খুব দুর্বল হয়। বাজিগরের কথা ধরুন...সিনেমাটির কোনো লেখক ছিল না; আমিই ছিলাম সর্বেসর্বা। সবগুলো কমেডি পাঞ্চ আমিই তৈরি করেছিলাম। সময়টা চমৎকার ছিল। আমরা কঠোর পরিশ্রম করতাম। কিন্তু বর্তমানে আমাদের (কমেডি) লেখক নেই। ব্যাপারটি এমন দাঁড়িয়েছে, ‘‌‘‌জনি ভাই দেখে নেবে।’’ এভাবে কাজ করা যায় না। আমাদের প্রথমে একটি ব্লুপ্রিন্ট প্রয়োজন।’

জনি লিভার জানান, কমেডি দৃশ্যে তিনি যেভাবে সব আলো নিজের দিকে টেনে নিতেন, তা অন্য অভিনেতাদের আতঙ্কিত করে তুলত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌আগে কমেডিকে সম্মান দেয়া হতো। বর্তমানে সিনেমাগুলোয় কমেডি নেই বললেই চলে। আগে এতটাই ইতিবাচক সাড়া পেতাম যে সিনেমায় আমার দৃশ্যগুলো হাইলাইট হতো। অনেক সময় হিরোরা এটিকে নিজেদের জন্য হুমকি মনে করত এবং আমার দৃশ্যগুলো এডিট হতো। আমার অংশটুকুর প্রতি তারা দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখত এবং অনিরাপত্তায় ভুগত। তারা তাদের জন্যও কমেডি দৃশ্য তৈরি করার জন্য লেখকদের বলতে লাগল। লেখকেরা কমেডি দৃশ্যগুলো ভাগ করে দিতে শুরু করল, আর আমার চরিত্র ছোট থেকে আরো ছোট হতে লাগল, যা এখন আপনারা দেখছেন। সিনেমায় কমেডি হারিয়ে গেল। হিরো ও ভিলেন প্রত্যেকে এখন হাস্যরসাত্মক হয়ে উঠছে। আমার মতো কমেডিয়ানের আর প্রয়োজন নেই।’

তবে এখনো অল্প কয়েকজন পরিচালক তাদের সিনেমায় কমেডিকে যথাযথ মূল্যায়ন করেন বলে জানান জনি লিভার। এক্ষেত্রে তিনি রোহিত শেঠির নাম উল্লেখ করেন। ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া এ পরিচালকের ‘সার্কাস’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। 


সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস