অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও পা রেখেছেন কঙ্গনা রানাওয়াত। তিনি ২০২৪ সালে হিমাচল প্রদেশের মান্ডি লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা জানিয়েছেন, রাজনীতি আসলে ‘খুব ব্যয়বহুল শখ’। এ মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন সাংসদের দায়িত্ব তিনি উপভোগ করছেন না। এর কারণ মানুষ তার কাছে ‘পঞ্চায়েত স্তরের সমস্যা’ নিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা বলেন, ‘একজন সাংসদ হিসেবে আপনি খুব একটা অর্থ উপার্জন করতে পারেন না। তাই সংসার চালানোর জন্য অন্য একটি চাকরি বা পেশা থাকা প্রয়োজন।’
টাইমস নাউকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা বলেন, ‘আমি সবসময় বলি রাজনীতি একটি খুব ব্যয়বহুল শখ।’ শখ শব্দটি ব্যবহারের বিষয়ে তাকে ফিরতি প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এটি শখ। যদি আপনি একজন সাংসদ হন, আপনি এটিকে পেশা হিসেবে নিতে পারেন না। কারণ আপনার একটি চাকরি দরকার। কেননা সাংসদের বেতন খুব বেশি নয়। যদি আপনি একজন সৎ ব্যক্তি হন, তাহলে সাংসদ হয়ে বেশি উপার্জন করতে পারবেন না।’
কঙ্গনা যোগ করেন যে তিনি একজন সফল অভিনেত্রী ছিলেন এবং তার খরচ বেশি। তিনি বলেন, ‘আপনি যে বেতন পাবেন, সেটার হিসাব করলে বাবুর্চি আর ড্রাইভারের পেছনে খরচ করার পর বড়জোর ৫০-৬০ হাজার টাকা থাকবে। একজন সাংসদ হিসেবে সেটাই আপনার প্রকৃত বেতন।’
উল্লেখ্য, ভারতে একজন সাংসদের বেতন প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা।
কঙ্গনা জানান, তার নির্বাচনী এলাকার কোনো অংশে স্টাফ নিয়ে সফর করতে হলে খরচটা লাখের ঘরে চলে যায়। কেননা তাকে ৩০০-৪০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হবে। এ নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘সাংসদের দায়িত্বের পাশাপাশি আপনার একটি চাকরি দরকার। অনেক সাংসদের ব্যবসা আছে, কেউ কেউ আইনজীবী হিসেবেও কাজ করছেন। এজন্যই একে আমি শখ বলছি। আমার আগে যারা এসেছেন, যেমন জাভেদ আখতারজি, তারাও তাদের কাজ চালিয়ে গেছেন। যেভাবেই হোক, আপনাকে কাজ করতে হবে।’
জাভেদ আখতার ২০১০-২০১৬ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভার মনোনীত সাংসদ ছিলেন, যাকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল ‘শিল্পকলার’ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মনোনীত করেছিলেন।
কঙ্গনাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি ২০২৪ সালে কোনো মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার আশা করেছিলেন কিনা? উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রোফাইল অনুসারে আমি তার যোগ্য। আমি একজন অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখিকা। আমার কাছে চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘‘পদ্মশ্রী’’ রয়েছে। সে দিক থেকে আমি মনে করি, আমি দলটির জন্য অনেক কিছু করেছি এবং আমি একটি খুব কঠিন আসন থেকে জিতেছি। আমার জন্য প্রচারণাও খুব দীর্ঘ ছিল, কারণ আমার ভোট ছিল শেষ পর্যায়ে। তাই আমি আশা করেছিলাম একটি মন্ত্রিত্ব পাব। আমি মনে করি, আমার তা পাওয়া উচিত ছিল।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে মনোনয়নপত্র দাখিল করার সময় কঙ্গনা প্রায় ৯১ কোটি ৫০ লাখ রুপির সম্পত্তির হিসাব দাখিল করেন। যার মধ্যে ২৮ কোটি ৭০ লাখ রুপি তার স্থাবর ও ৬২ কোটি ৯০ লাখ রুপি অস্থাবর সম্পত্তি।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










