চলতি বছরে এরই মধ্যে মুক্তি পেয়েছে একাধিক সিনেমা। তবে ক্ষুদে দর্শকদের জন্য কোনো সিনেমাই মুক্তি পায়নি। এ বছরের প্রথম শিশুতোষ সিনেমা হতে যাচ্ছে ‘মাইক’। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে উপজীব্য করে পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘মাইক’ নির্মাণ করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছেন এফএম শাহীন, তিনি সিনেমাটির একজন পরিচালকও। এছাড়া পরিচালক হিসেবে আরো কাজ করেছেন হাসান জাফরুল বিপুল। সিনেমাটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে ১১ আগস্ট। এরই মধ্যে সিনেমার প্রচারণা শুরু করেছে মাইক টিম। রাজধানীর উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এর প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন ফেরদৌস আহমেদ, তানভীন সুইটি, তারিক আনাম খান’সহ আরো অনেকে।
সিনেমাটি নিয়ে ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘আমাদের এ সিনেমার মূল উপজীব্য ৭ মার্চের ভাষণ। যে ভাষণ উদ্বুদ্ধ করেছিল বাঙালি জাতিকে, যে ভাষণ এনে দিয়েছিল বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র। আজকে আমরা এ স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারি, এর সবকিছুর মূলে রয়েছে এ বক্তৃতা। এ সিনেমায় অভিনয় করতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত। সিনেমাটি নিয়ে আমি ভীষণ আশাবাদী। আমি মনে করি, দর্শক বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের সিনেমাটি ভালো লাগবে।’
সবাইকে সিনেমাটি দেখার আহ্বান জানিয়ে অভিনেত্রী তানভীন সুইটি বলেন, ‘আমরা নিজেরা জানতাম না পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে যে ৭ মার্চ কোনো ভাষণ ছিল কিংবা দেশ কীভাবে স্বাধীন হয়েছে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট আমাদের জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করার পর সবকিছু পাল্টে গিয়েছিল। অনেক কিছু নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এ দেশকে কে তৈরি করে গেছেন? বঙ্গবন্ধুর একটা ডাকে লাখো মানুষ ছুটে এসেছিল। আমরাই তো সেই সব ইতিহাস জানি না। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কীভাবে জানবে? আপনারা সিনেমাটা দেখুন। যে স্বাধীন দেশে বাস করছি, সে দেশের ইতিহাস তো সবাইকে জানতে হবে।’
সিনেমাটি নিয়ে নির্মাতা এফএম শাহীন বলেন, ‘আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে কেন্দ্র করে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এ সিনেমা নতুন প্রজন্মের কাছে জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেবে। ১১ আগস্ট সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসবে। শিশুতোষ এ সিনেমার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণসহ স্বাধীনতার ইতিহাস জানতে পারবে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে “মাইক” গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সবার প্রতি অনুরোধ, আপনারা সিনেমা হলে আসুন, ভালো সিনেমা দেখুন। ঈদকে কেন্দ্র করে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা দেখতে দর্শক হলমুখী হয়েছে, যা বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য ভীষণ আনন্দের।’
সরকারের অনুদানে নির্মাণ হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য এ চলচ্চিত্র। গত ২৯ মে সিনেমাটি আনকাট সেন্সর ছাড়পত্র পায়। এ সিনেমার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় একসঙ্গে দেখা যাবে জনপ্রিয় নায়ক ফেরদৌস আহমেদ ও নন্দিত নাট্যাভিনেত্রী তানভীন সুইটিকে। শিশুদের কথা মাথায় রেখে খুব কম সিনেমা নির্মাণ করা হয় আমাদের দেশে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ২০টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অনুদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত বছরের ১৫ জুন তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে অনুদানপ্রাপ্ত এসব চলচ্চিত্রের নাম ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তিনটি, শিশুতোষ দুটি ও সাধারণ শাখায় ১৫টি চলচ্চিত্রকে অনুদান দেয়া হয়। সেখানে শিশুতোষ ক্যাটাগরিতে এফএম শাহীনের লেখা মাইক স্থান পায়।
এতে আরো অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা তারিক আনাম খান, নাদের চৌধুরী, ঝুনা চৌধুরী, জয়িতা মহলানবিশ, সংগীতা চৌধুরী, রহিম সুমন, ইকবাল হোসাইন, শিশুশিল্পী সানজিদা রহমান খান প্রমুখ। মুক্তির আগেই ২৮ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটরিয়ামে চলচ্চিত্রটির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ প্রদর্শনীতে ছিলেন মাইক চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কলাকুশলীরা। গত বছরের মার্চে লক্ষ্মীপুরে সিনেমাটির শুটিং শুরু হয়েছিল। চলতি বছরে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর বেশির ভাগই দর্শক টানছে। শিশুতোষ এ সিনেমা প্রচারণায় এখন ব্যস্ত নির্মাতা ও কলাকুশলীরা। প্রচারের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে মুক্তি পেয়েছে মাইকের টিজার। ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের টিজারটি প্রশংসা পাচ্ছে দর্শকের। টিজারের সূচনা হয়েছে একদল শিশুকে কেন্দ্র করে যারা ঘুরে বেড়াচ্ছে নিজের মতো। একটি স্কুল, একদল শিশু-কিশোর, মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাভাস, রহস্য, রাজনীতি ও জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণ সবই এসেছে সিনেমার টিজারে। এবার দেখার পালা সিনেমাটি মুক্তির পর কেমন সাড়া ফেলে।










