নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশনের পরিচিত মুখ ছিলেন তৌকীর আহমেদ। মঞ্চ থেকেই অভিনয়ের সূচনা এ অভিনেতার। নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণেও প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। মঞ্চনাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি মঞ্চে নির্দেশনাও দিয়েছেন এ অভিনেতা। মাঝে অনেকটা সময় মঞ্চনাটক নির্দেশনা দেননি তৌকীর। তবে তিনি দীর্ঘদিন পর আবারো মঞ্চে নির্দেশনা দিতে যাচ্ছেন। 

তৌকীর আহমেদের নির্দেশনায় আগামী ২, ৩ ও ৪ আগস্ট রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চস্থ হবে নাটক ‘তীর্থযাত্রী’। এটি নাট্যকেন্দ্রের ১৬তম প্রযোজনা। তীর্থযাত্রীর মূল রচয়িতা হুমায়ূন কবির। নাট্যরূপ দিয়েছেন হুমায়ূন কবির ও তৌকীর আহমেদ। অভিনয় করবেন নাট্যকেন্দ্রের শিল্পীরা। এর আগে গত ১৮ মার্চ নিউইয়র্কের কুইনস থিয়েটারে তীর্থযাত্রীর প্রথম মঞ্চায়ন করেছিলেন তৌকীর। যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার দেশের দর্শক দেখতে পাবে নাটকটি।

নাটকটি নিয়ে তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘এ নাটকের চরিত্রগুলো জীবনাচারের প্রাগৈতিহাসিক সময় ও বর্তমানের একটি সমন্বয়। এ প্রযোজনায় নারী ও পুরুষ উভয়ই মানুষ রূপে উপস্থাপিত, আমাদের তার্কিকরা কখনো নারী কখনো পুরুষ। সৈনিক বা পেয়াদার ক্ষেত্রেও তাই। মানুষ সৃষ্টির মধ্যমণি তার চিন্তাশক্তির কারণে, সে প্রশ্ন করতে পারে। প্রশ্নই জ্ঞানের শুরু। হাঁটা যেমন যাত্রা, প্রশ্নই তেমন তৈরি করে সংশয়। প্রশ্নই তো খুঁজে দেয় উত্তর। নাট্যকর্মও সে প্রশ্নেরই আরেক রূপ, নাটকের বিষয়বস্তু সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ, নাট্যকার সুচিন্তিতভাবে নাটক রচনায় ব্যাপ্ত হন, কিন্তু অন্য কোনো গ্রন্থের মঞ্চরূপ সবসময়ই কঠিন, তীর্থযাত্রীও তার ব্যতিক্রম নয়। অনেক দিন পর ঢাকার মঞ্চে নির্দেশনা যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি ভয়ঙ্কর কষ্টসাধ্য একটি কাজ ছিল আমার জন্য। থিয়েটার মানেই চ্যালেঞ্জ, অনিশ্চয়তা আর ভীতিকে ছাপিয়ে নতুন কিছু করা। নাটকের পুনর্নির্মাণ মানে আগের প্রযোজনাটিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা, আগের ভুলগুলো নতুন করে আবিষ্কার করা, সংশোধন ও যোজন বিয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন এক নির্মাণ, নতুন এক উপলব্ধিতে উত্তীর্ণের চেষ্টা। দর্শক আপনাদের সে অভিজ্ঞতার সঙ্গী হওয়ার আমন্ত্রণ।’ 

তৌকীর আহমেদ জানান, নাট্যকেন্দ্রের শিল্পীরাই যথারীতি তার এবারের নির্দেশিত নাটকে অভিনয় করবেন।