আর. বালকি পরিচালিত ‘পা’ সিনেমায় বিরল এক রোগে আক্রান্ত (প্রোজেরিয়া) ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্র বিগ বি হলেও পার্শ্বচরিত্র হিসেবে অনেকখানি আলো নিজের দিকে টেনে নিয়েছিলেন বিদ্যা বালান। সিনেমায় তিনি অরোর (অমিতাভ) মায়ের চরিত্রে (ড. বিদ্যা) অভিনয় করেছিলেন। তবে অমিতাভ বচ্চনের মায়ের চরিত্রে অভিনয়ে আপত্তি ছিল বিদ্যার। তিনি তার দুই বন্ধুকে সিনেমাটির চিত্রনাট্য পাঠিয়ে তাদের মতামত চেয়েছিলেন। তাদের থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পরই কেবল তিনি সিনেমাটিতে কাজ করার ব্যাপারে রাজি হয়েছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিদ্যা এসব কথা বলেন।

হিউম্যানস অব বোম্বেকে দেয়া সাক্ষাৎকারটিতে তিনি বলেন, ‘সিনেমাটিকে হ্যাঁ বলতে আমি দীর্ঘ সময় নিয়েছিলাম। আর. বালকি আমার কাছে সিনেমাটির প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন প্রথমে আমি ভেবেছিলাম, ‘এটি কোন ধরনের গল্প? সে কি পাগল! অমিতাভ বচ্চনের মায়ের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সে আমার কাছে কেন আসবে? সেটিই একমাত্র চিত্রনাট্য, যা আমি আমার দুই বন্ধুকে দেখিয়েছিলাম। তবে প্রাথমিক ধাক্কা কেটে যাওয়ার পর আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এটি একটি চমৎকার চিত্রনাট্য।’

বিদ্যা আরো বলেন, ‘একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমি এতে ঝাঁপিয়ে পড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি চেয়েছিলাম আরো কিছু মানুষ এটি পড়ুক এবং তাদের ভাবনা আমাকে জানাক। আর তারা প্রত্যেকে উচ্ছ্বসিতভাবে বলেছিল, ‘‘তোমার অবশ্যই চরিত্রটিতে অভিনয় করা উচিত।’’ কিন্তু হ্যাঁ বলতে আমার খানিকটা সময় লেগেছিল। এটি কোনো সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত ছিল না। কিন্তু আমি সাহস করে এগিয়ে গিয়েছিলাম।’

বিদ্যা বালান ও অমিতাভ বচ্চনের মধ্যে বয়সের ব্যবধান অনেক বেশি। অমিতাভ ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। আর বিদ্যা বালান ১৯৭৯ সালে। সিনেমাটি খানিকটা অদ্ভুতই ছিল। এ সিনেমায় অরোর বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অভিষেক বচ্চন। বাস্তব জীবনে ছেলে হয়েছিলেন বাবা আর বাবা হয়েছিলেন ছেলে। কিন্তু গল্প ও অভিনয়ের কারণে সিনেমাটি দর্শক, সমালোচক উভয়ের কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পায়। যে চরিত্রে আপত্তি ছিল বিদ্যার সেটিই পরিণত হয় তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্সে।

সূত্র ও ছবি: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস