মোহনলাল অভিনীত সিনেমা এম্পুরান। এটি ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘লুসিফার’-এর সিকুয়াল। ওই বছর সিনেমাটি বক্স অফিসে ভালো আয় করার পাশাপাশি দর্শক ও সমালোচক মহলে সমাদৃত হয়। এটি পরিচালনা করেছিলেন মালয়ালম অভিনেতা পৃথ্বীরাজ সুকুমার। ছয় বছর পর তিনি সিনেমাটির সিকুয়াল এনেছেন। প্রথম সিনেমা অর্থাৎ লুসিফারের মতো জনপ্রিয় না হলেও এম্পুরান সাড়া ফেলেছে। কিন্তু এর সঙ্গেই এসেছে আরেক বিপত্তি। সিনেমাটিতে থাকা রাজনৈতিক বিষয় ও বক্তব্য নিয়ে আহত হয়েছেন কেউ কেউ। সিনেমায় ধর্মকে অবলম্বন করে করা নোংরা রাজনীতির সমালোচনা এসেছে। ফলে এ ধারার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি পৃথ্বীরাজ সুকুমারকে আইনি নোটিস দিয়েছে ভারতের আয়কর বিভাগ।

সম্প্রতি ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেকটোরেট (ইডি) চেন্নাই ও কোচিতে শ্রী গোকুলম চিটস নামে একটি চিটফান্ড কোম্পানিতে অভিযান চালায়। এ চিটফান্ডের মালিক গোকুল গোপাল হলেন এম্পুরানের অন্যতম প্রযোজক। এছাড়া ভারতের গণমাধ্যম দ্য হিন্দুর রিপোর্ট থেকে জানা যায় অভিনেতা ও এম্পুরানের পরিচালক পৃথ্বীরাজ সুকুমারকে একটি আইনি নোটিস দেয়া হয়েছিল। এপ্রিল শেষ হওয়ার আগে তাকে করসংক্রান্ত তথ্যাদি উপস্থাপন করতে বলা হয়েছিল ওই নোটিসে। কিন্তু সুকুমার এর কোনো উত্তর এখনো দেননি বলেই জানা গেছে।

এম্পুরানের গল্প লুসিফারের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু লুসিফারে যেভাবে কেরালার রাজনীতির ঘটনা দেখানো হয়েছিল, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল একটি রাজনৈতিক পরিবার। কিন্তু এবার উঠে এসেছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি। গুজরাটের দাঙ্গার একটা উপস্থাপন ছিল সিনেমায়। ২০০২ সালের এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল বিজেপি ও ভারতের বেশকিছু দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দল। তারাই এবার এম্পুরানের ওপর ক্ষেপেছেন।

এর আগে মোহনলাল বলেছিলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীকে ছোট করা তাদের ও তাদের সিনেমার উদ্দেশ্য নয়। সিনেমায় কেবল একটা গল্প বলার চেষ্টা করা হয়েছে। এখানেই শেষ হয়নি, সিনেমাটি নতুন করে সম্পাদনা করে থিয়েটারে চালানো হচ্ছে।’

এত কিছুর পরও সিনেমাটি বক্স অফিসে ভালো করছে। বেশকিছু রেকর্ডও ভেঙেছে। এটি মুক্তির নয়দিন পর এর বৈশ্বিক মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৩৬ কোটি রুপি। এর মধ্য দিয়ে মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা হয়ে গেল এম্পুরান।

সূত্র: ইয়ন