বছরের শুরুতেই জেরেমি রেনারের একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেল। সিনেমা ও টিভি সিরিজ মিলিয়ে ষাটের বেশি কনটেন্টে অভিনয় করেছেন রেনার। কিন্তু হকআই চরিত্রে তিনি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছেন। মার্ভেলের অ্যাভেঞ্জার্সে এ চরিত্রে দেখা যায় তাকে। থর, আয়রন ম্যান, ক্যাপ্টেন আমেরিকার তুলনায় হকআই খুবই গৌণ একটা চরিত্র হতে পারত, কিন্তু রেনারের অভিনয় চরিত্রটিকে জনপ্রিয় হতে সাহায্য করে। তাই সিনেমার বাইরেও হকআইকে নিয়ে তৈরি হয়েছে আলাদা সিরিজ। ক্লিন্ট বার্টনের নেপথ্যের গল্পটাও জনপ্রিয় হয়েছিল। সেই হকআই যখন দুর্ঘটনায় পড়লেন, ভক্তরা হয়েছিলেন রুদ্ধশ্বাস। বহুদিন হাসপাতালের বিছানায় পড়ে থাকতে হয়েছিল। রেনার নিজেও মনে করেছিলেন ফিরতে পারবেন না, কিন্তু অবশেষে তিনি ফিরেছেন। এমনকি অংশ নিয়েছেন জিমি কিমেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে।

স্নো প্লাও দুর্ঘটনার পর তিনি প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে এলেন। সোমবার রাতে জিমি কিমেলের লাইভে তাকে দেখা যায়। অনুষ্ঠানে তিনি নিজের দুর্ঘটনা ও ডিজনিতে তার আসন্ন সিরিজ ‘‌ রেনার্ভেশনস’ নিয়ে কথা বলেন। রেনার একটি ওয়াকিং স্টিক নিয়ে মঞ্চে ওঠেন। দর্শকরা দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানায়। তাদের এ ভালোবাসা দেখে মুখে লজ্জিত হাসি নিয়ে রেনার একটু নেচেও দেখান। এ সময় জিমি কিমেল প্রশ্ন করেন, ‘‌তাহলে এখন বোঝা যাচ্ছে, হার না মানা অ্যাভেঞ্জার কে?’ কিমেলকে উত্তর দিতে না দিয়েই রেনার বলেন, ‘‌স্কারলেট জোহানসন।’

এ কথা বলার একটা কারণ আছে। অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেমের শেষে হকআই ও ব্ল্যাক উইচ একটি পাথর আনতে যায়। সেখানে একজনের আত্মত্যাগই পাথর দিতে পারত। ব্ল্যাক উইচ সে কাজটি করেছিল। হকআইকে কোনো সুযোগ না দিয়ে পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে।

স্নো প্লাও দুর্ঘটনার জন্য নিজেকেই দায়ী করেছেন রেনার। এবিসি নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তিনি ও তার ২৭ বছরের ভাগ্নে একটি ফোর্ড র‍্যাপটর নিয়ে কাজ করছিলেন। তার ভাগ্নে দুটো গাড়ি একত্রে বাঁধার চেষ্টা করছিল। এ সময় গাড়ি বরফের ওপর পিছলে যেতে থাকে। রেনার পার্কিং ব্রেক রাখতে ভুলে গিয়েছিলেন। গাড়ি থেকে পিছলে যান তিনি এবং এরপর গাড়িচাপা পড়েন।

হাসপাতালে রেনারের কয়েকবার মনে হয়েছিল, তিনি ফিরতে পারবেন না। কিন্তু ফিরেছেন। কিমেলকে তিনি বলেন, ‘‌আমি আসলে ভাগ্যবান। দোষটা আমার ছিল, কিন্তু বেঁচে গেছি। এখানে আসতে পেরে আমি দারুণ খুশি।’ 

সূত্র: ভ্যারাইটি