টেলিভিশন নাটকের একসময়ের পরিচিত মুখ হৃদি হক। এ অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের নতুন সংযোজন ড. ইনামুল হকের ভাবনা নিয়ে সিনেমা নির্মাণ। সিনেমার নাম ‘‌১৯৭১: সেইসব দিন’, যেটি ১৮ আগস্ট মুক্তি পেতে যাচ্ছে। প্রথম সিনেমা নির্দেশনা ও ব্যক্তি জীবনের নানা বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন হৃদি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী

বাবার ভাবনায় সিনেমা নির্মাণ করাটা কি চ্যালেঞ্জের? 

মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আমার বাবা ড. ইনামুল হক একটা নাটক নির্মাণ করেন। নাটকটার নাম ছিল ‘‌ সেইসব দিনগুলি’। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ ছিল প্রতিরোধ দিবস। সেদিন ড. ইনামুল হকের লেখা নাটক পাকিস্তান টিভিতে প্রচার হয়েছিল। সেটা ছিল প্রতিবাদের নাটক। এ নাটক সে সময় স্বাধীনচেতা বাঙালিদের মনে বেশ নাড়া দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম নাটকও বাবার লেখা। সেইসব দিনগুলি নাটক নিয়ে আমরা মঞ্চে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। মঞ্চে কাজ করা থেকেই আমার মনে হতো এ গল্পের মূল ভাবনাকে নিয়ে আমি নিজের মতো করে আবার লিখতে চাই ফিল্মের জন্য। আবার বাবা ড. ইনামুল হক অনেক আধুনিক একজন মানুষ ছিলেন, তিনি আমাকে কখনো বলেননি যে আমি তার নাটকের ভাবনা নিয়ে কিছু করতে পারব না। বরং বাবাই আমাকে এ নির্দেশনা দিতে উৎসাহ দিয়েছেন। এটা একটা বিশাল দায়িত্বের বিষয়। চ্যালেঞ্জ তো ছিলই। 

প্রথম সিনেমা পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা কেমন?

আমি দীর্ঘদিন ধরেই নির্মাণের সঙ্গে জড়িত। মাধ্যমগুলো আলাদা কিন্তু মূল জায়গা একই। একটা কাজ করার সূচনা হচ্ছে স্বপ্ন দেখা থেকে। কিন্তু মাধ্যম আলাদা হওয়ায় এর প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়। আমি যেহেতু অনেক দিন ধরে এ ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত আছি, কিন্তু ফিল্মের বিষয়টা অনেক বিশাল। তাই এ জায়গায় এসে আমাকে নতুন করে আরো জানতে হয়েছে। যেমন টেকনিক্যাল বিষয়, সাউন্ড, লাইট এসব নিয়ে আমাকে কাজ করতে হয়েছে। আসলে মাধ্যম পরিবর্তনের কারণে আলাদা করে ভাবতে হয়। 

‘‌১৯৭১: সেইসব দিন’ সিনেমায় লিটু আনাম রয়েছেন। তাকে নির্দেশনা দেয়ার বিষয়টা কেমন ছিল?

লিটু আনাম আমার সহঅভিনেতা। তার সঙ্গে আমি মঞ্চে, টেলিভিশনে প্রচুর কাজ করেছি। একই সঙ্গে টেলিভিশন নাটকে আমার ডিরেকশনে লিটু আনাম অভিনয় করেছেন। এক্ষেত্রে আমি বলব যে খুব একটা নতুন অভিজ্ঞতা নয়, শুধু মাধ্যম ভিন্ন। 

আপনার চরিত্রটা নিয়ে বলা যাবে?

আসলে এ মুহূর্তে আমাদের সিনেমার চরিত্রগুলো নিয়ে বলতে চাচ্ছি না। এটা নিয়ে একটু চমক রেখে দিচ্ছি। কিন্তু আমি এটা বলতে পারি যে আমার চরিত্রটা অসাধারণ এবং এ সিনেমায় কেবল আমার চরিত্র নয়, প্রত্যেকটা চরিত্রের গাঁথুনি আমরা এমনভাবে করেছি যে প্রত্যেকের একটা মেরুদণ্ড দেখতে পাবে দর্শক। এতে আমার চরিত্রের নাম বিথি। এটা দারুণ একটা চরিত্র। আমার মনে হয়, আমার অভিনয় জীবনের অসাধারণ জায়গাজুড়ে এ চরিত্রটি। 

সিনেমার প্রচারণায় হাতে আঁকা পোস্টারের কারণ কী?

আমি বিশ্বাস করি, আমাদের শেকড় শক্ত না হলে নতুন পাতা গজাবে না, ফুল ফুটবে না। তাই শেকড়কে কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। পেছন ফিরে তাকানো মানে পিছিয়ে পড়া নয়। আমাদের যে শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আছে, তার নির্যাস নিয়ে যদি আমরা এগিয়ে যেতে পারি, তাহলে দারুণ একটা বাংলাদেশ পাব। এ ভাবনা থেকেই আমার মনে হয়েছে, আমাদের সিনেমার নাম যেহেতু ১৯৭১: সেইসব দিন; ওই সময়ে হাতে আঁকা পোস্টার, ব্যানার ছিল। এটা খুব মেলে সিনেমার সঙ্গে। এসব মিলিয়েই এটা করা। 

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

আমাদের ফার্মের নাম টিকিট। আমার সিনেমাটা প্রযোজনা করছে টিকিট। টিকিটের কাজের মধ্যে রয়েছে টেলিভিশন নাটক, ডকুমেন্টরি ও অ্যাডভার্টাইজিং নির্মাণ করা। তবে এ আড়াই মাস আমরা সেসব কাজ কমিয়ে এনেছি সিনেমার জন্য। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সিনেমাটি মুক্তির আগ পর্যন্ত আমরা আমাদের কনসেন্ট্রেশন সিনেমায়ই রাখব। এছাড়া একটা কাজ আমি থামিয়ে রাখতে পারছি না, তা হলো আমার থিয়েটার। আমাদের দলের নাম নাগরিক নাট্যাঙ্গন। এর থিয়েটার স্কুলের নাম নাগরিক নাট্যাঙ্গন ইনস্টিটিউট অব ড্রামা। এটার একটা ছয় মাসব্যাপী কোর্স হয়। এর দায়িত্বে আমি আছি, এ দায়িত্ব আমাকে পালন করতে হয়।