ভারতের গুণিত মঙ্গা দুবারের অস্কার বিজয়ী। তিনি যেখানেই যান, তার সঙ্গে থাকে অস্কার ট্রফি। কপিল শর্মা শোয়ের সর্বশেষ পর্বে অস্কারের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন এ নির্মাতা। অনুষ্ঠানটিতে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সুধা মূর্তি ও রাভিনা ট্যান্ডন। 

‘‌যখন বাসায় আপনার আত্মীয়রা দেখা করতে আসেন, তারা কি প্রথমে আপনার সঙ্গে ছবি তোলেন নাকি ট্রফির সঙ্গে?’, কপিল শর্মার করা এমন প্রশ্নের জবাবে গুণিত বলেন, ‘‌অবশ্যই ট্রফির সঙ্গে। আমি মনে করি না আমার সঙ্গে কেউ ছবি তুলতে চায়, সবাই ওই ট্রফিটা হাতে নিতে চায়।’ প্রত্যুত্তরে গুণিতের প্রশংসা করে কপিল বলেন, ‘‌যদি আপনি না থাকতেন, তাহলে এ অস্কার কোথা থেকে আসত!’ 

সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিগুলো তাকে এ অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পেছনের কৌশল নিয়ে কথা বলার জন্য ডাকে কিনা এমন প্রশ্নও করা হয় গুণিতকে। জবাবে সফল নির্মাতা বলেন, ‘‌অবশ্যই লোকে আমাকে ডাকে ও জিজ্ঞেস করে কীভাবে আমরা অস্কার পেলাম এবং তারা কীভাবে এটা পেতে পারে। যেহেতু আপনার শো সবাই দেখে, সুতরাং আপনার শোয়ের মাধ্যমে আমি তাদের উদ্দেশে একটি বিষয় বলতে পারি, আপনাদের কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থা থাকা জরুরি। ওখান থেকেই সবকিছুর শুরু।’ 

অস্কার নিয়ে দেশে ফেরার সময় এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন অফিসারদের তার অস্কার ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলার গল্পটিও শুনিয়েছেন গুণিত। ‘‌আমি একটি কালো কাপড় দিয়ে ট্রফিটা মুড়িয়ে রেখেছিলাম। ট্রফির একটি নিজস্ব আকৃতি থাকায় যেভাবেই মুড়ানো হোক না কেন এক্স-রেতে সেটা দেখা যাবেই। তারা আমাকে কাপড়টা খুলে ওটা দেখাতে বলল। আমি বললাম, ‘‌‘‌এটা অস্কার ট্রফি।’’ তারা বলল, ‘‌‘‌হ্যাঁ, এটাই তো আমরা দেখতে চাই।’’ আমি বললাম যে এটা মুড়ানো, কিন্তু তারা বলল, ‘‌‘‌খুলো, খুলে আমাদের দেখাও। আমরা দেখতে চাই।’’ এরপর তারা সেটার সঙ্গে ছবি তুলল। তার পরই আমি যাওয়ার অনুমতি পেলাম।’ 

ভারতীয় হিসেবে দুবার অস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন গুণিত। ৯৫তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের আসরে তার নির্মাণে ‘‌এলিফ্যান্ট হুইসপারার্স’ প্রথম ভারতীয় হিসেবে ডকুমেন্টারি শর্ট সাবজেক্ট ক্যাটাগরিতে অস্কার পায়। তবে এর আগে ২০১৯ সালে তার নির্মাণে ‘‌পিরিয়ড, অ্যান্ড অব সেন্টেন্স’ ডকুমেন্টারি শর্ট সাবজেক্ট হিসেবে অস্কার জিতেছিল।

 

সূ্ত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস