বিতর্ক চলছে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা অভিনীত ‘মিশন মজনু’ নিয়ে। সিনেমায় পাকিস্তান ও অন্যান্য বিষয় এসেছে। এ ধরনের সিনেমা বলিউডে বহুদিন ধরেই নির্মিত হচ্ছে। এবার বিতর্ক হচ্ছে সিনেমায় মুসলিমদের উপস্থাপন নিয়ে। বলিউড এ ক্ষেত্রে সবসময়ই একটি স্টেরিওটাইপের মধ্যে আটকে আছে। পুরনো ধারা থেকে যেন বের হতেই পারছে না। তাদের সিনেমায় মুসলিম মানেই জোব্বা, চোখে সুরমা, গলায় তাবিজ আর কথায় কথায় ‘জনাব’ সম্বোধন। কেবল বলিউড নয়, ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের সিনেমায়ও একই ধারা দেখা যায়। রাজামৌলি পরিচালিত আরআরআর সিনেমায় এনটিআর জুনিয়রেরও একটি লুক আছে, যেখানে তাকে এই বেশে দেখা যায়। তাই এবার সমালোচনা করছেন খোদ বলিউডের দর্শকরাই।
মিশন মজনুর ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সিনেমায় সিদ্ধার্থের একটি লুক নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রীতিমতো সরগরম এ নিয়ে। ভারতের সাধারণ সিনেমাপ্রেমীরাই বলছেন, এখন ভারতের মুসলমানরা এ পোশাকে সীমাবদ্ধ নেই। টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে এ নিয়ে তৈরি হয়েছে মিম। ট্রল করছেন দর্শকরা। তাদের মতে বলিউডে এমনই দুরবস্থা চলছে, এমন সময় এ ধরনের প্রপাগান্ডা সিনেমা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত তাদের।
বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী সানাম সাঈদ। তিনি বলেন, ‘সিনেমায় সবসময়ই মুসলিমদের এক ধরনের পোশাক দিয়ে উপস্থাপন করা হয়। তাদের চোখে সুরমা থাকবে, মাথায় টুপি। আর মুসলিম ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে উপস্থাপনের সময় কোনো না কোনোভাবে সবুজ ব্যাকগ্রাউন্ড রাখার ব্যাপারটা মূলত রাজনৈতিক।’
বলিউডের পুরনো অনেক সিনেমায়ই দেখা যাবে, কোনো একটি মুসলিম চরিত্রের উপস্থাপনা বা এন্ট্রি সিনে ব্যাকগ্রাউন্ডে আজান বাজানো হচ্ছে। আবার মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে যেন চাঁদ-তারা লাগানো পতাকা থাকবেই। বহুদিন ধরে বলিউড এটিকেই স্বাভাবিক বিষয় করে তুলেছে। এর মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে একটি সম্প্রদায় সম্পর্কিত ভুল ধারণা। সানাম সাঈদ এক্ষেত্রে আরো একটি বিষয় তুলে ধরেছেন। ভারত-পাকিস্তান ও হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে প্রতিনিয়ত যৌথ কিছু কাজ হচ্ছে। যেমন তিনি নিজেই সম্প্রতি একটি সিরিজে কাজ করেছেন। সানাম অভিনীত ‘কাতিল হাসিনো কে নাম’ পুরস্কৃতও হয়েছে ভারতে। কিন্তু এসব গল্প সিনেমায় আনা হয় না। সানাম সাঈদ বলেন, ‘প্রতিদিনই কোনো না কোনো যৌথ পরিকল্পনা ও কাজ হচ্ছে। সেসব কাজের কথা তো সিনেমায় আসেই না। আর যেটা দেখানো হয়, তা দেখতে খুব একটা ভালোও লাগে না।’
সূত্র: ডন










