দেশের প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক সেলিম আল দীন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তার। আজ নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭৪তম জন্মদিন। তার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নাট্যসংগঠন স্বপ্নদল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে আজ ও আগামীকাল আয়োজন করছে দুই দিনব্যাপী ‘নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন জন্মোৎসব ২০২৩’। নাট্যাচার্যকে নিয়ে স্বপ্নদলের নিয়মিত উৎসবের ২৮তম এ আসরের স্লোগান ‘চিত্রাঙ্গদা’-র শততম আর ‘হেলেন কেলার’ পঞ্চাশ, বাঙলা নাট্যের নবযাত্রায় সেলিম-ধারায় বসবাস।

আজ সন্ধ্যা ৬টায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যনাট্য দর্শকনন্দিত ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনার ৯৯তম এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ১০০তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে। নাট্যাচার্যের জীবন-কর্ম-দর্শন আলোচনাসহ উৎসবের উদ্বোধন করবেন নাট্যজন অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন। এছাড়া সকাল সাড়ে ৯টায় থাকছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরনো কলাভবন থেকে নাট্যাচার্যের সমাধি অভিমুখে স্মরণ শোভাযাত্রা ও পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ।

আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টায় অপূর্ব কুমার কুণ্ডুর রচনা ও জুয়েনা শবনমের অভিনয়ে প্রশংসিত মনোড্রামা ‘হেলেন কেলার’-এর ৪৯তম এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ৫০তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এদিন নাট্যাচার্যের জীবন-কর্ম-দর্শন আলোচনাসহ উৎসবের সমাপন করবেন নাট্যজন মাসুম রেজা।

চিত্রাঙ্গদা নাটকটি নিয়ে স্বপ্নদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, রবীন্দ্রনাথ মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা-উপাখ্যান অবলম্বনে ১৮৯২ সালে কাব্যনাট্যরূপে এবং ১৯৩৬ সালে নৃত্যনাট্যরূপে চিত্রাঙ্গদা রচনা করেন। স্বপ্নদলের চিত্রাঙ্গদা প্রযোজনাটি নির্মাণ হয়েছে কাব্যনাট্য পাণ্ডলিপি অবলম্বনে। এ নাট্যকাহিনীতে দেখানো হয় মহাবীর অর্জুন সত্য পালনের জন্য একযুগ ব্রহ্মচর্যব্রত গ্রহণ করে মণিপুর বনে এসেছেন। মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা অর্জুনের প্রেমে উদ্বেলিত হলেও অর্জুন রূপহীন চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করেন। অপমানিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা মদন ও যৌবনের দেবতা বসন্তের সহায়তায় এক বছরের জন্য অপরূপ সুন্দরীতে রূপান্তরিত হন। এবারে অর্জুন যথারীতি চিত্রাঙ্গদার প্রেমে পড়েন। কিন্তু অর্জুনকে লাভ করেও চিত্রাঙ্গদার অন্তর দ্বন্দ্বে ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকে—অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালোবাসেন, চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ নাকি তার প্রকৃত অস্তিত্বকে? এভাবে চিত্রাঙ্গদা পৌরাণিক কাহিনীর আড়ালে যেন এ কালেরই নর-নারীর মনো-দৈহিক সম্পর্কের টানাপড়েন এবং পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মানাবস্থানের প্রেরণারূপে উপস্থাপিত হয়। অন্যদিকে, অন্ধ ও বধির হওয়া সত্ত্বেও প্রবল আত্মবিশ্বাসে সব নেতিবাচকতার বিপরীতে ঘুরে দাঁড়ানো বিশ্বের বিস্ময় মহীয়সী নারী হেলেন কেলারের জীবনভিত্তিক প্রযোজনা ‘হেলেন কেলার’। এতে উন্মোচিত হয় পাশ্চাত্যের হেলেন কেলারের জীবনে প্রাচ্যের রবীন্দ্রনাথ তথা রবীন্দ্র দর্শনের প্রবল প্রভাবের প্রকৃত স্বরূপ।

চিত্রাঙ্গদা প্রযোজনাটি দেশের বাইরে ভারতে আমন্ত্রিত প্রদর্শনী হলেও সর্বশেষ ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি) আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ‘ভারত রঙ্গ মহোৎসব’-এ নির্বাচিত হয়েছে। আর হেলেন কেলার প্রযোজনাটি জাপানে প্রদর্শনীসহ ভারতের চারটি আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে মঞ্চায়ন হয়েছে।