কথাসাহিত্যিক, চলচ্চিত্রকার ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ৭২তম জন্মবার্ষিকী ছিল গতকাল। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়েছে। ভক্তরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন তাদের প্রিয় মানুষটিকে। গতকাল সকালে নুহাশ পল্লীতে লেখকের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানায় তার পরিবার, ভক্ত ও পাঠকরা। এ সময় তার আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। পরে কেক কাটা হয়।

এদিন অন্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও তার দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত। এ সময় শাওন জানান, ভক্ত-পাঠকরা ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় আজীবন হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করে যাবেন।

এদিকে হুমায়ূন আহমেদের জন্মবার্ষিকীকে ঘিরে হিমু পরিবহন দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। প্রতি বছর হিমু পরিবহনের সদস্যরা জাঁকজমকভাবে হুমায়ূন জন্মোৎসব পালনের চেষ্টা করে। কিন্তু এ বছর করোনা পরিস্থিতির জন্য খুবই স্বল্প পরিসরে তার জন্মদিন পালন করছে সংগঠনটি। গতকাল সংগঠনের সদস্যরা প্রথম প্রহরে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করে। এরপর সকাল ৭টায় কার্জন হলের সামনে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১০ সদস্যের একটি দল টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক ও ধানমন্ডি লেক ঘুরে সাধারণ মানুষকে ক্যান্সার ও করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করে। রাত ১০টায় হুমায়ূন আহমেদের গান নিয়ে বিশেষ ফেসবুক লাইভ “গানে গানে হুমায়ূন আহমেদ” অনুষ্ঠিত হয়।


দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আজ থাকছে হুমায়ূন আহমেদ নিয়ে বিশেষ আলোচনা (ফেসবুক লাইভ) ও তার জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্রের (পিডিএফ) মোড়ক উন্মোচন।

হুমায়ূন আহমেদ নেত্রকোনার কৃতী সন্তান। তাই তার জন্মদিনে নেত্রকোনা হিমু পাঠক আড্ডার উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা, কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টায় নেত্রকোনা শহরের সাতপাই ‘হিমু পাঠক আড্ডার’ অফিস প্রাঙ্গণে শোভাযাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন দেশবরেণ্য সাহিত্যিক ‘স্বাধীনতা পদক’ প্রাপ্ত লেখক অধ্যাপক যতীন সরকার। পরে আনন্দ শোভাযাত্রাটি শহর প্রদক্ষিণ করে মোক্তারপাড়া শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। সেখানে পাঠক আড্ডার আহ্বায়ক আলপনা বেগমের সঞ্চালনায় হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য ও জন্মদিন নিয়ে আলোচনা করেন প্রবীণ শিক্ষাবিদ ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মতীন্দ্র সরকার, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার ফখরুজ্জামান জুয়েল, ছড়াকার শ্যামলেন্দু পাল, লেখক স্বপন পাল, সাহিত্য সমাজের সম্পাদক সাইফুল্লাহ এমরান এবং নাজনীন সুলতানা সুইটি। আলোচনা শেষে পরে কেক কাটা হয়।