পহেলা এপ্রিল ঢাকায় শুরু হয় ইরানি পরিচালক মুর্তজা অতাশ জমজম পরিচালিত ‘ফেরেশতে’ ছবির শুটিং। সিনেমাটির জন্য রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রেলস্টেশন, বসুন্ধরা আবাসিকের মতো জনবহুল এলাকা চষে বেড়িয়েছেন অভিনেত্রী সহ অন্যরা। ঘুরে বেড়িয়েছেন সাধারণের ভিড়ে। এমনকি পয়লা বৈশাখে গিয়েছেন শাহবাগ এলাকায়। কিন্তু কেউই চিনতে পারেননি দেশের জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীকে। কারণ তার বেশভূষা ও মেকআপ। একেবারে সাদামাটা পোশাকে টানা শুটিং করেছেন এ তারকা। সেখানে মজার কিছু অভিজ্ঞতার সম্মুখীনও হয়েছেন তিনি। সেগুলোই শেয়ার করলেন জয়া।

গত শনিবার রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় সিনেমাটি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথাগুলো তুলে ধরেন তিনি। এ সময় পাশে ছিলেন ইরানের নন্দিত নির্মাতা মুর্তজা অতাশ জমজম, ছবির অভিনেত্রী রিকিতা শিমু ও নায়ক সুমন ফারুক। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে জয়া বলেন, ‘আমি শুটিংয়ের পুরো সময় মেকআপ নিয়ে থাকতাম। আমার চরিত্রটি একেবারে সাদামাটা। বস্তির সাধারণ মানুষের মতো। এতে একটা সুবিধে হতো, রাস্তায় অন্যদের সামনে ঘুরে বেড়ালেও কেউ আমাকে চিনতে পারত না। এমন হয়েছে একসঙ্গে একবার কোথাও যাচ্ছি, ভিক্ষুক এসে আমার দিকে তাকিয়ে পাশেরজনের কাছে টাকা চাইল। বেশ কয়েকবার এটা করল। একটিবারের জন্যও আমার কাছে চাইলই না। মানে আমাকে এতটা দরিদ্র দেখাত!’

আরো একটি ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘পল্টনের স্কুলে শুটিং করছিলাম। সেখানে ইফতারের পর জাকাতের কাপড় ও টাকা দেয়া হবে। বয়স্ক এক ভদ্রমহিলা কাপড় নিতে এসেছেন। তিনি বারবার কাপড় চাইছিলেন। আমি তাকে বললাম, খালা আপনি থামেন, আপনাকে কাপড় দেব। তিনি আমার দিকে আশ্চর্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আবার পাশেরজনের কাছে চাইতে লাগলেন! আমাকে দেখে আমার কথা তার বিশ্বাসই হয়নি।’ জয়া কাজ করেছেন একেবারে কারওয়ান বাজারের ভেতরেও। টানা কয়েকদিন মাছের বাজারে মাছ কেটেছেন সহঅভিনেত্রী শিমু। সেখানের ঘটনা নিয়ে জয়া আহসান বলেন, ‘কারওয়ান বাজারে শুটিং করছিলাম। আমার বেশভূষা দেখে কেউ টাটকা মাছও অফার করল না। একজন ডেকে বললেন, আপা ৫০ টাকায় এই পচা মাছগুলো নিয়ে যান। কী একটা অবস্থা বলুন!’

ফেরেশতে নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক মুর্তজা অতাশ জমজমের কণ্ঠে ঝরে পড়ল জয়াকে নিয়ে একরাশ মুগ্ধতা। অভিনেত্রীকে তিনি তুলনা করলেন বিশ্বখ্যাত সুপারস্টারদের সঙ্গে। ইরানের জাঁদরেল অভিনেত্রীদের চেয়েও এগিয়ে রাখতে কার্পণ্য করলেন না অতাশ। পরিচালকের মতে, ‘জয়া আহসানের সঙ্গে কাজ করে মনে হয়েছে, ইরানের কোনো সুপারস্টারের সঙ্গে কাজ করছি। তাদের চেয়ে ওনার দক্ষতা কোনো অংশে কম নয়, অনেক ক্ষেত্রেই জয়া আরো অনবদ্য। তার সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। প্রতিটি দৃশ্যে তিনি নিখুঁতভাবে অভিনয় করেছেন, দারুণভাবে সবকিছু সামলে নিয়েছেন। এক কথায় আমি মুগ্ধ। শুধু নিজের কাজটাই নয়, সহশিল্পীদের সেরাটা বের করে আনতে জয়ার যে সহযোগিতা তা অসাধারণ।’

অনুষ্ঠানে নিজের মাতৃভাষা ফার্সিতে কথা বলেন মুর্তজা। তার কথা বাংলায় অনুবাদ করে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মুমিত আল রশিদ।

সিনেমাটি নিয়ে জয়া আহসান বলেন, ‘দীর্ঘদিন আমি ঢাকায় ছিলাম না। কলকাতায় কিছু সিনেমার শুট শেষ করে ফিরেই ফেরেশতের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। তাই ছবিটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাতে পারিনি। আমরা টানা শুটিং করলাম। ২৫ দিন কাজ হয়েছে। দারুণ অভিজ্ঞতা।’

তবে সিনেমাটিতে নিজের চরিত্র নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি এ অভিনেত্রী। জানান, সমাজের সাধারণ মানুষের অবয়বেই থাকবেন তিনি। ছবিটি ইরানি, তবে এটি দৃশ্যায়িত হচ্ছে বাংলা ভাষায়। পরে ডাবিং করে ইরানে এটি দেখানো হবে।

জয়া এ সিনেমায় কাজ শুরুর আগে ছিলেন কলকাতায়। তৃতীয়বারের মতো ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড নিতে কলকাতা যান তিনি। গত ১৭ মার্চ রাতে কলকাতা শহরে বসে ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস বাংলার জমকালো আসর। সেদিন প্রায় মধ্যরাতে তারকাখচিত আসরে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জয়া আহসানের নাম ঘোষণা করা হয়। বিনিসুতোয় ছবিতে অভিনয়ের জন্য জনপ্রিয় শাখায় এ পুরস্কার অর্জন করেন জয়া।