ডিসি নিয়ে এসেছে তাদের নতুন সুপারহিরো। ১৭ আগস্ট মুক্তি পেয়েছে ডিসির নতুন সিনেমা ‘‌ব্লু বিটল’। এর মাধ্যমে ডিসির দুনিয়ায় যুক্ত হলেন আমেরিকান অভিনেতা শোলো মারিদুয়েনিয়া। ব্লু বিটল আসার ঘোষণার সময়ই সিনেমাটি নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছিল। দ্য ফ্লাশ মুক্তির দুই মাসের মাথায় মুক্তি পেল সিনেমাটি। ধারণা করা হয়েছিল এ সিনেমা নতুন ধারায় হওয়ায় দর্শকের মনোযোগ পাবে। প্রথমদিকে সে অবস্থান কিছুটা পেয়েছিল, কিন্তু ধরে রাখতে পারেনি। সিনেমার গল্প ও উপস্থাপনার কারণে দর্শক সিনেমাটিকে খুব বেশি পছন্দ করেনি। এর মধ্যে অবশ্য মুক্তির পরপর প্রথম সপ্তাহে মোটামুটি ভালো আয় করেছে সিনেমাটি।

মুক্তির প্রথম সপ্তাহ শেষে ব্লু বিটল যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসে আয় করেছে ২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। মুক্তির আগের আগ্রহ থেকে ধারণা করা হয়েছিল সিনেমাটি উত্তর আমেরিকা থেকে প্রথম সপ্তাহে সাড়ে ৩ থেকে ৪ কোটি ডলার আয় করবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। সিনেমাটি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আরো ৬৩টি মার্কেটে মুক্তি পেয়েছিল। সেখান থেকে আয় করেছে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে সিনেমার বৈশ্বিক আয় ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ডিসি মূলত আমেরিকা থেকেই প্রথম সপ্তাহে এ আয় আশা করেছিল।

তবে ব্লু বিটল মুক্তির পর গ্রেটা গেরউইগের বারবির অবস্থান পিছিয়েছে। সিনেমাটি টানা চার সপ্তাহ বক্স অফিসে ১ নম্বরে ছিল। ব্লু বিটল মুক্তির পর স্বাভাবিকভাবেই নেমে এসেছে দ্বিতীয় অবস্থানে। 

ডিসির চলমান অবস্থায় ব্লু বিটলের আয় ভালো বলতে হয়। কিন্তু সেটা বাইরে থেকে মনে হলেও আসলে আয়ের পরিমাণ ততটাও ভালো নয়। কেননা সিনেমা নির্মাণে খরচ হয়েছে ১০ কোটি ডলারের বেশি। এর বাইরে সিনেমার প্রচারে খরচ হয়েছে আরো অর্থ। সিনেমাটি মুক্তির পর ভালো রিভিউ পেলে আয় বাড়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এটি ভালো প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে না। সিনেমাস্কোর ব্লু বিটলকে ‘‌বি প্লাস’ রেটিং দিয়েছে। রটেন টমেটোজে ভোট পেয়েছে ৭৭ শতাংশ। 

ডিসির ব্যর্থতা কেবল ব্লু বিটলে নয়, তাদের ব্যর্থতা সার্বিক। ব্লু বিটল ডিসির এ বছরের তৃতীয় সিনেমা। বছরের শুরুতে মুক্তি পাওয়া ‘‌শাজাম: ফিউরি অব দ্য গডস’ ওপেনিংয়ে আয় করেছিল ৩ কোটি ডলার। ‘‌দ্য ফ্ল্যাশ’ অনেক আশা দিয়েও খুব বেশি ব্যবসা দিতে পারেনি। দুটো সিনেমা নিয়েই আছে দর্শকের অভিযোগ। সব মিলিয়ে ব্লু বিটল পরিণত হয়েছে ডিসির তৃতীয় ব্যর্থতায়।

সিনেমা নিয়ে কাজ করে ফ্র্যাঞ্চাইজি এন্টারটেইনমেন্ট রিসার্চ। এর প্রধান ডেভিড গ্রস বলেন, ‘‌অনেকদিন কমিকসভিত্তিক সিনেমার বাজার চাঙ্গা থাকলেও বছর তিনেক বাজার খারাপ যাচ্ছে। তবে আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ভিন্ন চিত্র আসতে পারে। কেননা তখন মুক্তি পাবে অ্যাকুয়াম্যান ও দ্য মার্ভেলস।’ এ কথা ঠিক যে সুপারহিরো সিনেমার বাজারই খারাপ, কিন্তু ডিসির বাজার সে তুলনায় বেশিই খারাপ। কোনোকিছুই তারা ঠিকমতো দিতে পারছে না।

সূত্র: ভ্যারাইটি