ভারত ও আন্তর্জাতিক পরিসরে নির্মিত চলচ্চিত্রে মহাত্মা গান্ধীর বিভিন্ন চেহারা রয়েছে। কিন্তু এর কোনোটাই মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর ভূমিকায় অভিনয় করা ইংরেজ অভিনেতা বেন কিংসলের মতো নয়। এ ব্রিটিশ অভিনেতার করা গান্ধী চরিত্রটিই সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত। ব্রিটিশ এ অভিনেতা ১৯৮২ সালের গান্ধী সিনেমায় একজন মহাত্মা গান্ধীর চরিত্রে অভিনয় করেন। সিনেমাটি ছিল এ অভিনেতার কথায় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির স্বর্ণদুয়ার।
২০১৯ সালে সিনেমাটির নির্মাণ বিষয়ে বেশকিছু কৌতূহলোদ্দীপক, অজানা তথ্য ও ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন বেন কিংসলে। এর মধ্যে একটি ছিল গান্ধীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দৃশ্যটি। তিনি জানিয়েছেন, সিনেমার ওই দৃশ্যের জন্য চার লাখ মানুষকে নেয়া হয়েছিল।
জিকিউকে কিংসলে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় ভারতে আবস্থানকালে গান্ধীর প্রতি ভালোবাসাই আমাকে তার চরিত্রটি করার শক্তি জুগিয়েছিল। ভারতের মানুষও খুব উদারতা দেখিয়েছে। আপনার দেখবেন যে সেই দৃশ্যে (অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার) কোনো সিজিআই (কম্পিউটারে তৈরি করা দৃশ্য) ব্যবহার করা হয়নি। তার শেষ যাত্রার দৃশ্যে যুক্ত হয়েছিলেন চার লাখ মানুষ। এটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল!’
এছাড়া বেন কিংসলে আরো বলেন, তিনি কখনো বিশ্বাস করতেন না যে গান্ধীর মতো চরিত্রকে বড় পর্দায় তুলে ধরা সম্ভব। ‘আমার মনে আছে রিচার্ড অ্যাটনবোরো (গান্ধী সিনেমার পরিচালক) আমাকে মহাত্মা গান্ধীর জীবনের কিছু ভিডিও ফুটেজ তার সঙ্গে বসে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। গান্ধীর জীবন বেশ ভালোভাবেই ডকুমেন্টটেড—রেকর্ডিং ফটোগ্রাফারস ও ভিডিও ফুটেজ ছিল—কারণ তিনি ছিলেন বিশ্বখ্যাত এক চরিত্র।’
বেন আরো জানান, সে বসায় অ্যাটেনবোরোর সঙ্গে তিনি গান্ধীর জীবনের ৫ ঘণ্টার নিউজ রিল ফুটেজ দেখছিলেন। কিন্তু অ্যাটেনবোরো অসম্ভবকে সম্ভব করেন। মনে হচ্ছিল আমি ছিলাম বরফে ঢাকা পর্বতের গোড়ায়। এক ফুট বেয়ে উঠলে পাঁচ ফুট পিছলে পিছিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। কিন্তু অ্যাটেনবোরো আমাকে চূড়ায় তুলে নিয়েছিলেন।
বেন ছাড়াও রোহিনী হাত্তাঙ্গাদি, সায়েদ জাফরি, ওম পুরি, অমরেশ পুরি এবং নীনা গুপ্তাও অভিনয় করেছেন রিচার্ড অ্যাটেনবোরোর গান্ধী সিনেমায়। সিনেমাটি অস্কারে আটটি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে। কস্টিউম ডিজাইনার ভানু আথাইয়া প্রথম ভারতীয় হিসেবে একাডেমি পুরস্কার জেতেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস










