‘কোন মেস্তরী নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়, ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ুরপঙ্খী নাও’, ‘গাড়ি চলে না চলে না, চলে না-রে গাড়ি চলে না’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’—এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গানের জনক শাহ আবদুল করিম। বাউল গান ও গণসংগীতের রচয়িতা শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

শাহ আবদুল করিমের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫-১৬ মার্চ তার নিজ গ্রামের ধল মাঠে দুই দিনব্যাপী ১৭তম শাহ আবদুল করিম লোক উৎসব ২০২২ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিভিন্ন কারণে এবার উৎসবটি এক মাস পরে আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবে দেশের নানা প্রান্তের শিল্পীরা গানে গানে তাকে স্মরণ করবেন। মঙ্গলবার লোক উৎসবে গান গেয়েছেন কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আশিকুর রহমান, পাগল হাসান, গামছা পলাশ, কাজি শুভ, দ্বীপাসহ আরো অনেকে। আজ সন্ধ্যায় গান গাইবেন রুই সরকার, সাজ্জাদ নূরসহ সিলেট ও সুনামগঞ্জের বাউল শিল্পীরা।

শাহ আবদুল করিমের স্মৃতিবিজড়িত নানা নিদর্শন, স্মারক, পদক ও বিভিন্ন সম্মাননা রাখার জন্য হয়েছে জাদুঘর। কিন্তু তার নিজের হাতে প্রতিষ্ঠিত শাহ আবদুল করিম সংগীতালয় ৪১ বছরেও চালু করা যায়নি। বিভিন্ন মহলের আশ্বাসের পরও এখনো হয়নি কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের কাজ। দ্রুত এসব কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন শাহ আবদুল করিম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ। তিনি বলেন, দেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় অনেক গুণী মানুষের জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়, কিন্তু এখানে ব্যক্তি উদ্যোগে শাহ আবদুল করিম লোক উৎসব করতে হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক।’

শাহ আবদুল করিমের একমাত্র সন্তান শাহ নূর জালাল বলেন, ‘গতকাল থেকে দুই দিনব্যাপী ১৭তম শাহ আবদুল করিম লোক উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব আয়োজন করছি নিজ উদ্যোগে। কোনো সরকারি সহযোগিতা পাইনি। সরকারি সহযোগিতা পেলে আরো বড় পরিসরে করতে পারতাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার বাবার সমাধি হয়েছে, জাদুঘর হয়েছে। শাহ আব্দুল করিমের নিজের হাতে প্রতিষ্ঠিত সংগীতালয় ৪১ বছরে এখনো চালু করতে পারিনি। এছাড়া দিনের পর দিন শাহ আবদুল করিম কমপ্লেক্স হবে বলে আশ্বাস পাচ্ছি। এ কমপ্লেক্স হলে শাহ আবদুল করিমের সৃষ্টি ও গান এখানে চর্চা করা হবে।’ 

জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল কর্মকর্তা আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল বলেন, শাহ আবদুল করিম লোক উৎসব তাদের পরিষদের নিজস্ব উদ্যোগে করা হচ্ছে। এটার জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। সুনামগঞ্জে সরকারি অর্থায়নে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মরমি কবি হাছন রাজা, বৈষ্ণব কবি রাধারমণ, বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম ও দুর্বিন শাহ—এ চার লোককবিকে নিয়ে লোক উৎসব করা হয়।

বাউল শিল্পী শাহ আবদুল করিম ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়সে হাজারো ভক্তকে ছেড়ে ইহলোক ত্যাগ করেন।