গতকাল ঢাকায় শুরু হয়েছে আখতার আহমেদ রাশার একক শিল্প প্রদর্শনী। ধানমন্ডির সফিউদ্দীন শিল্পালয়ে চলছে এ প্রদর্শনী। এর থিম ‘ড্রিফটিং টু দ্য রুট, ড্রিফটিং টু লাভ’ বা ‘শিকড়ে প্রোথিত, ভালোবাসায় প্রসারিত’। রাশা মূলত ড্রিফটউড নিয়ে কাজ করেন। সমুদ্রে ভেসে আসা কাঠকে ড্রিফটউড বলে। আখতার আহমেদ রাশা ভেসে আসা কাঠ, ডালপালা থেকে তৈরি করেন নানা শিল্পকর্ম। কাঠে ফুটিয়ে তোলেন নানা অবয়ব।
আখতার আহমেদের একক শিল্প প্রদর্শনীটি মূলত তার কাজকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য আয়োজিত। গতকাল বিকালে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। এছাড়া সম্মানিত বক্তা ছিলেন প্রফেসর শফি আহমেদ ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের পরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর নিসার হোসেন।
আখতার আহমেদ রাশার ভাস্কর্য নিয়ে অধ্যাপক শফি আহমেদ বলেন, ‘রাশা নিজের প্রতিভাকে কাজে লগিয়েছে। বিশেষভাবে বলব, সে নারীকে এনেছে ভাস্কর্যে। নারীও তো শিকড়। সে জায়গাটিতে একটি নতুনত্ব এনেছে রাশা।’
শিল্পী প্রবাসে থেকেও দেশ ও দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তার কাজের মধ্যে এনেছেন। সে প্রসঙ্গ তুলে ধরে লুভা নাহিদ চৌধুরী বলেন, ‘এর মাধ্যমে দেশের প্রতি রাশার ভালোবাসার প্রকাশ পাওয়া যায়।’
নিজের কাজ ও কাজের মাধ্যম নিয়ে রাশা বলেন, ‘আমি ভেসে আসা কাঠ নিয়ে কাজ করি। কেননা এতে পোকামাকড় থাকে না। কাঠগুলো তাজা। আমি শুরুটা করেছিলাম গাছের শিকড় দিয়ে। এরপর গুঁড়ি ও ডালপালা যুক্ত হয়। আমি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্যের পাশাপাশি মানুষকেও রাখতে চেয়েছি।’
আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেন, ‘ভাস্কর্য নিয়ে আমাদের দেশে কাজ তুলনামূলক কম। কিন্তু প্রবাসে থেকেও আখতার আহমেদ সে কাজটি করেছেন। আমরা আজ থেকে তার কাজগুলোর মধ্য দিয়ে রাশাকে আবিষ্কার করব। শিল্পীকে তার কাজের মধ্য দিয়েই জানতে হয়।’
আখতার আহমেদ নীলফামারীর সন্তান। শৈশবেই তিনি হস্তশিল্পে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। চারুকলায় পড়া হয়নি। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের এ ছাত্র তার শখ ছাড়েননি। বর্তমানে বাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে। প্রায় ৩০ বছরের প্রবাসজীবন তার। ২০০২ সালে তিনি ড্রিফটউড সংগ্রহ ও তা নিয়ে কাজ শুরু করেন। প্রবাসেই হয়েছে তার শিল্পকর্মের একাধিক প্রদর্শনী। রাশার তৈরি ভাস্কর্যে ফুটে উঠেছে ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ থেকে কভিড-১৯ মহামারীর সময়ও। এছাড়া শীতের ভোরে খেজুরের রস, টোকাই, রোহিঙ্গাও আছে তার শিল্পকর্মে।
গতকাল শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।










