থিয়েটারের জন্য ঐতিহ্যবাহী পুরস্কার টনি অ্যাওয়ার্ডস। ব্রডওয়ে থিয়েটারে অভিনয় শুরু করেই এ পুরস্কার পেয়েছিলেন অ্যালান আর্কিন। কিছুটা সময় লেগেছিল, তবে প্রথম যে নাটকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন তাতেই বাজিমাত। টনি অ্যাওয়ার্ড পেয়ে যান তিনি। আর্কিন যে অভিনেতা হিসেবে নিজের জায়গা শক্ত করবেন তা এখান থেকেই বোঝা গিয়েছিল। এরপর প্রথম ফিচার ফিল্মের জন্য পেয়েছিলেন একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের নমিনেশন। পুরস্কার অবশ্য তিনি পাননি। এজন্য আরো বহুদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। ২০০৬ সালে ‘লিটল মিস সানশাইন’ সিনেমায় এডউইন হুভার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান তিনি।
অ্যালান আর্কিন থিয়েটারে পরিচিত হন ষাটের দশকে। তার অভিনীত ‘এন্টার লাফিং’ সে সময় জনপ্রিয় হয়েছিল। সিলভিয়া সিডনি ও ভিভিয়ান ব্লেইনের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন আর্কিন। প্রধান ভূমিকায় অ্যালান আর্কিনের অভিনয়ের প্রশংসা করে সে সময় পত্রপত্রিকায় লেখা হয়েছিল। এ নাটক প্রায় এক বছর ধরে চলছিল এবং এর মাধ্যমেই আর্কিন থিয়েটারের তারকায় পরিণত হন। এরপর পান টনি অ্যাওয়ার্ড। ১৯৬৪ সালে ব্রডওয়ের দুটো নাটক তার হাতে ছিল এবং সেগুলোও জনপ্রিয় হয়। কিন্তু আর্কিন মঞ্চ ছেড়ে সিনেমায় নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করার চিন্তা করেন। কিন্তু মঞ্চ ছেড়ে সিনেমায় কেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে সে সময় ডেইলি নিউজকে আর্কিন বলেছিলেন, ‘সিনেমায় যাওয়ার ব্যাপারে আমার কখনো কোনো দ্বিধা ছিল না। আমি জানতাম আগে হোক বা পরে আমাকে সেখানেই যেতে হবে।’
সিনেমায় অভিষেক হয় একটি অফবিট কমেডির মাধ্যমে। ‘দ্য রাশিয়ানস আর কামিং দ্য রাশিয়ানস আর কামিং’ নামে এ সিনেমায় লেফটেন্যান্ট রোজানভ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। থিয়েটার আর্কিনের পিছু ছাড়েনি, কেননা তিনি সেখানে যেমন কমেডিতে অভিনয় করতেন সিনেমাও তার সেভাবেই শুরু হয়। তবে এ সিনেমা দিয়েই একটি অস্কার নমিনেশন পেয়ে যান আর্কিন। অবশ্য এরপর নানা বিচিত্র চরিত্রে অভিনয় করেছেন আর্কিন। এর মধ্যে ১৯৬৮ সালে ফরাসি সিনেমা ‘ইন্সপেক্টর ক্লৌসু’তে একজন ফরাসি গোয়েন্দা, ১৯৬৯ সালে ‘পপি’ ও ১৯৭৮ সালে ‘দ্য ডিফেকশন অব সিমাস কুদিরকা’ সিনেমায় বিচিত্র চরিত্রে অভিনয় করেন। চরিত্রের পাশাপাশি তার সিনেমার চরিত্রগুলোর বিভিন্ন উচ্চারণ ও ভাষার কাজ দেখা যায়।
অ্যালান আর্কিনকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কমেডিতেই রাখা হয়েছিল। কিন্তু এরপর একসময় তাকে সিরিয়াস চরিত্রেও আনা হয়। অবশ্য এর মধ্যেও ভিন্ন চরিত্র তিনি পেয়েছেন। পাশাপাশি মনোযোগ পেয়েছেন সমালোচকদেরও। ১৯৬৮ সালের ‘দ্য হার্ট ইজ আ লোনলি হান্টার সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দ্বিতীয়বার একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। কিন্তু অন্যান্য শিল্প মাধ্যমের মতো অভিনয়েও সাধারণত অভিনেতারা প্রতিভার মূল্য পান শেষ বয়সে। এ মনোনয়নের প্রায় ৪০ বছর পর তিনি তৃতীয়বারের মতো অস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে পুরস্কার জেতেন।
আর্কিনের ক্যারিয়ার বিচিত্র। অভিনেতা নন, তিনি পেশাগত জীবন শুরু করেছিলেন টেরিয়ার্স নামক ব্যান্ডের সঙ্গে। এরপর অভিনয় শুরু থিয়েটারে, তারপর সিনেমায়। এর মধ্যে তিনি নির্দেশনাও দিয়েছেন। ১৯৬৬ সালে থিয়েটারে ‘এহ?’ পরিচালনার পর ১৯৭১ সালে ‘লিটল মার্ডার্স’ নামে সিনেমা পরিচালনা করেন। পরিচালনার তালিকায় আছে শর্টফিল্ম ও টিভি সিরিজ। তবে অভিনেতা হিসেবেই পুরো জীবন থিয়েটার ও সিনেমায় প্রাসঙ্গিক ছিলেন তিনি।
নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে মাহমুদুর রহমান










