ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের ২০ বছর হয়ে গেল। ২০০৩ সালের ২০ মার্চ আমেরিকা ইরাকে তাদের অভিযান শুরু করে। বলা হয়েছিল, বহুসংখ্যক মানুষ হত্যা করার মতো অস্ত্র মজুদ আছে ইরাকে। সে রকম কিছু পাওয়া যায়নি, তা আজ সবারই জানা। বিষয়টি নিয়ে নির্মিত হয়েছে দুটি নতুন তথ্যচিত্র। এর মধ্যে একটি হলো চেক নির্মাতা গ্রেটা স্টকলাসার ‘‌ব্লিকস কস নট বম্বস’ ও ইরাকি নির্মাতা কাররার আল-আজওয়ির ‘‌বাগদাদ অন ফায়ার’। কোপেনহেগেন ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্টারি ফেস্টিভ্যালে (সিপিএইচ: ডক্স) এ দুই তথ্যচিত্র প্রচার করা হবে।

তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও প্রচার নিয়ে কাজ করে সিপিএইচ: ডক্স। এর প্রগ্রাম প্রধানের দায়িত্বে আছেন অভিনেতা ম্যাডস মিকেলসেন। নতুন দুটি তথ্যচিত্র নিয়ে তিনি বলেন, ‘‌এ আক্রমণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি একটি নতুন রূপ পেয়েছিল। গত দুই দশকে রাজনৈতিক অবস্থা বদলে গেছে।’ সে কারণেই ইরাকের ঘটনা নিয়ে আলাদা করে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তাই তথ্যচিত্র দুটোর প্রতি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

ব্লিকস নট বম্বস মূলত হ্যান্স ব্লিকসকে নিয়ে নির্মিত। তিনি ছিলেন জাতিসংঘের মনিটরিং, ভেরিফিকেশন ও ইন্সপেকশন বিভাগের প্রধান। তাকে ২০০২ সালে ইরাকে পাঠিয়ে সেখানকার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল। ব্লিকস রিপোর্ট করেছিলেন, গণহত্যা করার মতো অস্ত্র ইরাকে তৈরি হচ্ছে, এমন কোনো চিহ্ন তিনি পাননি। এর পরও আমেরিকা আক্রমণ করে ইরাকে। তাই জীবনের এ পর্যায়ে এসে ব্লিকস নিজেকে বারবার প্রশ্ন করেন, তিনি এ আক্রমণ থামানোর যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন কিনা।

তথ্যচিত্রটি নিয়ে স্টকলাসা কাজ করার সময় ভ্যারাইটিকে বলেছিলেন, ‘‌হ্যান্সের গল্পটা কেবল এজন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় যে এটি ইতিহাস বদলে দেয়া ঘটনার নেপথ্যের কথা। বরং এর মধ্য দিয়ে কূটনীতি ও কূটনীতিকদের সীমাবদ্ধতার একটি ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে আদর্শের দ্বিধা এলে তা কীভাবে প্রভাব ফেলে এর প্রমাণও পাওয়া যায়। 

অন্যদিকে ‘‌বাগদাদ অন ফায়ার’ ১৯ বছর বয়সী একজন অ্যাকটিভিস্ট নেতা তিবা ও তার বন্ধুদের গল্প বলে। তারা বাগদাদের তাহরির স্কয়ারে গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন করেছিল। কাদের ও ইউসুফের সঙ্গে তিবা একটি মেডিকেল ক্যাম্প তৈরির চেষ্টা করে যাদের টিয়ার গ্যাস থেকে বাঁচিয়ে সেবা দেয়া হবে।  

আল-আজওয়ি নিজে এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন অন্যতম অ্যাকটিভিস্ট। তথ্যচিত্রটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘‌আমি ও তিবা দুজনেই সত্যিটা দেখাতে চেয়েছিলাম যে বাগদাদে আসলে কী হচ্ছে। আমি একজন প্রত্যয়ী নারীকে দেখানোর চেষ্টা করেছি। সে ছিল আমার স্বপ্নের চরিত্র। একজন সাহসী ইরাকি নারী, যে স্বাধীনতা ও সুবিচারের জন্য লড়ছে। আমাদের জন্য এ সত্য দেখানো জরুরি যে ইরাকি নারীরা কেবল পরিস্থিতির বলি নয়, তারা লড়তেও জানে।’

দুটি তথ্যচিত্রই সিপিএইচ: ডক্সে এ মাসে দেখানো হবে। পাশাপাশি থাকছে ব্লিকস ও স্টকলাসার লাইভ কথোপকথন। বাগদাদ অন ফায়ার দেখানোর পরপর আল-আজওয়িও একটি লাইভ সাক্ষাৎকারে অংশ নেবেন। তার সঙ্গে থাকবেন ইরাকি মিডিয়া আউটফিট জুমারের সহ প্রতিষ্ঠাতা আইদা আল-কাইসি ও সাংবাদিক ওয়ালিদ শাফি।

সূত্র: ভ্যারাইটি