ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাক। বাংলা সিনেমায় তার অবদান ছিল অপরিসীম। নায়করাজ রাজ্জাকের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট পরপারে পাড়ি জমান তিনি। বাংলাদেশের অনেক তারকার অনুপ্রেরণার নাম রাজ্জাক।  দিনটিকে সামনে রেখে অনেক তারকাই কথা বলেছেন এ গুণী অভিনেতাকে নিয়ে। ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমা বলেন, ‘‌যতদূর আমার মনে পড়ে, আমি আমাদের চলচ্চিত্রের গর্ব নায়করাজ রাজ্জাক আংকেলের সঙ্গে আলমগীর কুমকুম পরিচালিত ‘জীবন চাবি’ সিনেমায় প্রথম অভিনয় করি। এরপর তার সঙ্গে ১৫-২০টি সিনেমায় অভিনয় করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। এমনকি তার নিজের প্রযোজনা সংস্থা থেকে তার নিজের পরিচালনায় ‘সন্তান যখন শত্রু’ ও ‘প্রেমের নাম বেদনা’ সিনেমায়ও অভিনয় করেছি। রাজ্জাক আংকেল আমাকে তার নিজের মেয়ের মতোই স্নেহ করতেন। ভীষণ আদর করতেন তিনি। তিনি ছিলেন আমাদের চলচ্চিত্রের অভিভাবক। তার সঙ্গে কাজ করতে পারার সুযোগ পাওয়াটা আমার চলচ্চিত্র জীবনের আশীর্বাদ ছিল। তিনি নেই, সত্যিই চলচ্চিত্র অভিভাবক শূন্যই মনে হয়। দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।’

অপু বিশ্বাস বলেন, ‘‌আমার সৌভাগ্য যে শ্রদ্ধেয় এফআই মানিক পরিচালিত নায়িকা হিসেবে আমার প্রথম সিনেমা ‘কোটি টাকার কাবিন’ সিনেমায় আমি রাজ্জাক আংকেলকে পেয়েছিলাম। তিনি আমাকে খুব স্নেহ করতেন।’ 

বিনোদন দুনিয়ার জনপ্রিয় মুখ অপূর্ব। নায়করাজকে নিয়ে বলতে গিয়ে এ অভিনেতা বলেন, ‘‌আমি সেভাবে আসলে সিনেমার শিল্পী নই। নাটকেই আমাকে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তবে সিনেমায় অভিনয় করেছি। আমার প্রথম সিনেমা ছিল ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’। সিনেমাটি মুক্তির আগে আমি তার আশীর্বাদ নিতে তারই বাসা ‘লক্ষ্মী কুঞ্জ’তে গিয়েছিলাম। মনে আছে, সেদিন তিনি সকাল ১০টায় তার সঙ্গে নাশতা করতে বলেছিলেন। আমি ও জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া তার দেয়া সময়েই তার বাসায় উপস্থিত হয়েছিলাম। তিনি আমাদের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বললেন। আমাদের দুজনকে দোয়া করে দিয়েছিলেন। তার সঙ্গে কাটানো সেই সময়টা এখনো স্মৃতিতে উজ্জ্বল। আর আমার সৌভাগ্য হয়েছিল রাজ্জাক আংকেলের সঙ্গে চয়নিকা চৌধুরী দিদি পরিচালিত ‘ধ্রুবতারা’ টেলিফিল্মে কাজ করার। এই একটা কাজই আমার করার সুযোগ হয়েছিল। তার কাছ থেকে অভিনয়ের অনেক কিছু শেখারও সুযোগ হয়েছিল। দোয়া করি, আল্লাহ যেন রাজ্জাক আংকেলকে বেহেশত নসিব করেন।’

ঢাকাই সিনেমার আর এক নায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, ‘‌আমার সৌভাগ্য হয়েছিল রাজ্জাক আংকেলের নির্দেশনায় একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পের নাটকে অভিনয় করার। নাটকটির নাম ছিল ‘আমি যুদ্ধে যাবো’। আংকেলকে সহশিল্পী হিসেবে হয়তো অনেকেই পেয়েছেন। কিন্তু তার নির্দেশনায় কাজ করতে পারাটা আমার কাছে একটু বেশি রোমাঞ্চকর মনে হয়েছিল। আংকেল আমাকে খুব স্নেহ করতেন।’

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক। ১৯৬৬ সালে জহির রায়হান পরিচালিত ‘‌বেহুলা’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ এ অভিনেতার। এতে তিনি অভিনয় করেন লখিন্দরের চরিত্রে, আর তার বিপরীতে বেহুলা ছিলেন সুচন্দা। বাংলাদেশের বাইরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও জনপ্রিয় ছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক।