প্রচলিত ঘরানার চেয়ে ব্যতিক্রমী ও স্বতন্ত্র সব সিনেমা নির্মাণের মাধ্যমে বলিউডে নিজের পরিচিতি গড়েছেন অনুরাগ কাশ্যপ। তৈরি হয়েছে আলাদা ভক্তকুল। তারকা নির্বাচনের মাধ্যমে সিনেমা হিট করানোর সহজ পথে হাঁটেননি তিনি। তার সিনেমায় গল্প আর অভিনয়ই মূল বিষয়। কে করল, তা বড় কথা নয়। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ারের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’ খ্যাত এ নির্মাতা।

ফিল্ম ফেস্টিভ্যালগুলোয় নিয়মিত দেখা যায় অনুরাগ কাশ্যপকে। এ ব্যাপারে তার মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যেতে পছন্দ করেন এবং অন্য পরিচালকদের নির্মিত সিনেমা দেখতে যান। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিটি ফেস্টিভ্যালে যাই এবং দিনে চার-পাঁচটি সিনেমা দেখি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আমার পরিচালক বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে প্রাণবন্ত আড্ডায় মেতে উঠি।’

নিজের কাজ থেকে বিচ্ছিন্নতা অনুভব করেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে অনুরাগ কাশ্যপ জানান, তিনি তার কাজের সঙ্গে খুবই সম্পৃক্ত। কিন্তু তিনি প্রতিটি কাজকে পেছনেই ফেলে আসেন। তা না হলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ নির্মাতা। তিনি বলেন, ‘একটি সিনেমার সঙ্গে অতিমাত্রায় সম্পৃক্ত হলে সেটিকে ঘিরে অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়। তখন সিনেমাটি জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে। সেসব প্রত্যাশা পূরণ না হলে, জীবনে নানা ধরনের তিক্ততা তৈরি হয়। আমি তা কখনই চাই না। আমি বরং ইতিবাচক থেকে আমার পরবর্তী কাজে মনোনিবেশ করি।’ সিনেমা নির্মাণ প্রসঙ্গে অনুরাগ কাশ্যপ জানান, ভালো একটি কাজ করতে, ভালো একটি চিত্রনাট্য লিখতে অনেক সময় দিতে হয়।

ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সারা বিশ্বের চমৎকার সব সিনেমা প্রদর্শিত হয়। এসব সিনেমা দেখে কোনো হীনন্মন্যতা তৈরি হয় কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে অনুরাগ কাশ্যপ বলেন, ‘আমার মধ্যে কোনো হীনন্মন্যতা কাজ করে না। এসব সিনেমা দেখে আমি অনুপ্রাণিত হই।’ তিনি আরো জানান, তখন তার মনে হয় ভারতের পরিবর্তে অন্য কোথাও জন্ম হলে হয়তো ভালো হতো। অনুরাগ কাশ্যপ মনে করেন, তার সিনেমা সারা বিশ্বের দর্শক, এমনকি তামিলনাড়ু ও কেরালার দর্শক-নির্মাতারা যেভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পারে, হিন্দি দর্শকরা তেমনভাবে তার কাজগুলো বুঝতে পারে না। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে প্রায়ই আমাকে যেতে হয়। কিন্তু আমার জন্ম এখানে। আর আমার সিনেমাগুলো হিন্দিতেই হবে। এ কারণেই হলিউডে কাজ করার সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও আমি সেখানে যাইনি। আমি এখানে যেভাবে আমার গল্পগুলো বলতে পারি, অন্য কোথাও সেভাবে পারব না।’

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস