কলকাতার জনপ্রিয় উপস্থাপক ও অভিনেতা মীর আফসার আলী সপ্তাহ খানেক আগে বাংলাদেশে এসেছেন। ফুডকা নামের একটি ফুড ভ্লগিং প্রজেক্টের কাজেই তার এ ভ্রমণ। বাংলাদেশে এসে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন, খাওয়াদাওয়া করেছেন। সেই খাবারের ভিডিও ধারণ করে নিয়েছেন।
মীরের আসার খবর শুনে তার এ দেশী ভক্তদের মাঝে বিরাজ করছে উত্তেজনা। রাস্তাঘাটে যখনই বের হচ্ছেন, তখনই ভক্তদের ভিড়ে পড়ছেন। লাইন ধরে সেলফি তুলতে আসছেন তরুণ-তরুণীরা। এমনকি ঢাকায় আসার তিনদিনের মাথায় অন্তত ৩০০ দাওয়াত পেয়েছেন মীর ও তার সঙ্গীরা। যদিও কাজের খাতিরে সেসব দাওয়াত রক্ষা করতে পারছেন না তারা। বাংলাদেশের মানুষের এত ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত মীর। এ ভালোবাসা ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না তার। সেজন্য বাংলাদেশের নাগরিকত্ব চেয়েছেন। একটি টিভি সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর এ অনুরোধ জানান মীরাক্কেলখ্যাত তারকা উপস্থাপক। মীর বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য আমার পক্ষ থেকে একটা অনুরোধ রেখে যাচ্ছি। একেবারে ওপর মহল পর্যন্ত অনুরোধটা রাখব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার অনুরোধ, ফুডকা মানে ইন্দ্রজিৎ লাহিড়ী (মীরের সফরসঙ্গী) আর আমাকে এখানে স্থায়ী নাগরিকত্ব দিয়ে দিন। আমরা এখানে থেকেই যাই। কারণ এত আদর, এত আপ্যায়ন, এত খাতির পাওয়ার পর সত্যিই বাড়িকে আর মিস করি না। এই একটা দেশে এসে মায়ের হাতের রান্না ভুলে যাই।’
এরই মধ্যে মাওয়া ঘাটের তাজা ইলিশ খেয়েছেন মীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে স্বাদ নিয়েছেন স্ট্রবেরি ভর্তা ও ভেলপুরির। আবার তেঁতুলের চা খেয়েও ভিন্ন স্বাদ নিয়েছেন। গিয়েছেন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিউটি বোর্ডিংয়ে।
ঢাকার খাবার খেয়ে মুগ্ধতার কথা জানাতে গিয়ে মীর বলেন, ‘পৃথিবীর বেশকিছু দেশে ঘুরেছি। ঢাকা শহরের মতো, বাংলাদেশের মতো এত আতিথেয়তা অন্য কোথাও পাইনি। সত্যিকার অর্থেই বলছি, বাংলাদেশের আতিথেয়তা জান্নাতের সমান। খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে যদি কোনো স্বর্গ থেকে থাকে, তাহলে সেটা অবশ্যই বাংলাদেশ।’
বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত মীর ঢাকার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘ঢাকা বিমানবন্দরে নামার পর থেকে এত মানুষের আবদার, এত ভালোবাসা, যেটা শুরু হয় শুধু একটা সেলফির অনুরোধ দিয়ে, দারুণ এনজয় করছি। প্রতিদিন হাজার হাজার সেলফি তুলতে হচ্ছে। থামতে চাইছে না মানুষ। জড়িয়ে ধরছে। হাতটা ধরে বলছে, আমাদের অনেক ডিপ্রেশনের সময়, মন খারাপের সময় আপনি আমাদের পাশে থেকেছেন। আপনার পড়া গল্প না শুনলে আমাদের রাতে ঘুম আসে না। এটা নিশ্চয়ই বড় প্রাপ্তি। সফরসঙ্গী সুকান্তকে সেদিন বললাম, ২৭ বছর ধরে মেহনত করেছি শুধু এই ভালোবাসা পাওয়ার জন্য।’
বাংলাদেশের ফুড ভ্লগারদের জন্য পরামর্শ চাইলে মীরাক্কেল উপস্থাপক বলেন, ‘ভ্লগারদের স্টোরিটেলার হতে হবে। খাবারের গল্প কত আকর্ষণীয়ভাবে লোকজনের সামনে তুলে ধরা যায়, সে বিষয়ে তারা যতটা আগ্রহ দেখাবেন, তাদের সাবস্ক্রিপশনও সেই অনুপাতে বাড়বে। এই একটা দোকানে ঢুকলাম, খাবার নিলাম, খেলাম, শুধু ওটাতে থেমে থাকলে হবে না। আরো গভীর কিছু তুলে আনতে হবে।’
উল্লেখ্য, অনেকদিন ধরেই ফুডকা প্রজেক্টটি নিয়ে কাজ করছেন মীর ও ইন্দ্রজিৎ লাহিড়ী। ভারতের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে তারা খাবার খাচ্ছেন এবং সেই খাবারের গল্প ও অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এলেন বাংলাদেশে। ঢাকা সফর সেরে গতকাল তারা উড়াল দিয়েছেন কক্সবাজার। সেখানেও বিভিন্ন খাবারের স্বাদ নেয়ার পাশাপাশি ভিডিও ধারণ করবেন ফুডকা ও তার ভাইপো।










