ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অ্যাকশন হিরো হিসেবে ভক্তদের মাঝে জনপ্রিয় সানি দেওল। অভিনয়ে ৪০ বছরে পা রেখেও ফুরোয়নি তার আবেদন। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘গদর টু’ সিনেমা দিয়ে আরো একবার তা প্রমাণ করলেন তিনি। অভিনয়ের জন্য বেশ প্রশংসিত হচ্ছেন। পাচ্ছেন ভক্তদের হৃদয়সিক্ত ভালোবাসা। আর সেই সঙ্গে তরতরিয়ে বাড়ছে সিনেমার আয়। মুক্তি পাওয়ার দিনই ৪০ কোটি রুপি আয়ের মাধ্যমে বক্স অফিসে যাত্রা করে গদর টু। আটদিন পেরিয়েও (শুক্রবার পর্যন্ত) বক্স অফিসে সিনেমাটির ইতিবাচক অভিযাত্রা জারি আছে। প্রথম সপ্তাহে ভারতে আয়ের দিক থেকে ৩০০ কোটি রুপির মাইলফলক অতিক্রম করে এ সিনেমা। আটদিন পেরিয়ে সিনেমাটির আয় ৩৩৫ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। বৈশ্বিক বাজার থেকে এর এখন পর্যন্ত আয় ৩৩ কোটি রুপি। দ্বিতীয় সপ্তাহেও ইতিবাচক ব্যবসা ধরে রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে গদর টু।

প্রায় একই সময়ে মুক্তি পেয়েছে বলিউডের দুটি সিনেমা ‘ওএমজি টু’ ও ‘রকি আউর রানি কি প্রেম কাহানি’। যথাক্রমে অক্ষয় কুমার ও রণবীর সিং-আলিয়া ভাট অভিনীত সিনেমা দুটির মধ্যে চলমান প্রতিযোগিতার মধ্যেই গদর টু নিয়ে সিনেমা হলের পর্দায় আসেন সানি দেওল। এসেই করলেন বাজিমাত। মুক্তির পর ব্যবসাসফল একটি সপ্তাহ পার করল সিনেমাটি। গদর টু পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন অনিল শর্মা। চিত্রনাট্য লিখেছেন শক্তিমান তলোয়ার। মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানি দেওল, আমিশা প্যাটেল ও উৎকর্ষ শর্মা। তাদের যথাক্রমে তারা সিং, সাকিনা আলী সিং ও চরণজিৎ সিং চরিত্রে দেখা যাবে। তারা সিংয়ের স্ত্রী সাকিনা, যিনি সাক্কু নামে পরিচিত। আর তাদের পুত্র চরণজিৎ সিং, যাকে সবাই ‘জিতে’ নামেই চেনে। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন গৌরব চোপড়া, রাকেশ বেদীর মতো অভিনেতারা। ১১ আগস্ট মুক্তি পায় গদর টু। বলিউড বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুসারে, দ্বিতীয় সপ্তাহেও সাফল্যের সঙ্গে বক্স অফিসে ব্যবসা করবে অনিল শর্মা পরিচালিত এ সিনেমা। এখন পর্যন্ত ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া হিন্দি সিনেমার মধ্যে এ সিনেমার আয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর চলতি বছর মুক্তি পাওয়া ভারতীয় সিনেমার মধ্যে গদর টুর আয় তৃতীয় সর্বোচ্চ। 

২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গদর: এক প্রেম কথা’ সিনেমার সিকুয়াল গদর টু। সিকুয়ালের মতো গদরকেও মুক্তির সময় প্রতিযোগিতা করতে হয়েছিল আমির খান অভিনীত ‘লগান’ সিনেমার সঙ্গে। সেবারও হতাশ করেনি গদর। লগান ও গদর সিনেমা দুটিই বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম ল্যান্ডমার্ক সিনেমার উদাহরণ হয়ে আছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে ভালো ব্যবসা করেছিল গদর। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল লগান। অস্কারের জন্য মনোনয়নও পেয়েছিল সিনেমাটি। মূল সিনেমার মতো সিকুয়ালটিও তারকাসমৃদ্ধ সিনেমার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বক্স অফিসে ব্যবসা করছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস