হরিয়ানার গুরগাঁওয়ে বিখ্যাত পতৌদি প্যালেস। নবাবী আমলের পুরনো জৌলুস এখনো রয়েছে সেখানে। এর মধ্যে সে প্রাসাদ থেকে ভারত পেয়েছে ক্রিকেটার, তারপর সিনেমা জগতের সুপারস্টার। মনসুর আলী খানের মধ্যে পতৌদির নবাবির যে রেশ ছিল তা সাইফও ধরে রেখেছেন। তবে পতৌদির প্রাসাদ মূলত সৌন্দর্যের আধার। সে সৌন্দর্য ও জৌলুসের চিত্র তুলে ধরেছেন সাইফ আলী খান। তার ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘হাউজ অব পতৌদি’র বিজ্ঞাপনের দৃশ্যধারণ করা হয়েছিল পতৌদির প্রাসাদে। সেখানে ঐতিহ্যবাহী এ প্রাসাদের অভ্যন্তরীণ সজ্জার অংশবিশেষ প্রকাশ হয়।
প্রাসাদের সামনে রয়েছে লন ও সুদৃশ্য ফোয়ারা। সাদা দালানের সামনে সবুজের মাঝে ব্রোঞ্জ রঙের ফোয়ারাটি আভিজাত্যের চিত্র তুলে ধরে। ভেতরের হলগুলোও দৃষ্টিনন্দন। প্রতিটি হলের দুদিকের দেয়াল পুরনো চিত্রকর্ম ও ফটোগ্রাফে সজ্জিত। চমৎকার কাচের ফ্রেমে বাঁধা প্রতিটি ছবি ও পেইন্টিং। মেঝেতে সাদাকালোয় দাবার বোর্ডের মতো টাইলস। বসার ঘর সাজানো অনেকগুলো গোলাপি সোফায়। ফায়ারপ্লেসের ওপরে বিশাল একটি আয়না। উইন্ডো সিটে ফুলের নকশা করা গোলাপি কুশন। প্রতিটি কোনা বিশেষ ধরনের চিত্রকর্ম, ফুলদানি দিয়ে সাজানো।
ঘরের সঙ্গে মিলিয়ে বিজ্ঞাপনের জন্য ডিজাইন করা সাইফের পোশাক। তার পরনে থাকা শেরোয়ানি থেকে পাঞ্জাবি, সবই বিশেষভাবে দেখানো হয়েছে। কেননা এ বিজ্ঞাপন মূলত পোশাকের ব্র্যান্ডের। কিন্তু সেখানেও প্রাসাদটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘ঘর মানে যেখানে হাঁটতে গিয়ে প্রতি বাঁকেই কোনো না কোনো স্মৃতি ফিরে আসে।’ ১ মিনিটের ভিডিওতে সাইফ নিজেই তার বাড়ির বিভিন্ন অংশ ঘুরে বেড়ান এবং মনে হয় দর্শককে তিনিই গাইড হয়ে পুরো বাড়ি ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন। যদিও নির্দিষ্ট কিছু অংশই দেখানো হয়েছে এখানে। তবে মাথায় রাখা হয়েছে পতৌদির নবাবি, পরিবার ও প্রাসাদের আভিজাত্য।
পতৌদির নবাব ও ভোপালের বেগমের বিয়ের পর নবাব একটি নতুন প্রাসাদের প্রয়োজন অনুভব করেন। পতৌদির অষ্টম নবাব ইফতেখার আলী খানের অনুরোধে রবার্ট রাসেল এ প্রাসাদের নকশা করেন। বর্তমানে এ প্রাসাদের মালিকানা উত্তরাধিকার সূত্রে সাইফ আলী খানের হাতে এসেছে। তবে প্রাসাদের ছোট ছোট ঝলক এ ভিডিওতে দেখা গেলেও এর পূর্বে প্রাসাদে বহু হিন্দি সিনেমার শুটিং হয়েছে। এমনকি সাইফ আলী খান অভিনীত সিরিজ তাণ্ডবে দেখানো সমর প্রতাপের বাড়িটি আসলে পতৌদি প্যালেস।
চোখ ধাঁধানো ঝাড়বাতির নিচে পূর্বসূরিদের ছবি, মনসুর আলী খানের ক্রিকেটার বেশ, সেসব ছুঁয়ে দেখছেন সাইফ। বিজ্ঞাপনেও সাইফের আবেগের ছাপটা পাওয়া যায়। সাইফ তার পূর্বপুরুষ ও পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করেন কিন্তু অহংকার করেন না। এশিয়ান এজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি একজন সাধারণ ছেলের মতো বড় হয়েছি। নবাবি চলে গেছে অনেক আগে, আমি তা পাইনি। আমার বাবা ছিলেন পতৌদির শেষ নবাব। তিনিও নিজেকে সে অর্থে নবাব মনে করতেন না।’ সাইফ তার নবাবি পরিচয়ের তুলনায় অভিনেতা পরিচয়েই স্বচ্ছন্দ।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস










