টলিউড ও বলিউডের শক্তিমান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। ১৯৭৬ সালে ‘‌মৃগয়া’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বলিউডে অভিষেক তার। এ সিনেমার জন্যই তিনি প্রথমবার ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিলেন। ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সিনেমাই এ অভিনেতার বক্স অফিস হিট। তার সঙ্গে বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনের বন্ধুত্বের কথা সবারই জানা। বহুদিনের এ বন্ধুত্বের সুত্রপাত কোথায়, তা নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন মিঠুনের ছোট ছেলে নমসী চক্রবর্তী। ব্যাড বয় সিনেমা দিয়ে শিগগির বলিউডে অভিষেক হয়েছে নমসীর। 

সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে একটি সাক্ষাৎকারে মিঠুন ও অমিতাভের বন্ধুত্বের সূচনার গল্প বলেছেন তিনি। নমসী জানান, ‘‌মৃগয়া’ সিনেমাটির সাফল্যে মিঠুন রাজশ্রী প্রডাকশনের ‘‌তারানা’ সিনেমায় যুক্তিবদ্ধ হন। ওই সিনেমায় তার সঙ্গে আরো অভিনয় করেছিলেন রঞ্জিতা কৌর। সে সময় রঞ্জিতা একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন, তাই শুটিং সেটে তার যাতায়াতের জন্য ওই সিনেমার প্রডাকশন থেকে একটি গাড়ি ও ভ্যানিটি ভ্যানের ব্যবস্থা ছিল। অন্যদিকে মিঠুনের যাতায়াতের জন্য টেম্পো দেয়া হয়েছিল। ‘‌তারানা’ যেখানে শুটিং চলছিল, তার পাশেই ‘‌নটওয়ারলাল’ সিনেমার শুটিংয়ে ছিলেন অমিতাভ। এখানেই দেখা হয় দুই শক্তিমান অভিনেতার। ওই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নমসী বলেন, ‘‌অমিতাভ বচ্চন সে সময়ে আমার বাবাকে টেম্পোতে প্রডাকশনের লোকদের সঙ্গে বসে থাকতে দেখেছিল। তিনি নিজেই বাবাকে প্রশ্ন করেন আপনি মিঠুন, মৃগয়া থেকে? আপনি কি সে অভিনেতা? জবাবে বাবা বলেছিলেন, ‘‌‘‌হ্যাঁ, বচ্চন সাহেব।’’ পাল্টা প্রশ্ন করে অমিতাভ বচ্চন বাবার কাছে জানতে চান, তিনি ক্রুদের সঙ্গে কেন, গাড়ি কি ভেঙে গেছে কিনা। কিন্তু বাবা সাবলীলভাবে জবাব দিয়েছিলেন যে তার কোনো গাড়ি নেই। এরপর অমিতাভ বচ্চন বাবাকে তার নিজের গাড়িতে নিয়ে যান। এ থেকেই তাদের বন্ধুত্ব শুরু। আজ তাদের বন্ধুত্বের ৪৫ বছর হয়ে গেছে।’

এরপর অমিতাভ বচ্চন ও মিঠুন চক্রবর্তী একসঙ্গে অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম মুকুল আনন্দের ‘‌অগ্নিপথ’। এছাড়া রয়েছে ‘‌গঙ্গা যমুনা সরস্বতী’ সিনেমাটি।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস