বর্তমান বলিউডের প্রশংসিত চিত্রনাট্যকারের তালিকায় আছেন সুমিত অরোরা। ৩৬ বছর বয়সী এ তরুণের গল্পে তৈরি হয়েছে ‘জওয়ান’। সিনেমাটির সাফল্য নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। ‘স্ত্রী’ (২০১৮) সিনেমার চিত্রনাট্যের জন্য জিতেছিলেন সেরা স্ক্রিন রাইটারের পুরস্কার। তবে সুমিত কেবল সিনেমা নয়, লিখেছেন বেশকিছু ওয়েব সিরিজ ও টেলিভিশন ধারাবাহিকের গল্পও। ২০২১ সালের দর্শকপ্রিয় ওটিটি সিরিজ ‘ফ্যামিলি ম্যান’-এর পরপর দুই সিজনের সংলাপ লিখেও প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালের ওয়েব সিরিজ ‘সিলেকশন ডে’ ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক। সম্প্রতি স্ক্রলের সঙ্গে নিজের কাজ ও অভিজ্ঞতার নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সুমিত।
তিনি যেহেতু অনেক বছর ধরেই কাজ করছেন বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে, সে জায়গা থেকে জানিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতা। দর্শক কী দেখতে চান সে প্রসঙ্গে সুমিত বলেন, ‘বর্তমানে যেহেতু দর্শক চাইলে এক ক্লিকেই অনেক ভালো ভালো মানের কাজ দেখতে পারেন বা সে সুযোগ রয়েছে, তাদের ভালো মানের কাজের চাহিদাও বাড়ছে। সবচেয়ে বড় বিষয় এর মধ্যে নিজের পরিবারই রয়েছে। মানুষ সহজেই সাবটাইটেল বা ভাষান্তরিত কাজগুলোও দেখতে পারছে।’
এর সঙ্গে তিনি আরো যোগ করেছেন, দর্শক নতুন কিছু চায়, তবে তা নিজের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে বা ভারতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সংযুক্ত এমন কিছু হতে হবে। এ কথা সুমিত বলতেই পারেন, কেননা দর্শকের পছন্দ তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন। ২০০৯-১০ সালের কথা বলা যায়, সবচেয়ে জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘দিল মিল গ্যায়া’ থেকে তার অভিজ্ঞতা শুরু। সুমিত অরোরা কাজ করেন রাজ অ্যান্ড ডিকের সঙ্গে। তারা তৈরি করেছেন ‘ফ্যামিলি ম্যান’ ও ‘গানস অ্যান্ড গুলাবস’-এর মতো সিরিজ।
সিনেমা ও সিরিজ নিয়ে সুমিত বলেন, ‘বড় পর্দার সব কিছুই দর্শক অনেক বেশি উপভোগ করতে পারেন। আমি স্যাটায়ার লিখতে ভালোবাসি, তবে অবশ্যই তা ভালো কোনো কিছুকে সমর্থন করে হতে হবে।’ সিরিজ হোক বা সিনেমা, গল্প লেখার সময় সুমিত আগে ভাবেন দর্শক কীভাবে বিষয়টি উপভোগ করবে। জওয়ান ও স্ত্রীর গল্প লেখার সময়ও সেসব বিষয় মাথায় রেখেছেন তিনি।
এছাড়া সুমিত অরোরা কথা বলেছেন তার সাম্প্রতিক কাজ ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’ নিয়ে। ২০২৪ সালের স্পোর্টস ড্রামা সিনেমা চান্দু চ্যাম্পিয়ন। তবে মুক্তির প্রায় দেয় মাস পেরিয়ে গেলেও বক্স অফিস কালেকশন খুব বেশি নয়। সুমিতকে প্রশ্ন করা হয়েছে, কেন সিনেমাটি ভালো করতে পারেনি। জবাবে তিনি বলেন, ‘সিনেমাটি একজন ভারতীয় প্যারালিম্পিক স্বর্ণপদক বিজয়ী মুরলিকান্ত পেটকারের গল্প। সিনেমা হলে যেসব দর্শক গেছেন সবাই প্রশংসা করেছে। তবে ইতিহাস বলে এ ধরনের গল্প ধীরে ধীরে দর্শক পায়। কারণ এ গল্পে ড্রামাটিক বা রসালো কিছু থাকে না। এটি জীবনের গল্প।’
এছাড়া প্রথমবারের মতো তামিল পরিচালক অ্যাটলির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে সুমিতের জওয়ান করতে গিয়ে। আসছে ‘বেবি জন’, যেখানে আরো একজন তামিল নির্মাতা কালেসের সঙ্গে তিনি কাজ করবেন। সে জায়গা থেকে জানিয়েছেন দক্ষিণী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে তার কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে। এ নিয়ে সুমিত বলেন, ‘বেবি জনে কাজ করতে গিয়ে বেশকিছু মজাদার অভিজ্ঞতা হয়েছে। একেবারেই ভিন্ন সবকিছু। নির্মাতারা চেয়েছেন অনেক বেশি ইমোশনাল গল্প। এটি এতটা সহজ ছিল না। বলা যায়, এসব কিছুই শিল্প, ভিন্ন রকমের শিল্প। হিন্দি সিনেমায় বেশির ভাগ গল্পের নানা মুহূর্ত অন্য গল্পের অনুকরণে তৈরি। কিন্তু এ বিষয়গুলো হওয়া উচিত স্বতঃস্ফূর্ত।’
টেলিভিশনে ধারাবাহিকের গল্প লেখা থেকে কীভাবে সিনেমার গল্প নির্মাণের অংশ হয়েছেন এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার মধ্যে যেটুকু সাহিত্যরস আছে তা আমার মায়ের জন্যই। ছোট থেকেই আমি অনেক বই পড়েছি। আমার বাবার পছন্দ ছিল হিন্দি সিনেমা। সেখান থেকেই আমার টেলিভিশন, সিনেমা ও সিরিজের গল্প লেখা।’
স্ক্রলডটইন অবলম্বনে ফারিহা আজমিন










