সুচিত্রা সেনকে কে না চেনে। বাঙালি এ অভিনেত্রীকে একসময় গ্রেটা গার্বোর সঙ্গে তুলনা করা হতো। পঞ্চাশের দশক থেকে সত্তরের দশকের সূচনাকাল পর্যন্ত তিনি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। বাংলা সিনেমার পাশাপাশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন হিন্দিতেও। এর মধ্যে দিলীপ কুমার অভিনীত বিমল রায় পরিচালিত দেবদাস অন্যতম। সিনেমা বাছাইয়ের ব্যাপারে খুব খুঁতখুঁতে ছিলেন সুচিত্রা। নিজের কাজের প্রতিশ্রুতি রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো রকম আপস করতেন না তিনি। একটি কথা সিনেমাপ্রেমীদের জানা যে সত্যজিৎ রায় চেয়েছিলেন, সুচিত্রা কেবল তার সিনেমায়ই অভিনয় করুন। কিন্তু সে সময় অন্য নির্মাতাদের সঙ্গে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকায় তিনি সত্যজিতের মতো পরিচালককে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এখানেই শেষ নয়। হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করলেও তিনি রাজ কাপুরের সঙ্গে অভিনয় করতেও অসম্মত হয়েছিলেন।

বিমল রায়ের দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৫৫ সালে। সিনেমাটি প্রশংসিত হয়েছিল। তবে হিন্দি সিনেমার ক্ষেত্রে সুচিত্রা পরিচিতি পেয়েছিলেন গুলজারের আন্ধি সিনেমার জন্য। ইন্দিরা গান্ধীর জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি সিনেমাটির গল্প। এ সময় রাজ কাপুরও সুচিত্রা সেনকে তার সিনেমায় অভিনয়নের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি রাজি হননি। রাজ কাপুরের ব্যক্তিত্ব তার পছন্দ ছিল না।

অমিতাভ চৌধুরীর ‘‌‌আমার বন্ধু সুচিত্রা সেন’ বইয়ে এমন তথ্য রয়েছে। এ বইয়ের জন্য একটি কথোপকথনে সুচিত্রা ঘটনাটি জানিয়েছিলেন। রাজ কাপুরকে তিনি তৎক্ষণাৎ না বলে দিয়েছিলেন। সুচিত্রা বলেন, ‘‌পুরুষের মধ্যে আমি সৌন্দর্য খুঁজি না। বুদ্ধিমত্তা আর কথোপকথনে স্বচ্ছতা দেখি। রাজ কাপুরের প্রস্তাব সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যাখ্যান করেছিলাম।’ রাজ কাপুরের মতো একজন নায়ক ও পরিচালককে সুচিত্রা এত সহজেই কেন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

রাজ কাপুরের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গে সুচিত্রা বলেন, ‘‌একটি চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব নিয়ে তিনি আমার বাড়ি এসেছিলেন। যখন আমি কথা বলতে বসলাম, তিনি হুট করে এক তোড়া গোলাপ নিয়ে আমার পায়ের কাছে বসে পড়েছিলেন। আমি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। তার ব্যক্তিত্ব আমার ভালো লাগেনি।’

অন্যদিকে একই বইয়ে পাওয়া যায় সঞ্জীব কুমারের সঙ্গে তার ভালো বন্ধুত্ব হয়েছিল। সুচিত্রা বলেন, ‘‌সঞ্জীব কুমারের সঙ্গে আমার ভালো বন্ধুত্ব হয়েছিল। চমৎকার একজন মানুষ ছিলেন তিনি। ভালো অভিনেতাও। কলকাতা এলে তিনি প্রতিবারই আমার বাড়ি ঘুরে গেছেন।’

সূত্র ও ছবি: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস