এবারের ঈদে বড় পর্দায় বিদ্যা সিনহা মিমের সিনেমা মুক্তির কথা থাকলেও শেষ সময়ে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনেন নির্মাতা। অন্যদিকে নাটকেও দেখা যায়নি এ অভিনেত্রীকে। তবে ওটিটি প্লাটফর্মে দেখা গেছে মিমকে। ঈদুল আজহার আগের দিন ওটিটি প্লাটফর্ম হইচইয়ে স্ট্রিমিং শুরু হয় ওয়েব সিরিজ ‘মিশন হান্টডাউন’-এর। অ্যাকশন থ্রিলার সিরিজটিতে বিদ্যা সিনহা সাহা মিম ও এফএস নাঈমকে দেখা গেছে ভিন্নভাবে। মিশন হান্টডাউন সিরিজটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন সানী সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদ।
এতে মাহিদ চরিত্রে এফএস নাঈম ও নীরা চরিত্রে বিদ্যা সিনহা মিম অভিনয় করেছেন। স্ট্রিমিংয়ের পরই দর্শকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সিরিজটির নির্মাতা ও কলাকুশলীরা। এতে মিম অভিনয় করেছেন গ্রামের সাধারণ মেয়ে নীরার চরিত্রে। নীরা তার নিখোঁজ স্বামীকে খোঁজার জন্য ঢাকায় আসে। এখান থেকেই এগিয়ে যেতে থাকে সিরিজটির গল্প। মিশন হান্টডাউন সিরিজটিতে নিজের চরিত্র নিয়ে মিম বলেন, ‘নীরা চরিত্রটিতে অভিনয় করতে পেরে ভালো লেগেছে। প্রথমে স্ক্রিপ্ট নিয়ে যখন আমার সঙ্গে যোগাযোগ হলো, কয়েকটি পর্ব পড়ার পর নীরা চরিত্রটা আমার ভালো লেগে যায়। আসলে চরিত্রটি সহজ-সরল এক নারীর, কিন্তু তার ব্যক্তিগত জীবন অনেক জটিলতার মধ্য দিয়ে যায়। এ চরিত্রের নিজস্ব যে একটা জটিলতা রয়েছে, সেটা আমার ভালো লাগার অন্যতম কারণ।’
দর্শকের প্রতিক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে মিম বলেন, ‘মিশন হান্টডাউন দিয়ে হইচইয়ে আমার যাত্রা হলো। প্রথম কাজে এত সাড়া পাব, ভালোবাসা পাব ভাবিনি। গল্পটা মানুষ দারুণভাবে এনজয় করছে। দর্শকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
অন্যদিকে ওয়েবমাধ্যমের নিয়মিত মুখ নাঈম মিশন হান্টডাউনে মাহিদ হয়ে হাজির হয়েছেন। মাহিদ অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত এসপি। তার ক্যারিয়ারের একটি কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়, যখন তার হেফাজতে থাকা এক জঙ্গি দুর্ঘটনাক্রমে নিহত হয়। ঘটনাক্রমে এর কিছুদিন পর সেই জঙ্গিকে নীরা নামে এক নারী তার নিখোঁজ স্বামী বলে দাবি করে মাহিদের কাছে। এরপর মাহিদ ও নীরার পেছনের আসল রহস্য নিয়েই এগিয়ে যায় ওয়েব সিরিজটি। সিরিজটি নিয়ে এফএস নাঈম বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে এর গল্পটা অনেক শক্তিশালী। এ গল্পের প্রতিটি স্তর রহস্যে ঘেরা, যেটি দর্শকদের প্রতিনিয়ত ভাবাচ্ছে। দারুণ সাড়া পাচ্ছি। সাধারণত ঈদে প্রচুর কনটেন্ট মুক্তি পায়। সেখানে মিশন হান্টডাউন দর্শকদের মন কাড়ছে, সেটাই আনন্দের।’
নিজের চরিত্র নিয়ে নাঈম বলেন, ‘আমার এখন পর্যন্ত প্রায় সব কাজই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে করা। হইচই ও পরিচালক সানী সানোয়ার আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, এ কাজে তার যথাসাধ্য মূল্য দেয়ার চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করেছি মনে-প্রাণে মাহিদ চরিত্রটি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার। পরিচালক ও আমি চরিত্রটি নিয়ে অনেক আলোচনা করেছি। দিন শেষে মাহিদ একটি খুব মানবিক চরিত্র, গতিশীল চরিত্র। আশা ছিল, দর্শক মাহিদের জার্নি পছন্দ করবে।’
মিশন হান্টডাউনের অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুমিত সেনগুপ্ত, এ কে আজাদ সেতু ও সরকার রওনক রিপন। সিরিজটি নিয়ে হইচইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিরিজটির এডিট করেছেন ভারতের রবিরঞ্জন মৈত্র। সিরিজটির কালার গ্রেডিংয়ের কাজ করা হয়েছে ডলবি ভিশনে, যাতে দর্শক আরো উপভোগ করতে পারে।
ওয়েব সিরিজটি নিয়ে নির্মাতা সানী সানোয়ার বলেন, ‘মিশন হান্টডাউন নিয়ে অসাধারণ সাড়া পাচ্ছি। শতভাগ মানুষ কাহিনী পছন্দ করছে। নাঈম ও মিমের অভিনয়ের প্রশংসা করছে তারা। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়, গল্পটা মানুষকে পুরো সিরিজে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এর সিকুয়াল আসছে কবে, তাও অনেকে জানতে চাইছে। মুক্তির কয়েকদিনে মানুষের এ আগ্রহ দেখে আমি ও আমার টিম আনন্দিত ও অনুপ্রাণিত।’
গত মার্চে ওয়েব সিরিজটির ক্যারেক্টার লুক প্রকাশ করা হয়। ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে এর শুটিং করা হয়েছে।










