হলিউড অভিনেতা অ্যালান আরকিন আর নেই। ‘লিটল মিস সানশাইন’ সিনেমার জন্য পার্শ্ব চরিত্রে অস্কার পেয়েছিলেন তিনি। এছাড়া একাধিকবার মনোনয়ন পান ‘ক্যাচ-২২’ ও ‘এডওয়ার্ড সিজারহ্যান্ডস’-খ্যাত অভিনেতা। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মারা যান অ্যালান আরকিন। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

পিপল ম্যাগাজিনের কাছে দেয়া বিবৃতিতে খবরটি নিশ্চিত করেছে অ্যালানের ছেলে। তিনি লেখেন, আমাদের বাবা শিল্পী ও একজন মানুষ উভয়ই পরিচয়েই অনন্য প্রতিভাধর।

১৯৩৪ সালে নিউ ইয়র্কে এক ইহুদি অভিবাসী পরিবারে এই অভিনেতার জন্ম। মঞ্চে অভিনেতা হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু। ১৯৬৩ সালে ব্রডওয়ের ‘এন্টার লাফিং’-এ প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করে টনি অ্যাওয়ার্ড জেতেন। ১৯৬৭ সালের ওয়ার কমেডি ‘দ্য রাশিয়ানস আর কমিং, দ্য রাশিয়ানস আর কামিং’ ছিল প্রধান চরিত্রে তার প্রথম ছবি। এর জন্য সেরা অভিনেতার অস্কার মনোনয়ন পান। এরপর অড্রে হেপবার্নের সঙ্গে থ্রিলার ‘ওয়েট আনটিল ডার্ক’-এ খলনায়কের ভূমিকা তার পরিচিতি বিস্তৃত করে। ১৯৬৯ সালে ‘দ্য হার্ট ইজ আ লোনলি হান্টার’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে আরো একটি অস্কার মনোনয়ন পান। এছাড়া  ২০১৩ সালে ‘আরগো’ ছবির জন্য পার্শ্ব চরিত্রে মনোনয়ন পান তিনি।

বলা হয়ে থাকে, অ্যালান আরকিনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল চরিত্রটি আসে ১৯৭০ সালে। তবে ‘ক্যাচ-২২’ শিরোনামের ছবিটি যথাযথ সাড়া পায়নি। একই সময়ে কপ থ্রিলার ‘ফ্রিবি অ্যান্ড দ্য বিন’ ও অ্যাকশন কমেডি ‘দ্য ইন-লজ’ তার উল্লেখযোগ্য কাজ।

পরবর্তী দশকে টিভিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অ্যালান আরকিন। ১৯৮৭ সালের টিভি মুভি ‘এস্কেপ ফ্রম সোবিবোর’-এর জন্য এমি মনোনয়ন পান। অবশ্য মোট ছয়বার এমি মনোনয়ন পেলেও একবার জেতেননি। এরপর ‘এডওয়ার্ড সিজারহ্যান্ডস’ ও ‘গ্রোসে পয়েন্টে ব্ল্যাঙ্ক’সহ বেশ কিছু সফল ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন। তবে ২০০৭ সালের ‘লিটল মিস সানশাইন’-এ শেষ পর্যন্ত অস্কার জেতেন। এ ছবির জন্য বাফটা, স্ক্রিন গিল্ডসহ আরো কিছু পুরস্কার যোগ হয় তার ঝুলিতে।

আরকিন তিনবার বিয়ে করেছিলেন। সুজান নিউল্যান্ডারের সঙ্গে ১৯৯৪ সাল থেকে সংসার করছিলেন তিনি।