ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ড ২০২৩-এর প্রতিযোগিতার ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এবার বিজয়ীর মুকুট উঠেছে নন্দিনী গুপ্তের মাথায়। তার বাড়ি রাজস্থানে। প্রথম রানারআপ হয়েছেন দিল্লির শ্রেয়া পূজা। মণিপুরের থুনাওজাম স্ট্রেলা লুয়াং হয়েছেন দ্বিতীয় রানারআপ।

নন্দিনী গুপ্তের বয়স ১৯ বছর। তার মধ্যে সৌন্দর্যের সঙ্গে বুদ্ধিমত্তার চমৎকার সংযোগ ঘটেছে। ভারতের অন্যতম বড় কোচিং হাব কোটা থেকে তার যাত্রা। বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে তিনি পড়াশোনা করেছেন। সাফল্যের পথে যেকোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণে তিনি বদ্ধপরিকর।

ভারতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ড। এবার এ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ৫৯তম আসরের গ্রান্ড ফিনালের হোস্ট ছিল মণিপুর। ভারতের অনিন্দ্য সুন্দর এ রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলের খুমান লম্পক ইনডোর স্টেডিয়ামে এটি অনুষ্ঠিত হয়। ফিনালেতে নন্দিনীকে বিজয়ী ঘোষণার পর ফেমিনার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে তার ছবি পোস্ট করে লেখা হয়, ‘‌বিশ্ব, তিনি এলেন। নন্দিনী গুপ্ত এই মঞ্চ জয় করেছেন তার বুদ্ধিমত্তা ও সৌন্দর্য দিয়ে। আমরা অত্যন্ত গর্বিত এবং তাকে মিস ওয়ার্ল্ডের মঞ্চে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। তার সাফল্য কামনা করছি।’

তারকাবহুল এ অনুষ্ঠানে বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য উদযাপন করা হয়। ভারতীয় হার্টথ্রবদের অনবদ্য পারফরম্যান্স এ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে তোলে। কার্তিক আরিয়ান ও অনন্যা পাণ্ডের পারফরম্যান্স দর্শকদের মাতিয়ে রাখে। তবে অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল একটি পারফরম্যান্স। এতে আগের আসরের বিজয়ীরা অংশগ্রহণ করেন। সিনি শেঠি, রুবেল সাখাওয়াত, শিনাতা চৌহান, মনসা বারানসী, মণিকা শেওকান্ড, মনিয়া সিং, সুমন রাও ও শীবানী যাদবের পারফরম্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করে। তাদের পরনে ছিল চমৎকার কারুকাজ করা লেহেঙ্গা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মনীশ পল ও ভূমি পেড়নেকর। স্বতঃস্ফূর্ত হাস্যরসের মাধ্যমে তারা দর্শকদের মনোযোগ ধরে রেখেছিলেন। 

ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় ফ্যাশনসচেতন সেরা প্রতিযোগীদের বাছাই করা হয়। কয়েকটি রাউন্ডে এ প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়। এবারের প্রতিযোগিতায় ভারতের ৩০টি রাজ্য থেকে বিজয়ী হয়ে আসা সুন্দরী ও বুদ্ধিমতী প্রতিযোগীরা অংশ নেন। ফ্যাশন গ্রেটদের দুর্দান্ত সব ডিজাইনের পোশাকে নিজেদের সজ্জিত করে তারা দর্শকদের সামনে হাজির হয়। নম্রতা যোশিপুরা, রকি স্টার ও রবার্ট নওরেম তাদের অন্যতম। তাদের সাহায্যে সুন্দরী প্রতিযোগীরা ঐতিহ্যবাহী কস্টিউমে নিজেদের সাজায়। বিচারকদের একটি প্যানেলের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার ফল ঠিক করা হয়। এবারের বিচারক প্যানেলের অন্যতম সদস্য ছিলেন বলিউড অভিনেত্রী নেহা ধুপিয়া। অন্যদের মধ্যে ছিলেন ভারতের বক্সিং আইকন লাইসরাম সারিতা দেবী, কোরিওগ্রাফার টেরেন্স লিউয়িস, নির্মাতা ও লেখক হর্ষবর্ধন কুলকার্নি এবং ডিজাইনার রকি স্টার ও নম্রতা যোশিপুরা। জুরি প্যানেলের সঙ্গে প্রতিযোগীদের চমৎকার আলাপ হয়। তারা দৃঢ়প্রত্যয়ের সঙ্গে বিচারকদের সব প্রশ্নের উত্তর দেন।

ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিযোগীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তারা জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ীর তকমা অর্জনে রীতিমতো যুদ্ধে নেমে পড়েন। ২৯টি রাজ্য থেকে (দিল্লিসহ) প্রতিনিধিদের বাছাই করার জন্য সারা দেশে ট্যালেন্ট হান্টের আয়োজন করা হয়। আর সব ইউনিয়ন টেরিটরি থেকে (জম্মু-কাশ্মীরসহ) একজন প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া