চাঁপাইনবাবগঞ্জকে বাংলাদেশের আমের রাজধানী হিসেবে ধরা হয়। এখানকার মাটি ও জলবায়ু আম চাষের জন্য দারুণ উপযোগী। এখানকার মানুষ প্রত্যেকেই আম সংস্কৃতির ধারক-বাহক। সুস্বাদু ফল হিসেবে আম যেমন উপাদেয় তেমনি আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে সুস্বাদু আম একমাত্র উদাহরণ। শুধু মজাদার ফলই নয়, আমের ভেষজ গুণও বহু। আয়ুর্বেদিক ও ইউনানিশাস্ত্রে আমকে বলা হয় টনিক। মানবশরীরে শক্তি সৃষ্টি করতে আমের বিকল্প নেই।
আম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল। এখানকার আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণার নানা তথ্য ও উপাত্ত থেকে দেখা যায়, ফিবছর দেশে উৎপাদিত মোট আমের বেশির ভাগ আসছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুবিস্তৃত সব বাগান থেকে। কৃষি বিভাগের সূত্র মতে, ‘বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৯৩০ টন আম উৎপাদন হয়। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়ই উৎপাদিত হয় প্রায় দুই লাখ টন’। দেশে প্রতি বছর প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার আমের বাণিজ্য হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট দেশের সবচেয়ে বড় আমের বাজার। যেখানে মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ কোটি টাকার আম বেচাকেনা হয়। পরিসংখ্যান হিসেবে এটা যেমন ঈর্ষণীয় ঠিক তেমনি এ কথা সত্য যে জেলার আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই আম রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তবে বিষয়টিকে কাজে পরিণত করতে হলে আমের টেকসই সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। বস্তুত উদ্যানফসলনির্ভর জেলা চাঁপাইয়ের সার্বিক উন্নয়ন অনেকাংশেই নির্ভর করে এর ওপর।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের হিসেবে ‘বিশ্বে আম উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম হলেও এখানে আধুনিক পদ্ধতিতে আম চাষ ও উন্নত বিপণন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকার পরও বিদেশে পর্যাপ্ত আম রফতানি হচ্ছে না। অথচ এসব সমস্যার সমাধান করা হলে উৎপাদিত আম বিদেশে রফতানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে’। উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জে উৎপাদিত কয়েকটি জাত বিশেষ করে ক্ষীরসাপাত, ল্যাংড়া, ফজলি, আশ্বিনা আম (জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত) গুণেমানে অনন্য হওয়ায় দেশে ও বিদেশের বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
বাংলাদেশে উৎপাদিত সব ফলের মধ্যে আমের জনপ্রিয়তাই সবচেয়ে বেশি। স্বাদ ও পুষ্টিমানে আম অনন্য। আমের নানা ব্যবহার একে দিয়েছে আদর্শ ফলের মর্যাদা। তবে আমচাষীদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা এর ক্ষণস্থায়িত্ব। অর্থাৎ আম পেকে যাওয়ার পর দ্রুত একে সংরক্ষণ না করা গেলে অল্প সময়ের ব্যবধানে নষ্ট হয়ে যায়। আর এজন্যই প্রচুর উৎপাদন করার পরও বেশির ভাগ কৃষক আম চাষের মাধ্যমে তার অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে পারেন না। উৎপাদিত আম বিক্রি করতে না পারায় বেশির ভাগ আম নষ্ট হয়ে যায়। এ নষ্ট আম অর্থনৈতিক উন্নয়নে আর কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। আমের টেকসই সংরক্ষণ পদ্ধতি ঠিক এজন্যই জরুরি হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের সব জেলার মাটি, জলবায়ু কিংবা আবহাওয়া আমচাষের জন্য উপযোগী হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সবার থেকে এগিয়ে। এখানকার মাটি ও পরিবেশ যেন শুধুই আম চাষের জন্য প্রস্তুত রয়েছে! আম চাষের আওতায় মোট জমি, বার্ষিক উৎপাদন এবং জাতের বৈচিত্র্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে বাংলাদেশের আমের রাজধানী বলা হয়। দেশের মোট আমের প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ উৎপাদন হয় রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। বাংলাদেশের প্রায় সব জেলায় আম উৎপাদিত হলেও গুণেমানে অতুলনীয় চাঁপাইয়ের আম। উপকূলীয় লবণাক্ত ভূমিতে কিংবা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পার্বত্য জেলাগুলোতেও বর্তমানে উন্নত বিভিন্ন জাতের আম চাষ হচ্ছে। তবে সেগুলো কোনোভাবেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ কিংবা রাজশাহীর আমের মতো এতটা সুস্বাদু নয়। অন্যদিকে দিনাজপুর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা কিংবা যশোর আম চাষে সাফল্য লাভ করলেও তাদের থেকেও এগিয়ে রাখতে হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জকেই।
পরিসংখ্যান বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, দেশের ৩২ হাজার হেক্টর অর্থাৎ ৭৮ হাজার ১৯৫ একর জমিতে আমের চাষ হচ্ছে। বৃহত্তর রাজশাহী জেলায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়। আম চাষের জমিও বেড়ে যাচ্ছে প্রতি বছর। এতে আমের উৎপাদন বাড়ার তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে নিয়মিত। বাংলাদেশের মাথাপিছু আম উৎপাদনের পরিমাণ যদি দেড় কেজি হয় তবে সেখানে সিংহভাগ অবদান চাঁপাইনবাবগঞ্জের। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতে মাথাপিছু ১১ কেজি, পাকিস্তানে ৬, শ্রীলংকায় ৯, ফিলিপাইনে ৬, তানজানিয়ায় ৭, সুদানে সাড়ে ৭, জায়ারে ৫ ও হাইতিতে ৫৫ কেজি হলেও গুণগত মানের দিক থেকে তারা বাংলাদেশের আমের তুলনায় পিছিয়ে থাকছে বহু গুণে।
মনে প্রশ্ন জাগতে পারে সুদান, তানজানিয়া, জায়ার কিংবা হাইতি মাথাপিছু এত আম উৎপাদন করলেও অর্থনৈতিকভাবে তারা সমৃদ্ধ হতে পারছে না কেন? সহজ উত্তর হলো, সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা! বিশেষত আফ্রিকার ওই দেশগুলো প্রচুর আম উৎপাদন করলেও সেগুলোর টেকসই সংরক্ষণে তারা কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেনি। ফলে দ্রুত পচনশীল ফল এ আম ঠিক যে পরিমাণ উৎপাদন হচ্ছে তার বিপরীতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলাফল হিসেবে আর্থিক কিংবা পুষ্টির ক্ষেত্রে এ আম তেমন কোনো ভ্যালু যুক্ত করতে পারছে না। কার্যত যেসব কৃষক এ আম উৎপাদনে জড়িত তারা বছরের পর বছর শ্রম দিয়েও তাদের আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি করতে পারেননি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ যারা অপুষ্টি ও অনাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হয়েছিল তারাও এ অতিরিক্ত আম উৎপাদনের সুফল ভোগ করতে পারেনি।
আমরা এখান থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারলে; শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের উপযুক্ত ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা গেলে বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতির খোলনলচে পাল্টে যাবে। খেয়াল করলে দেখা যাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশেষ একটি নয়, বরং বিভিন্ন জাতের আম উৎপাদনে প্রসিদ্ধ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের একটি গোল চত্বরে বিশেষ কাটিং করা যে আমগাছটি দেখা যায় সেটা মূলত চাঁপাইয়ের সব আমের প্রতীকী উপস্থাপনা।
গোপালভোগ আম চাঁপাইয়ের গর্ব। স্বাদ কিংবা গন্ধ সব দিক থেকে আমটির তুলনা সে নিজেই। এরপর হিমসাগর বা ক্ষীরসাপাত কিংবা ল্যাংড়া কে কার থেকে কম। আমের মৌসুম সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলে একের পর এক বাজারে আসে ক্ষীরভোগ, মোহনভোগ, রাজভোগ, রানীভোগ, রানীপছন্দ, সিন্দুরা, সুবর্ণরেখা, নাকফজলি, ফজলি, চিনি ফজলি, সুরমাই ফজলি, চিনি মিসরি, জগৎমোহিনী, রাখালভোগ, রাঙাগুড়ির মতো বিখ্যাত সব আম। অপেক্ষাকৃত কম প্রচলিত আমের মধ্যে গোবিন্দভোগ, তোতাপুরী, মিশ্রিকান্ত, জালিবান্ধা, বোম্বাই, ভুতো বোম্বাই, পাহাড়িয়া, গোলাপখাস, কাকাতুয়া কিংবা দাদভোগ আমের নাম বলা যায়। অন্যদিকে বাইরের কোনো জেলায় নাম না শোনা গেলেও চাঁপাইয়ের মাটিতে আরো উৎপাদন হয় চম্পা, সূর্যপুরী, কাঁচামিঠা, কলামোচা, শীতলপাটি, লক্ষ্মণভোগ, গোলাপবাস, কিষাণভোগ বান্দিগুড়ি কিংবা রাংগোয়াই আম। ওদিকে আশ্বিনা আম অন্য জেলায় ফলানো হলে সেটা যেমন একেবারেই যা তা হয়, চাঁপাইয়ের ক্ষেত্রে তেমনটি হয় না; বরং এখানকার আশ্বিনা আমও অনেক সুস্বাদু। এসবের বাইরে ভাদুরিগুটি, বনখাসা, বউ ফুসলানি, ক্ষীরমণ, দুধসর, রঙভিলা, পারিজা, আনোয়ারা, দিলশাদ, আম্রপালি, মল্লিকা, বেগমবাহার, পূজারীভোগ, পলকপুরী, রাজলক্ষ্মী কিংবা দুধকুমারী চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের ক্ষেত্রে যুক্ত করেছে বিশেষ মাত্রা। একই জেলায় এতগুলো জাতের আম উৎপাদন একে স্বতন্ত্র করেছে সবদিক থেকে।
বিচিত্র জাতের সব আম উৎপাদন হলেও চাঁপাইয়ের মানুষের দুর্ভাগ্য, তারা খাদ্য তালিকায় আমের বিচিত্র ব্যবহার রপ্ত করতে পারেনি। সাধারণভাবে পাকা আম কেটে বা আস্ত খাওয়া, দুধভাতে আম মেখে খাওয়া, মুড়িচিড়ায় আম খাওয়া। কেউ হয়তোবা ফলার বা কাস্টার্ডে অন্যান্য ফলের সঙ্গে আম মিশিয়ে খেয়ে থাকেন। তারা আগের মতোই বাগানে বসে কাঁচা আম কেটে লবণ, মরিচ, কাসুন্দি দিয়ে মাখিয়ে খান। কেউ কেউ লবণ, মরিচ আর ধনে পাতা দিয়ে বেঁটে কিংবা হামানদিস্তায় ঘুঁটে খান। অনেকে একটু বৈচিত্র্য আনতে ডালের মধ্যে কাঁচা আম দিয়ে রান্না করেও খেয়ে থাকেন। কিংবা অনেকে আম দিয়ে মাছ-মাংস রান্না করেন। এসবই আমের মৌসুমে আম খাওয়ার সাধারণ চিত্র। আমের স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণে এর কোনো কার্যকারিতা নেই। এগুলো আম সংরক্ষণের কোনো টেকসই পদ্ধতিও নয়। লার্জ স্কেলে আমের সংরক্ষণ বলতে যা বোঝায় সেটা বাংলাদেশের কোথাও এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। ফলে যত আমই উৎপাদন হোক না কেন এর দৌড় পাকা অবধি। একবার পাকা শুরু হয়ে গেলে পুরো বাগানের আম ফাঁকা হতে বেশি সময় লাগে না। আম অর্থনীতিতে এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমের টেকসই সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এখানেই। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এই দ্রুত পচন থেকে রক্ষা পেতে, সংরক্ষণ করে সাংবৎসরিক রসনাবিলাসে ব্যবহার করতে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতির সামগ্রিক উত্তরণ ঘটানো গেলে উদ্যান ফসল হিসেবে আম চাষে সফলতা দেখবে চাঁপাই নবাবগঞ্জের মানুষ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ মৌসুমে আম সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বাজারজাতসহ সংশ্লিষ্ট কাজে তিন-চার মাস ব্যস্ত সময় পার করে। তখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই কাজের সুযোগ পায় বলে বেকার সমস্যা কমে যায়। অনেকের আয় বাড়ে বহুগুণে। আমের বিক্রিবাট্টা ও প্রক্রিয়াকরণের বিবিধ কাজ শুধু বাগান মালিক নয়, আরো অনেকের জন্য পারিবারিক সচ্ছলতা নিয়ে আসে। এমনকি স্থানীয়ভাবে আম পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ভ্যান-রিকশা, অটোরিকশা, নসিমন, করিমন, ভটভটি, ট্রাক, হাফট্রাক, মিনিট্রাক, পিকআপ কিংবা লেগুনার চালকরা ভাড়া আদায় করেও সচ্ছল হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে গাছ থেকে আম পাড়ার শ্রমিকদের জন্য তখন চলে রমরমা ব্যবসা। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় আমের ঝুড়ি তৈরি ও কার্টনে আম ভর্তি করার কাজ। এতে এলাকার গরিব মানুষ সবারই কমবেশি আয় সংস্থান হয়। কেউ কেউ এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত আয়ের জন্য দিন-রাত শ্রম দেন।
কিন্তু হঠাৎ করে যেন ছন্দপতন ঘটে! একটা জায়গায় গিয়ে থমকে যায় সবাই, আম পাকা শুরু হলে তার আয়ু যে থাকে মাত্র সপ্তাহ খানেক! সব শ্রেণী-পেশার মানুষের কপালে দেখা যায় চিন্তার বলিরেখা; আমের মৌসুম শেষ মানেই আয়-রোজগারের এ আয়োজনও শেষ। সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের দীর্ঘমেয়াদি এবং অর্থ রোজগারের নিয়মিত তারল্য ধরে রাখা যায়। এ সময় আম সংরক্ষণে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে না পারলে সব শ্রম ভেস্তে যেতে বাধ্য। দ্রুততার সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জে উন্নত মানের আমের উৎপাদন বাড়ানো এবং তা যথাযথ সংরক্ষণের আওতায় নিয়ে আসতে পারলে পরিসংখ্যানের বৈশ্বিক চিত্র বদলে দেয়া যায়, যা আমাদের হাতের মধ্যেই রয়েছে। অর্থাৎ দরকার শুধু সুদৃষ্টি ও সদিচ্ছা। আর তাহলেই বাস্তবায়ন সম্ভব হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের মানুষ যখন আমের টেকসই সংরক্ষণ নিয়ে চিন্তা করছেন বাইরের অনেক দেশ তখন ৩০টির মতো সংরক্ষণ নির্ভর আমের রেসিপি আবিষ্কার করে ফেলেছে। তাদের এ বৈচিত্র্যময় আমের ব্যবহার একাধারে খাবার হিসেবে যেমন তার গুরুত্ব বাড়িয়েছে তেমনি ড্রাই কিংবা ফ্রোজেন ফুড আইটেম হিসেবে আমের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে নানাভাবে। তাদের এসব রেসিপির মধ্যে রয়েছে ম্যাঙ্গো সালাদ, ম্যাঙ্গো সালসা, চিলি লাইম শ্রিম্প টাকোজ উইথ ম্যাংগো সালসা, আলবাকোর টুনা টাটাকি বাউল, বেকড শ্যামন উইথ ম্যাঙ্গো সালসা, ম্যাংগো কুলফি, ভিগ্যান ফ্রুট পিৎজা, ম্যাংগো বার, ম্যাংগো টার্ট উইথ ভ্যানিলা বিন কিংবা ম্যাংগো লাচ্ছির মতো নানা খাবার। বিশ্বের নানা দেশেই এসব বেশ জনপ্রিয়।
বাংলাদেশের আমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে এমনি বৈচিত্র্যময় নানা রেসিপির উপযোগী করে আম সংরক্ষণ শুরু হলে মানুষের কর্মপরিধি নিশ্চিতভাবে বাড়বে। গুণগত মানে উন্নয়ন ঘটিয়ে এসব রেসিপির উপযোগী ফ্রোজেন কিংবা ড্রাই আম বিশ্বের নানা দেশে বাংলাদেশ সহজেই রফতানি করতে পারে। দেশবাসীর পুষ্টি চাহিদা মেটাতে এর বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে আমের বহুমাত্রিক ব্যবহারও নিশ্চিত করা যাবে। ফলে সংরক্ষণ সীমাবদ্ধতায় যেভাবে ফি বছর প্রচুর পরিমাণ আম নষ্ট হয়ে যায় তার থেকে মুক্তি যেমন সম্ভব তেমনি টেকসই সংরক্ষণ অঞ্চল হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনৈতিক উন্নয়নও কার্যকর হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এ জেলার ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু আম হয়ে উঠবে বিশ্বজনীন।
ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম: অধ্যাপক ও ট্রেজারার, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়










