দক্ষিণ এশিয়ায় সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া একমাত্র দেশ বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা’র লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ এগোনোর কথা। যদিও গত পাঁচ দশকে কোনো লক্ষ্যই পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়ার ফলেই আমরা দেখেছি স্বাধীনতার পাঁচ দশকের মধ্যে দুই বা ততোধিক গণ-অভ্যুত্থান ও বেশ কয়েকটি সামরিক সরকার। রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য রাজপথে বারবার নাগরিকদের রক্ত দিতে হয়েছে।

আমরা এখনো সবার জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারিনি। প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় ১১ ধরনের পাঠ্যক্রম দেখছি। সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা কথার কথাই রয়ে গেল। ১১ ধরনের প্রাথমিক শিক্ষায় ভবিষ্যৎ বিভেদের বীজ বপন করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মদদেই। তার ওপর প্রাথমিক শিক্ষাও শেষ করতে পারছে না ৪০ শতাংশ শিশু। চিকিৎসা অবকাঠামো থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গেলেও সেবা পৌঁছায়নি। এ কারণে চিকিৎসার জন্য সবাইকে ঢাকামুখী হতে হচ্ছে, ফলে চাপ বাড়ছে রাজধানীর ওপর। আমরা প্রতিষ্ঠান ও পরিষেবা তৃণমূলে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় সবাইকে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের জন্য রাজধানীমুখী হতে হচ্ছে। এটা যে কত ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে তা গত মাসে কয়েকদিনের ব্যবধানে অর্ধডজন বার ভূকম্পন দেখিয়ে দিয়েছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈষম্যমুক্ত ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে পরিণত করা। তাই ১৬ ডিসেম্বর বিজয় উদযাপনের পাশাপাশি প্রয়োজন স্বপ্ন কতটা পূরণ হলো তা মূল্যায়ন করা।

সূচনালগ্নে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল পশ্চাৎপদ। সম্পদের প্রাচুর্য তেমন ছিল না। স্বাধীনতার পূর্বে পাকিস্তানের পুঁজিপতি ও শোষক শ্রেণী দেশ থেকে সম্পদ পাচার করেছে পশ্চিম পাকিস্তানে। উপরন্তু যুদ্ধকালীন এক ধরনের ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছে যায় দেশ। সে অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়াতে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে দেশকে। এরপর পেরিয়েছে ৫৪ বছর। ২০২৫ সালে এসে আমাদের বলার মতো অনেক অর্জন, সফলতা ও উন্নয়নের গল্প রয়েছে। কিন্তু পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায়, যে সমঅধিকারের রাষ্ট্রের প্রত্যাশায় দেশ মুক্ত হলো, আজও তা অপূরণীয় রয়ে গেছে। এখানে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাও বারবার ব্যাহত হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়েছে, বিশেষত সর্বশেষ বিদায়ী সরকারের আমলে। আইন-শৃঙ্খলার স্থান দখল করেছে দলীয় শাসন, অপশাসন ও অনিয়ম-দুর্নীতি যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাষ্ট্রের সর্বত্র। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুবিধাভোগী হয়েছে বিশেষ সুবিধাভোগী শ্রেণী। এর সুবিধার সুষম বণ্টন হয়নি। অসম অর্থনীতিতে আর্থিক চাপে দিনাতিপাত করছে নিম্ন আয়ের মানুষ। এ বিজয়ের দিনে তাই অঙ্গীকার হোক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির নিরাময়। তাছাড়া ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সূত্রপাত হয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে। অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের বয়ানে বারবার উঠে এসেছে তারা সর্বস্তরে বৈষম্যের অবসান চান এবং নাগরিকের রাষ্ট্র বানাতে চান। অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বেশকিছু সংস্কার পদক্ষেপ গ্রহণ করে। হয়তো ভবিষ্যতে তা কিছু ফল দেবে, তবে স্বল্পমেয়াদে তার সুফল এখনো নাগরিকরা উপভোগ করছে না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে যে মৌলিক পরিবর্তন আনা দরকার ছিল তা দৃশ্যমান নয়। এতে কয়েকদিন পরপর আমরা রাজপথে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নানা আন্দোলনে নামতে দেখছি। দেশে এখনো বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারছি না বলেই রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনদের চিকিৎসার্থে বিদেশ পাঠাতে হচ্ছে। উচ্চবিত্তের প্রায় সবাই বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন, এমনকি নিম্ন-মধ্যবিত্তের অনেকেই প্রতিবেশী দেশগুলোয় চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। এতে আমাদের বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। আমরা যদি আমাদের চিকিৎসাসেবাকে বিশ্বমানের করতে পারতাম তাহলে দেশের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর নাগরিকদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। এরই মধ্যে অবশ্য বেশ কয়েকটি হাসপাতাল থেকে অনেক বিদেশী নাগরিক সাশ্রয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমাদের ওষুধ শিল্প বেশ বিকশিত হয়েছে। উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারলে তা তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্সের মতো আরেকটি অর্থনৈতিক ভিত হতো বাংলাদেশের।

আমরা বেশ কয়েক বছর ধরেই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের আলাপ শুনছি। কিন্তু কীভাবে এবং কোন পলিসিতে তার সর্বোত্তম উপযোগ নিশ্চিত করতে পারব সে ব্যাপারে উদ্যোগ দেখছি না। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী শ্রমশক্তি তৈরিতে যে নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন দরকার ছিল তা এখনো মিসিং। অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য নতুন উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হলেও সে ব্যাপারে পদক্ষেপ দেখিনি। উল্লেখ্য, বর্তমান উপদেষ্টা পর্ষদের অর্ধেকের মতো পেশায় শিক্ষক বা শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিদ্যমান শিক্ষা যুগোপযোগী না হওয়ার ফলে তা বাজারের চাহিদা পূরণ করছে না। আমরা কেবল অদক্ষ জনগোষ্ঠী পাচ্ছি এবং তরুণ জনগোষ্ঠী সম্পদ না হয়ে বোঝায় পরিণত হচ্ছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) তথ্যানুসারে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলো থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের ৬৬ শতাংশই বেকার থাকছেন। মাত্র ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী অন্য কোনো বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী নিজের উদ্যোগে কাজ করছেন। বাকি উচ্চশিক্ষা অর্জন করা ৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থীই বেকার থাকছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট চাকরির প্রতি ঝোঁক এবং কৃষি বা শিল্প খাতে কিংবা স্ব-উদ্যোগে কাজ করার অনীহা ও দক্ষতাহীনতা শিক্ষিত বেকার তৈরি করছে।

এদিকে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি হয়নি। বিবিএসের হিসাবে, এক দশক ধরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বিনিয়োগ ২২-২৩ শতাংশেই আটকে আছে। এ সময় রাজনৈতিক মদদে কতিপয় অলিগার্ক ব্যবসায়ী শ্রেণী তৈরি হয়েছে যাদের রয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ। এসব ব্যবসায়ী দেশের ব্যাংক খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে এবং পাচার করেছে বিপুল অংকের অর্থ। লুটপাটের কারণে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট তীব্র হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ওপর মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। উপরন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের মতো ঘটনায় অসংখ্য কলকারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এখনো পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায়নি। এরূপ রাজনৈতিক-সামাজিক অস্থিরতায় বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ ব্যাহত হচ্ছে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্তরায়। আর কর্মসংস্থানহীন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কখনই টেকসই হয় না। বরং দেশের মোট জনগোষ্ঠীর বাস্তবতায় অর্থনীতির নিরাময়ের পথে হাঁটতে না পারলে তা অর্থনীতির পুনরুদ্ধার আরো কঠিন হবে।

দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব নয় বলে খাতসংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন। এছাড়া কর ও শুল্কনীতির বিরুদ্ধেও অনেক অভিযোগ রয়েছে। নতুন ব্যবসা চালুর জন্য নানা ধরনের লাইসেন্স পেতে হয়রানির মধ্য দিয়ে যেতে হয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের। এজন্য তরুণ প্রজন্ম উদ্যোক্তা না হয়ে সরকারি চাকরিজীবী হতে চায়। আবার সরকারি চাকরিতে অবৈধ অনেক সুযোগ-সুবিধা ও নাগরিকদের ওপর ক্ষমতা প্রদর্শনের আদিম আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্যও সেদিকে যেতে আগ্রহী হয় তরুণরা। এদিকে দেশীয় বিনিয়োগ চাঙ্গা না হওয়ার ফলে বিদেশীরাও আস্থা পাচ্ছেন না। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, উগান্ডার মতো দেশ এফডিআই প্রাপ্তিতে অনেক এগিয়ে গেলেও আমাদের অর্জন আশানুরূপ নয়। অথচ দেশীয় ও বিদেশী বিনিয়োগ শক্তিশালী না হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি কঠিন। কর্মসংস্থান না বাড়লে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি যেমন শক্তিশালী হবে না তেমনি সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটবে না। আমাদেরকে কয়েক বছর পরপর রাজপথে রক্ত দিয়ে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করতে হবে।

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সম্ভাবনা যেমন আমাদের আছে তেমনি সামনের বছরগুলোয় বয়স্ক নাগরিকদের দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টিও জোরালোভাবে হাজির হবে। আমাদের গড় আয়ু বৃদ্ধিতে দেশে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশে ৫০-৬৫ বছর বয়সের মানুষের সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের জন্য প্রক্ষেপণ ১৯ শতাংশের। অর্থাৎ দেশে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এ জনগোষ্ঠী যদি কর্মক্ষম হয় তাহলে তা দেশের অর্থনীতির অনুকূলে থাকবে, জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু তাদের কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে হলে তাদের উন্নত স্বাস্থ্য সুবিধা দিতে হবে। কারণ বয়স বাড়লে সাধারণভাবেই রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। এছাড়া প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জীবন সুরক্ষায় পেনশন, বয়স্ক ভাতা ইত্যাদি নিয়ে ভাবতে হবে। ভাবতে হবে কর্মপরিবেশ ও পরিবেশগত সূচকের অগ্রগতি নিয়েও। কারণ বর্তমানে অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ হলো বায়ুদূষণ। আবার ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগের চিকিৎসার পর্যাপ্ত অবকাঠামোও নেই আমাদের। আর এ বছরও ডেঙ্গুর পিক সিজন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়াই পার হয়েছে। অথচ একদিকে যেমন সুচিকিৎসার অবকাঠামোর অভাব রয়েছে, চিকিৎসাও হয়ে ‍উঠেছে বেশ ব্যয়বহুল। বিবিএসের উপাত্ত অনুযায়ী, নিজ পকেট থেকে স্বাস্থ্য খাতে নাগরিকদের ব্যয় বর্তমানে ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ বিজয়লগ্নে বাংলাদেশ হতে চেয়েছিল একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র যা এত বছর পরও সম্ভব হয়নি। মেট্রোরেল, পদ্মা সেতুর মতো বড় বড় প্রকল্প করা হয়েছে, কিন্তু মানুষের জীবনমান ও পরিবেশ এখানে উন্নত হয়নি। বরং চলমান সংকটের মধ্যে দেশের মানুষের জীবনমান নিম্নমুখী। প্রতিদিন সড়কে যে হারে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে তা অনেক যুদ্ধরত দেশে দৈনিক প্রাণহানির চেয়েও বেশি।

ইতিহাসের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় তারা যেমন ভুগেছে তেমনি সবচেয়ে বেশি ভুগেছে রাষ্ট্র ও তার নাগরিকরা। অভ্যুত্থানের সময় যে বিশাল ঐক্য দৃশ্যমান ছিল ধীরে ধীরে তাতে ফাটল ধরেছে। এতে ফের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কায় দিন কাটছে নাগরিকদের। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সচল ও সবল করতে ২০২৬ সালের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্ববহ। এক্ষেত্রে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেও অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একমত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এ কাজ অত্যন্ত কঠিন হলেও নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সংঘাতকে খুব খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না। বিশেষ করে নিজেদের মধ্যে মতাদর্শগত বিভেদ যতটা সম্ভব এড়ানো যায় ততটাই মঙ্গল। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্যে চিন্তা, কর্মসূচি এবং মতাদর্শগত পার্থক্য থাকবেই এবং সেটা নিয়ে বিতর্ক তো বটেই ঝগড়াবিবাদও হতে পারে। কিন্তু দল এবং শক্তিগুলো পরস্পরের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন হয়ে ওঠা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি তৈরি করে।

আর গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রায় ভেঙে পড়া রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এমন প্রবণতা ভয়াবহ বিপদের কারণ হতে পারে, যা এমনকি গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এবারের বিজয় দিবসে নাগরিকরা এমন একটি সরকার কল্পনা করছে, যা হবে নাগরিকদের জন্য এবং নাগরিকদের দ্বারা পরিচালিত সরকার। যেখানে মৌলিক মানবাধিকার থাকবে সমুন্বত, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত। সরকার ও আমলারা জনগণের প্রভু নয়, সেবক। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ প্রশস্ত করবে, অর্থনৈতিক মুক্তির দিশা দেবে, আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হবে সুদৃঢ় এ প্রত্যাশা সবার।

সাবিদিন ইব্রাহিম: জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক, বণিক বার্তা