দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ১ কোটি ৬২ লাখ। জিডিপি ইউএসডি ১ হাজার ৫১০ কোটি ডলার। দেশটিতে কেবল জলবিদ্যুৎ থেকেই আসে মোট চাহিদার প্রায় ৬২ শতাংশ। বাংলাদেশে জমির সীমাবদ্ধতা, গ্রিড অবকাঠামো, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জন্য দীর্ঘ সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন না বাড়ার জন্য দায়ী। তবে এরই মধ্যে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির অনেক ক্ষেত্র নিয়ে গবেষণা হয়েছে। দেখা গেছে বায়ুচালিত জ্বালানির ক্ষেত্রে গভীর সমুদ্র একটা উৎস হতে পারে। তার জন্য প্রযুক্তি আমদানি দরকার হবে। ভাসমান সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ পড়তে পারে। রুফটপ সোলার সফল হতে পারে মিনিগ্রিডের মাধ্যমে। এখন পরমাণু বিদ্যুৎও একটি সুযোগ। দেখা যায় প্রতিবেশী দেশগুলো সোলার পার্কের মাধ্যমে বড় পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পেরেছে। ভারতের বড় সোলার পার্ক যেমন ভাদলা সোলার পার্ক (ক্যাপাসিটি প্রায় ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট), প্রভাগদা সোলার পার্ক, রেওয়া আল্ট্রা মেগা সোলার পার্ক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানেও দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় সোলার পার্ক অর্থাৎ কায়েদে আযম সোলার পার্ক বড় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশে সোলার পার্ক থাকলেও তা বড় নয়। যেমন তিস্তা সোলার পার্ক (২০০ মেগাওয়াট), মোংলা (১০০ মেগাওয়াট), ময়মনসিংহ (৭৩ মেগাওয়াট), টেকনাফ সোলার পার্ক (২০ মেগাওয়াট) ইত্যাদি। বড় আকারের সোলার পার্ক বানানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। পর্যাপ্ত জমি পাওয়ার বিষয়টি এক্ষেত্রে অনেক বড় সমস্যা।

এমন বাস্তবতায় সরকার ঘোষিত নবায়নযোগ্য জ্বালানিনীতি-২০২৫ বেসরকারি খাত থেকে বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য প্রতিযোগী বিডিং, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, কর সুবিধা, সহজে জমি প্রাপ্তি ও বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে বাড়তি নিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে। তবে নীতিমালায় বড় আকারের সোলার পার্ক নির্মাণের বিষয়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা উল্লেখ করা হয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশের জ্বালানি কৌশল ধীরে ধীরে কয়লাভিত্তিক পরিকল্পনা থেকে সরে এলএনজি, পারমাণবিক ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু করেছে। ফলে একটি বহুমুখী জ্বালানি কাঠামোর দিকে এগোনোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বেসলোড বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারি জমিতে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বাংলাদেশের জ্বালানি ভবিষ্যতের প্রান্তিক অবস্থা থেকে মূলধারায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে জরুরি প্রস্তাবনা তেমন নেই। জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে, যা বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও তেলের বাজারের অস্থিরতার মতো অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের আর্থিক চাপ আরো বাড়িয়ে তুলবে।

এ প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনীতি ২০২৫ একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। নীতির প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের ভর্তুকি ও সরকারি ভর্তুকি কমানো, নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির প্রসার, স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করা, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস, উন্নত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণ, পণ্যের মান ও ব্যয় প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, সবুজ জ্বালানির অংশ বৃদ্ধি এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের প্রসার ঘটানো। নতুন নীতিটি ২০০৮ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানিনীতির তুলনায় একটি সুস্পষ্ট পরিবর্তন নির্দেশ করে। যেখানে ২০০৮ সালের নীতিতে মূলত সৌর হোম সিস্টেম, বায়োমাস ও ক্ষুদ্র প্রকল্পের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল, সেখানে ২০২৫ সালের নীতিতে ইউটিলিটি-স্কেল সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ, হাইব্রিড নবায়নযোগ্য ব্যবস্থা এবং জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ও বাজারভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

নীতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ ও ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্জনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহৎ পরিসরে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ, রুফটপ সৌর এবং বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ উৎপাদন, হাইব্রিড ব্যবস্থা এবং বিদেশী ও বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার ওপর এতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এসব ইতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিশেষ করে অর্থায়ন, জমি বরাদ্দ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি-সংক্রান্ত বাস্তবায়ন কাঠামো যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশে ইউটিলিটি-স্কেল সৌর প্রকল্পের জন্য পর্যাপ্ত জমির অভাব এবং উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয় একটি বড় বাধা। দেশের আর্থিক খাতও এখনো নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে সহায়তা দেয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রস্তুত নয়; অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও উপযোগী অর্থায়ন ব্যবস্থা অনুপস্থিত।

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন পাওয়ার ডিভিশন সামগ্রিক দায়িত্ব পালন করবে এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) হবে নোডাল সংস্থা। নীতিতে স্রেডাকে বহুমাত্রিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন তহবিল গঠন, বাস্তবায়ন রোডম্যাপ প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত নির্দেশিকা তৈরি, বিনিয়োগ সহায়তা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন ইত্যাদি।

কিন্তু বাস্তবে স্রেডা পর্যাপ্ত জনবল ও সম্পদের ঘাটতিতে ভুগছে এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ও দুর্বল। বর্তমানে চল্লিশের কিছু বেশি জনবল নিয়ে স্রেডার পক্ষে নীতিতে উল্লেখিত সব দায়িত্ব পালন করা বাস্তবসম্মত কিনা, তা বড় প্রশ্ন। নীতিতে স্রেডাকে যেসব দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে স্বীকৃত ল্যাবের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি পরীক্ষার ব্যবস্থা, ভাসমান সৌর প্রকল্প বাস্তবায়ন নির্দেশিকা, বায়োমাস প্রকল্প নির্দেশিকা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্যাপটিভ ও তৃতীয় পক্ষের বিক্রয় প্রকল্পে এনার্জি স্টোরেজ ব্যবস্থার নির্দেশিকা, শুল্ক ও কর অব্যাহতিবিষয়ক সমন্বয়, রিনিউয়েবল এনার্জি অবলিগেশন (আরপিও) ও রিনিউয়েবল এনার্জি সার্টিফিকেট (আরইসি) চালুর নির্দেশিকা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প ডিজাইনার, ইনস্টলার, রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী, সরবরাহকারী, আমদানিকারক, প্রস্তুতকারক, ওপেক্স বিনিয়োগকারী ও ইপিসি কোম্পানির জন্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি। এগুলো যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ বিষয়। বর্তমান সরকার এ ব্যাপারে যথেষ্ট অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সরকার গ্রিড-সংযুক্ত পক্ষগুলোর মধ্যে রুফটপ সৌরবিদ্যুতের পিয়ার-টু-পিয়ার (পিটুপি) বাণিজ্য চালুর পরিকল্পনা করেছে, যার নির্দেশিকাও স্রেডা প্রস্তুত করবে। এছাড়া নেট মিটারিং গাইডলাইন ২০১৮-এর বাস্তবায়ন তদারকি, বায়োস্লারি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং সৌর প্যানেল, ইনভার্টার ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ নির্দেশিকা তৈরির দায়িত্বও স্রেডার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এ থেকে স্পষ্ট, নীতির সফল বাস্তবায়ন অনেক নির্দেশিকা, রোডম্যাপ, ডেটাবেজ উন্নয়ন, গবেষণা, সমন্বয় ও সহায়তামূলক সেবার ওপর নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত গবেষণা, পরামর্শ, পরীক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়া এসব বাস্তবায়ন কঠিন হবে। এক্ষেত্রে শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যতদিন পর্যন্ত স্রেডা প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা, কাঠামো, গবেষণা সক্ষমতা ও দক্ষ জনবল নিয়ে পূর্ণ প্রস্তুত না হবে, ততদিন নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বৈচিত্র্যময় বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশা করা কঠিন।

বাংলাদেশে প্রকল্প উন্নয়নকারীরা সাধারণত ১২-১৮ মাস বিলম্বের সম্মুখীন হন, যেখানে ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশে এ সময় ছয়-আট মাস। অর্থায়নও মূলত ঋণনির্ভর, যেখানে সুদহার ৯-১২ শতাংশ এবং ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্সের সুযোগ সীমিত। ফলে উচ্চ ব্যয়, বিনিয়োগে অনাগ্রহ ও ধীর বাস্তবায়নের একটি চক্র তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে দ্রুত বের হয়ে আসা দরকার। তার জন্য নীতির ত্বরিত বাস্তবায়ন দরকার, যাতে জনমনে আস্থা তৈরি হয়। আঞ্চলিক সহযোগিতাও এখনো পর্যাপ্তভাবে বিকশিত হয়নি। যদিও নীতিতে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাণিজ্যের কথা বলা হয়েছে, বাস্তব অগ্রগতি খুবই সীমিত। ফলে বাংলাদেশ এখনো জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর স্বল্পমূল্যের জলবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না।

অন্যদিকে ভিয়েতনাম ও ভারত তুলনামূলকভাবে আরো সক্রিয় ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে। ভিয়েতনামের ডিরেক্ট পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (ডিপিপিএ) ও উচ্চাভিলাষী নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্য বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সৌরবিদ্যুতের দ্রুত সম্প্রসারণে সহায়ক হয়েছে। একইভাবে ভারতের প্রডাকশন লিংকড ইনসেন্টিভ (পিএলআই) কর্মসূচি সৌর যন্ত্রাংশ ও সবুজ হাইড্রোজেনের স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং শিল্প সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি কাঠামো এখনো অনেকাংশে খণ্ডিত ও প্রতিক্রিয়াশীল। সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও ইনভার্টারের স্থানীয় উৎপাদনে শক্তিশালী প্রণোদনার অভাব আমদানিনির্ভরতা বাড়িয়েছে এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দুর্বল করেছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি যন্ত্রপাতির ওপর তুলনামূলক বেশি শুল্ক আরোপ, যেখানে ডিজেল জেনারেটরের মতো প্রচলিত প্রযুক্তিতে কম শুল্ক রয়েছে, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারে নিরুৎসাহ সৃষ্টি করছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে একটি সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে রাজস্বনীতি, জলবায়ু অঙ্গীকার ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি। রুফটপ সৌর সংযুক্তি ও পিয়ার-টু-পিয়ার বাণিজ্য সহজ করতে নিট মিটারিং আধুনিকায়ন করতে হবে এবং বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির জন্য বাধ্যতামূলক আরপিও চালু করতে হবে।

একই সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যের মাধ্যমে আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার করতে হবে, যাতে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর জলবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য সম্পদ কাজে লাগাতে পারে। স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া, ঝুঁকি ভাগাভাগি ব্যবস্থা, কর প্রণোদনা ও স্বল্প সুদে অর্থায়নের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও বাড়াতে হবে।

এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানিনীতিকে শিল্পনীতির সঙ্গে সমন্বয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনার মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারবে। বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ হাজার মেগাওয়াট অতিক্রম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, অথচ বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা সরকারের নির্ধারিত ২০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা (৫৬০০-৬১৪৫ মেগাওয়াট) থেকে অনেক কম। পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান (পিএসএমপি) অনুযায়ী, বার্ষিক ৭-১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ভিত্তিতে ২০৪১ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ৬০ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছতে পারে। এ ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবেলায় সরকার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, গ্রিড নির্ভরযোগ্যতা জোরদার ও জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে একটি উচ্চাভিলাষী কৌশল গ্রহণ করেছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিনীতি ২০২৫ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এর সাফল্য নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নীতিগত সমন্বয়ের ওপর। অন্যথায় বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হতে পারে এবং বহিরাগত জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিতে রয়ে যাবে। তবে যথাযথ সংস্কার ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি টেকসই, সহনশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা বলা হলেও এ অবস্থার উন্নয়ন হয়নি, বরং আমাদের পাশের দেশগুলো এ ব্যাপারে অনেক এগিয়ে গিয়েছে। তবে ১৭ বছর পর যে নতুন নীতিটি প্রণীত হয়েছে, তার মাধ্যমে এ খাতে উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়। বছরে জালানি তেলের আমদানি বাবদ খরচ ১০-১২ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্য রয়েছে এলেঞ্জি, কয়লা ও পেট্রোলিয়াম পণ্য। তারপর রয়েছে অনিশ্চয়তা। যেকোনো সময়ে দাম বেড়ে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আমাদের সবার জানা। এসব বিবেচনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে ডেডিকেটেড সোলার পার্ক জোন, প্রতিযোগী বিডিং পদ্ধতি, অবকাঠামো উন্নয়ন, টাইম-বাউন্ড ফিসক্যাল ইনসেন্টিভ প্রদানে সমন্বিত প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।

ফেরদাউস আরা বেগম: সিইও, বিল্ড