গণ-অভ্যুত্থানের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বলতে গেলে বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কেমন ছিল সেটা নিয়ে আলাপ করতে হবে। আমরা যদি ফ্যাসিবাদী আমলের অর্থনৈতিক কাঠামোর সংস্কার করতে পারি তবেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে। আমরা গত এক-দেড় বছরে এ আলোচনাগুলো করে ফেলেছি। ফ্যাসিবাদী আমলের অর্থনীতি ছিল মূলত লুটতরাজ, ব্যাংক লুটপাট ও দেশের টাকা বিদেশে পাচারের অর্থনীতি। এ অর্থনীতির মধ্য দিয়ে যে অলিগার্ক ও মাফিয়া শ্রেণীর উত্থান ঘটেছিল তারাই সমাজে বৈষম্যটাকে প্রকট করেছে। ফলে গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্লোগান ও বৈষম্যবিরোধী প্লাটফর্মটা জনপ্রিয় হয়েছিল।

আমরা যখন কোটা সংস্কারের আন্দোলনটা শুরু করি তখন আমাদের কাছে স্পষ্ট ছিল যে এটা কোটা সংস্কারের আন্দোলন হলেও এর একটা শক্ত ভিত্তি আছে। আমরা সচেতনভাবেই আন্দোলনের নাম দিয়েছিলাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আমাদেরকে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হলে এটাকে নৈতিক জায়গা নিয়ে যেতে হবে। শুধু গোষ্ঠীস্বার্থের জায়গা থেকে করলে এটাকে বেশি দূর নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ফলে আমাদের চাকরির দাবি হয়তো প্রধান দাবি ছিল, কিন্তু এর একটা বিস্তৃত ও শক্ত ভিত্তি ছিল। তখন শ্রমিকের মজুরির দাবিতে আন্দোলন হচ্ছিল, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের ইত্যাদি দাবি ছিল। ফলে সমাজের বৃহত্তর দাবিগুলোকে সংযুক্ত করার জন্যই আমরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করি। যেটা পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দাবির দিকে ধাবিত হয়।

তরুণরা ফ্যাসিবাদী আমলের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ছিল। পড়াশোনা শেষ করে তারা দেখে তাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ চাকরি নেই! আমরা যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি তাদের হয় সরকারি চাকরির দিকে যেতে হবে নতুবা বিদেশে যেতে হবে। যখন সরকারি চাকরিতে কোটার মতো বৈষম্যটা থাকে, সেটা তখন আর মেনে নেয়া সম্ভব হয় না। সেখান থেকেই আন্দোলনের যাত্রা। ফলে খুব স্থূলভাবে দেখলেও আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল চাকরি বা অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা। এর পেছনে কাজ করেছে সমাজে যে বৈষম্য ঘনীভূত হয়েছে তার বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং অন্যদিকে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন। সবকিছুর সম্মিলন হয়ে তার বিরুদ্ধে জনগণ রাজপথে নেমেছে।

আপনি যদি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আরো পেছনে যান তখন দেখবেন গত এক দশকে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ছাত্র আন্দোলন হয়েছে। প্রথমটি হলো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন। দ্বিতীয়ত, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। এ তিন আন্দোলনও গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে জড়িত। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা জড়িত। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনটা মূলত হচ্ছে নগর পরিকল্পনার প্রশ্ন থেকে। ঢাকা ও আমাদের পুরো দেশের নানা শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাদের জীবন-জীবিকা কেমন হবে? শহরে বায়ুদূষণ, পরিবেশ দূষণ, ট্রাফিক জ্যাম, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাসা ভাড়া বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানহীনতা এসবের ভেতরই শহরের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তকে বসবাস করতে হয়। ফলে এ নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের গোড়ার প্রশ্নই ছিল নগর পরিকল্পনা নিয়ে। যে নগর আমরা আমাদের মতো পরিকল্পনা মোতাবেক সাজাতে পারি না সেটা আমাদের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের শহরে মানুষ বাঁচতে পারে না।

বিগত আন্দোলনগুলো শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দাবিতে ও সংগ্রামে পরিণত হতে পারেনি। যেটা ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়। অর্থনৈতিক লড়াই থেকে শুরু হলেও রাজনৈতিক লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। কারণ হলো সরকারের ওপর থেকে জনগণের আস্থা উঠে গিয়েছিল। জনগণের একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে—শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক লড়াইয়ে না গেলে আমাদের কোনো আন্দোলনই আর সফল হবে না। এটা অবধারিতভাবেই গণ-অভ্যুত্থানের দিকে গেছে। ফলে আমি মনে করি, আমাদের গণ-অভ্যুত্থানে যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে তার প্রথমটি হচ্ছে কর্মসংস্থান। আমাদের রাষ্ট্রে তরুণদের সংখ্যা অনেক, ফলে তাদের সৃজনশীলতাকে কীভাবে কাজে লাগানো হবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দ্বিতীয়টা হচ্ছে, শহরে যে উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণী তৈরি হয়েছে তাদের জীবন-জীবিকা, আবাসন ও গণপরিবহনের একটা সুরাহা লাগবে। পাশাপাশি আমাদের যে নিম্নবর্গের মানুষ যারা শ্রমিক তাদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু মজুরির প্রশ্ন নিয়ে আমরা আলাপ করি কিন্তু তার সন্তান কোথায় কীভাবে পড়াশোনা করবে? স্বাস্থ্যসেবা পাবে কিনা? এ প্রশ্নগুলোর সুরাহা যদি আমরা না করি তাহলে আমাদের গণ-অভ্যুত্থানের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে না। মানুষ বারবারই রাজপথে নামবে। ফলে আমরা যে নতুন বন্দোবস্তের কথা বলি এর নীতিগত জায়গায় ওই বিষয়গুলো থাকতে হবে। আমাদেরকে ব্যবসার পরিসর বৃদ্ধি, ব্যবসার পরিবেশ তৈরি, জলবায়ুকে গুরুত্ব দেয়াসহ সবকিছু নিয়েই ভাবতে হবে। আমাদের ক্ষুদ্র ও মধ্যম পর্যায়ের উদ্যোক্তা রয়েছেন, তাদেরকে কীভাবে আমরা বিকশিত করতে পারি, ডিজিটাল অর্থনীতিকে কীভাবে বিকশিত করতে পারি—সব নিয়েই ভাবতে হবে।

যারা বিদেশে থাকে তারা ছাত্র ও নানা পেশায় জড়িত, তারাও আমাদের সঙ্গে অর্থনৈতিক কাঠামোতে জড়িত হতে চায়। আমরা প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পেরেছি। তাদেরকে সামগ্রিকভাবে জড়িত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটা বিশাল সম্ভাবনা ও শক্তির জায়গা। এগুলোকে আমরা কীভাবে কাজে লাগাতে পারি? বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের অর্থনীতি ছিল অবকাঠামোগত উন্নয়নের, কিন্তু আমাদের অর্থনীতিটা ন্যায়ভিত্তিক হতে হবে। যেখানে সমাজের বৈষম্য দূর করার নীতিমালা থাকবে। প্রতিযোগিতামূলক বাজার যেমন থাকবে তেমনি রাষ্ট্রের কল্যাণনীতিও থাকবে। গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা আসলেই অর্থনৈতিক সংস্কারের কাজ করতে পারিনি। এ সরকারের আমলে আমরা যে উদ্যোগগুলো নিয়েছি সেগুলো মূলতই রাজনৈতিক সংস্কারের। সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক উদ্যোগ আমরা নিয়েছি যেন সুশাসন নিশ্চিত হয়। কারণ পুরো অর্থনীতিটাই জড়িত সুশাসন ও রাষ্ট্রের সংস্কারের সঙ্গে। ফলে আগামী নির্বাচনের পর আমাদের লক্ষ্য হবে অর্থনীতির সংস্কার। তখন অর্থনীতিকেন্দ্রিক আন্দোলনগুলো ক্রমেই আসতে থাকবে। সরকার ও সরকারের বাইরে সব জায়গায় মূল আলাপ আসবে অর্থনীতিবিষয়ক। সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির জন্য আমি এককভাবে আমলাদের দায়ী করার পক্ষে নই। এককভাবে রাজনীতিবিদদেরও দায়ী করার পক্ষে আমি নই। আমরা জানি, দুর্নীতি একটা চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা রাজনীতিবিদ ব্যবসায়ী পুরোটাই একটা চক্র। যেখানে ব্যবসায়ী তার কালো টাকা রাজনীতিতে বিনিয়োগ করে, যেটা আগামী নির্বাচনেও ব্যাপকভাবে হবে! ফলে নির্বাচনে যদি আমরা কালো টাকা বন্ধ করতে না পারি তাহলে কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়, যে যতই ওয়াদা দিক কিংবা চমকপ্রদ কথাই বলুক।

আমাদেরকে দুর্নীতির পুরো চক্রকে ভাঙতে হবে। এটা ছাড়া সুশাসনও প্রতিষ্ঠিত হবে না সর্বত্র। রাষ্ট্র সংস্কারের কথা যেভাবে বলছি একই সঙ্গে সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তন না ঘটাতে পারলে এ সংস্কার টেকসই হবে না এবং সমাজও স্থিতিশীল হবে না। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক জগতে অনেক পরিবর্তন আসে, তাদের চিন্তা পদ্ধতি পরিবর্তন করে। এটা আমরা হয়তো বুঝতে পারছি না কিন্তু আগামীতে এটা আমরা দেখব।

আমাদের এখানে সামাজিক ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। সেটা হলে বিদেশী বিনিয়োগও এখানে আসবে না, দেশে স্থিতিশীলতাও তৈরি হবে না। আমাদের যেমন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা লাগবে তেমনি সামাজিক স্থিতিশীলতাও লাগবে। গণ-অভ্যুত্থানের পর আমাদের অনেক সুযোগ ছিল, আমরা বৈপ্লবিক কায়দায় অনেক কিছু পরিবর্তন করতে পারতাম, সে সুযোগটা আমরা হারিয়ে ফেলেছি! যেহেতু হারিয়ে ফেলেছি, ফলে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পথে যাত্রা করতে হবে। চীন সফরে তারা আমাদের বলেছে যে কোনো ধরনের সংস্কারের সঙ্গে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা লাগবে। এটা ছাড়া সংস্কার টেকসই হবে না। চীনের নীতি হচ্ছে সংস্কার, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন। এ তিনের সমন্বয় হলে দেশের টেকসই অর্থনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব।

আমাদের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংস্কারকাজ সফল হয়ে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনে আমরা যেতে পারলে সারা বিশ্ব একটা শুভবার্তা পাবে, নতুবা নেতিবাচক বার্তা যাবে। আমাদের যে অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, বিগত আমলে সেটা আমরা রাতারাতি ঠিক করতে পারব না, করার চেষ্টাও ঠিক হবে না। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা লাগবে। এক-দেড় বছরে এগুলো সম্ভব নয়, তবে আমরা যে পরিকল্পনা করছি সেটা সমাজে পৌঁছাতে হবে। কর্মসংস্থানের জন্য আমাদের সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে শিক্ষা সংস্কারে। দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা কাঠামো আমরা তৈরি করতে পারলে তারুণ্যের কর্মসংস্থানের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য পরিবেশ ও কৃষি সব দিকেই পরিবর্তন আনতে হবে। কৃষি খাতকে আধুনিকায়ন করতে হবে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গণ-অভ্যুত্থানের পর যে স্থানীয় সরকার কমিশন গঠিত হলো সেখানে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টা আছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ খুব গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আমাদের স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করাও প্রয়োজন। আমাদের যেমন বিদেশী বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে হবে, একই সঙ্গে দেশীয় পুঁজিও তৈরি করতে হবে। আমাদের দেশীয় ব্যবসায়ী শ্রেণী গড়ে তুলতে হবে, পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিও গড়ে তুলতে হবে। বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা বিনিয়োগ করবে তারা কিন্তু রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করবে। ফ্যাসিবাদী আমলে পার্শ্ববর্তী দেশ নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাব খাটিয়েছে। ফলে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে মাথায় রেখে দেশীয় অর্থনীতিকে গড়ে তুলতে হবে।

দেশীয় ব্যবসায়ীদের থেকে আমরা তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিবিদরা দেশপ্রেমের প্রত্যাশা করি। তারা যেন টাকা পাচার না করে, তারা যেন লুটেরা ব্যবসায়ী হিসেবে সমাজে পরিচিত না হয়। এ পরিবর্তন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আমলা সামগ্রিকভাবে সবার মধ্যেই আসতে হবে। আমরা সবাই যদি সে ঐক্যটা রাখতে পারি তাহলে আমাদের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব।

জাতীয় অর্থনীতি তৈরির জন্য আমাদের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অঞ্চল হলো দক্ষিণাঞ্চল। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আমরা যদি আমাদের অর্থনৈতিক বলয় তৈরি করতে পারি, বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি এটা আমাদের অনেক সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। এ সরকারের আমলে অনেক উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এটা অব্যাহত থাকলে এটা অনেক কাজে দেবে। এটার জন্য আমাদের নৌ ক্ষমতাকে আরো বাড়াতে হবে। সর্বোপরি আমাদেরকে অগ্রগতির পথে ও গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পথে হাঁটতে গেলে ফ্যাসিবাদী আমলের সব বৈষম্যকে দূর করতে হবে। আমরা বিগত আমলের দোষীদের এখনো পুরোপুরি বিচারের আওতায় আনতে পারিনি। আমরা আগামীতে অর্থনৈতিক বৈষম্যকারীদের বিচারের বিষয়টাকে সামনে নিয়ে আসব। শুধু এস আলম, সালমান এফ রহমান এমন দু-একজনকে ধরে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে লাভ নেই। অন্তর্বর্তী সরকার করতে পারেনি, কারণ তার রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত ছিল না। পরবর্তী সরকারের আমলে আমরা এটার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমরা সরকারে থাকি না থাকি—আমরা পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার আন্দোলন আমরা জোরালোভাবে করব। যারা দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করেছে সেই লুটেরা, মাফিয়া শ্রেণীর বিচার আমরা করব। পুরনো অলিগার্ক শ্রেণীর বিচার ও নতুন সামাজিক উদীয়মান শ্রেণীর জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, নতুন সমাজ গতিশীল হবে না। আমাদের রাজনীতিও এগোবে না। জাতীয় নাগরিক পার্টিও তাদের ২৪ দফায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, ব্যাংক খাত সবকিছু নিয়ে বলার চেষ্টা করেছে। আমাদের নির্বাচনী ইশতাহারেও এগুলো প্রাধান্য পাবে। আমরা হয়তো সবকিছু বলতে পারব না কিন্তু আমাদের মূল দৃষ্টি থাকবে তারুণ্য, তাদের সৃজনশীলতার উপযুক্ত ব্যবহার, নগর পরিকল্পনা, মাফিয়া শ্রেণীর বিচার ও পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা। সরকারে থাকি বা বিরোধী দলে থাকি, আমরা এ বিষয়গুলো নিয়ে আন্দোলন করে যাব।

নাহিদ ইসলাম: আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং সাবেক উপদেষ্টা, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়

[‘অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে ‘অভ্যুত্থানের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা’ শিরোনামে সমাপনী অধিবেশনে সম্মানিত আলোচকের বক্তব্যে]