মানুষের সঙ্গে মানুষের কিছু সম্পর্ক থাকে, যাকে বলা চলে প্রয়োজনের অথবা ব্যবসায়িক সম্পর্ক। সেখানে একজন মানুষ অন্য মানুষের কাছে মূলত একটি কার্যসাধনের কল। আবার অন্য এক সম্বন্ধ আছে যাতে প্রয়োজনও হয়তো মেটে, কিন্তু প্রয়োজনের বেশি কিছু পাওয়া যায়। মানুষে মানুষে এ দ্বিতীয় সম্বন্ধের ভিত্তিতেই রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের সমাজকে চিহ্নিত করেছেন এবং সেই সমাজ মুখ্যত পল্লীসমাজ। বাংলাদেশের সমাজের মূল ভিত্তি হবে স্বায়ত্তশাসিত গ্রাম, যার আর্থিক উন্নয়নের পথ তৈরি হবে বিজ্ঞান ও সমবায়কে ভিত্তি করে। গ্রামের সঙ্গে যোগ থাকবে শহরের, কিন্তু সেই যোগ হবে না আধিপত্য ও অধীনতার কিংবা শোষক ও শোষিতের। এ যোগের ভেতর দিয়ে অবিরত চেষ্টা চলবে এক নতুন সমন্বয়ের। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, ‘‌নগর আপন নাগরিকতার অভিমান সত্ত্বেও গ্রামগুলোর সঙ্গে জ্ঞাতিত্ব স্বীকার করবে। কতকটা যেন বড় ঘরের সদর-অন্দরের মতো।’ সেই সঙ্গে তিনি এ কথাও বলেছেন যে ‘আমি যখন ইচ্ছা করি যে আমাদের দেশের গ্রামগুলি বেঁচে উঠুক, তখন কখনও ইচ্ছে করি নে যে, গ্রাম্যতা ফিরে আসুক। গ্রাম্যতা হচ্ছে সে রকম সংস্কার, যা গ্রামসীমার বাইরের সঙ্গে বিযুক্ত।’" রবীন্দ্রনাথ একদিকে যেমন স্বনির্ভর পল্লীসমাজের ওপর জোর দিয়েছেন, অন্যদিকে বাইরের জগতের সঙ্গে আদান-প্রদানের পথ উন্মুক্ত রাখার আকাঙ্ক্ষাও ব্যক্ত করেছেন। সেই যোগাযোগের মূল সূত্র রবীন্দ্রনাথের মতে জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও দর্শনের সম্মিলনে হবে। শান্তিনিকেতন স্থাপনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ভারত ও বিশ্বের মধ্যে একটা অবারিত আতিথ্যের মিলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা।

বাংলাদেশের পল্লীসমাজের শ্রীবৃদ্ধির জন্য একটি পথের দিকেই রবীন্দ্রনাথ দিক নির্দেশ করেছিলেন। আর সেটি হচ্ছে সমবায়ের পথ। গ্রামীণ মানুষের বাঁচার উপায় যে তাদেরই হাতে, সমবায়নীতির দ্বারা এ সত্যকে সাধারণের মধ্যে প্রচার করা প্রত্যেকের কর্তব্য বলে রবীন্দ্রনাথ মনে করতেন। প্রকৃত প্রস্তাবে সমবায় শব্দটিকে রবীন্দ্রনাথ একটা বৃহৎ অর্থে গ্রহণ করেছিলেন। পরিহাস করে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘কো-অপারেটিভের যোগে অন্য দেশে যখন সমাজের নিচের তলায় একটা সৃষ্টির কাজ চলছে, আমাদের দেশে তা টিপে টিপে টাকা ধার দেয়ার বেশি কিছু এগোয় না।’"

রবীন্দ্রনাথ দেখেছেন, সমবায়ই মানুষের মধ্যে আত্মনির্ভরতা, আত্মবিশ্বাস ও সম্মানবোধের জন্ম দিতে পারে। উন্নয়নের জন্যই যেসব গুণের উপস্থিতি অপরিহার্য শর্ত, এগুলো তার অন্যতম। আত্মশক্তিতে একবার বিশ্বাস স্থাপন করতে পারলে বিচ্ছিন্নভাবে যারা ক্ষুদ্র ও দুর্বল তারাও নিজ নিজ শক্তিকে সমবেত করে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে নেবে। সমবায়ের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের কাঙ্ক্ষিত আত্মীয় বা প্রতিবেশী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে অর্থাৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া ও ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে একটি সহযোগিতা ও যৌথ প্রয়াস সম্ভব। আবার এর মাধ্যমে মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বিচ্ছিন্নতা পরিহার করা অসাধ্য নয়। সমবায়নীতিকে রবীন্দ্রনাথ মনুষ্যত্বের মূলনীতি হিসেবে দেখেছেন; কারণ মানুষ সহযোগিতার জোরেই মানুষ হয়েছে। জ্ঞানের ক্ষেত্রে, ভাবের ক্ষেত্রে, কর্মের ক্ষেত্রে সমবায় একটি ঐক্যবোধে নিয়ে যায় এবং ঐক্যবোধের দ্বারাই সব রকমের ঐশ্বর্যের সৃষ্টি—এ কথাটা রবীন্দ্রনাথ মানতেন। সুতরাং গ্রামীণ দারিদ্র্যের অবসান, গ্রামের মানুষকে স্বাধীনভাবে সমাজজীবনের দৃঢ়তর ভিত্তির ওপর দাঁড়ানোর ব্যবস্থার মাধ্যমে পল্লীসমাজের উন্নতির একমাত্র উপায় হিসেবে সমবায়কে তিনি চিহ্নিত করেছেন। তবে সমবায়কে রবীন্দ্রনাথ একটি আচার হিসেবে দেখেননি। এটিকে দেখেছেন মতবাদ হিসেবে। এ মতবাদের মধ্যে বহু কর্মধারা সৃষ্টি হতে পারে। সমবায়ের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর, প্রতিবেশী সমাজভিত্তিক গ্রামীণ সমাজ গড়ে তোলাই রবীন্দ্রনাথের উদ্দেশ্য ছিল। এর জন্য তিনি সমবায়ের মৌলিক বৈশিষ্ট্যের একটি রূপরেখাও দিয়েছিলেন। তার মতে, দেশের সমস্ত গ্রামকে নিজের সব রকমের প্রয়োজন সাধনক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে। কতগুলো পল্লী নিয়ে এক একটি মণ্ডলী গড়ে উঠবে। প্রত্যেক মণ্ডলীর প্রধান গ্রামের সব কাজের ও অভাব-মোচনের ব্যবস্থা করে মণ্ডলীকে নিজের মধ্যে পর্যাপ্ত করে তুলবেন, যাতে মণ্ডলীগুলোই স্বায়ত্তশাসনের স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। এছাড়া নিজের পাঠশালা, শিল্প শিক্ষালয়, ধর্মগোলা, সমবেত পণ্য ভাণ্ডার ও ব্যাংক স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রত্যেক মণ্ডলীকে নিতে হবে। জোতদার ও রায়তকে জোট বাঁধতে হবে এবং কৃষি ক্ষেত্রে এক একটা মণ্ডলী বা এক একটি গ্রামের সবাইকে একত্র হয়ে নিজেদের সব জমি মিলিয়ে দিয়ে চাষবাস করতে হবে। এতে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার সম্ভব হওয়ায় উৎপাদনশীলতা বাড়বে ও উৎপাদন-প্রক্রিয়া ব্যয়-দক্ষ হবে। শিল্প ক্ষেত্রে ও সমবায় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিল্প স্থাপন, তাতে কাঁচামাল সরবরাহ, উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালনা, উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাত ও লভ্যাংশ বণ্টন করতে হবে। পল্লী অঞ্চলে সে সব শিল্পই স্থাপন করতে হবে, যা পল্লীর মানুষের সর্ব অর্থে উন্নতি সাধন করবে। গ্রামবাসীদের বাসস্থান যাতে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর হয়, তাদের স্বাস্থ্য যাতে সুরক্ষিত হয়, তাদের জীবনপ্রণালি যাতে মানুষের মতো হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

সংগতই কিছু প্রশ্ন এসে যায়, পল্লীসমাজ উন্নয়নে নগরকেন্দ্রের ভূমিকা কি হবে, বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পৃত্তকরণ কী জাতীয় হবে, বৃহৎ শিল্প ও প্রযুক্তির সঙ্গে ক্ষুদ্র শিল্পের সহাবস্থানের রূপরেখা কী হবে ইত্যাদি। রবীন্দ্রনাথের গ্রামোন্নয়ন পরিকল্পনার সাফল্যের কয়েকটি পূর্বশর্ত তিনি চিহ্নিত করে গেছেন। যেমন এর সাফল্যের জন্য প্রয়োজন হবে বুদ্ধির সাহস ও জনসাধারণের প্রতি দরদবোধ। আরো প্রয়োজন হবে ব্যবহারিক জ্ঞান। এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘আমাদের কলেজে যারা ইকোনমিক্‌স্-এথনোলজি পড়ে তারা অপেক্ষা করে থাকে ইউরোপীয় পণ্ডিতের- পাশের গ্রামের লোকের আচার-বিচার বিধি-ব্যবস্থা জানার জন্য।...আমাদের দেশে আমরা পরবাসী, অর্থাৎ আমাদের জাতের অধিকাংশের দেশ নয়, সে দেশ আমাদের অদৃশ্য, অস্পৃশ্য।’" আরো প্রয়োজন হবে নিজস্ব চেষ্টার ওপর নির্ভরতা ও সব রকমের পরনির্ভরতা কমানো। রবীন্দ্রনাথের মতে, এর জন্য শিক্ষিত সমাজকে, যুবসমাজকে গ্রামের ভার নিয়ে তাকে ব্যবস্থাবদ্ধ করতে হবে। এটা করার জন্য একটি কর্মী বাহিনী গড়ে তুলতে হবে এবং তাদের উপযুক্ত শিক্ষার জন্য, তাদের প্রস্তুত করার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রস্তাবও রবীন্দ্রনাথ করেছেন। এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন যে জনগণের সরকারনির্ভরতা কমাতে হবে। তার মতে, মধ্যবিত্তসহ সাধারণ ভারতবাসী ক্রমেই সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের আত্মনির্ভরতা, আত্মবিশ্বাস ও সম্মানবোধ সবই নষ্ট হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘‌সরকার-বাহাদুর নামক একটা অমানবিক প্রভাব ছাড়া আমাদের অভাব-নিবারণের আর কোনো উপায় আমাদের হাতে নেই, এই রকম ধারণা মনে বদ্ধমূল হওয়াতেই আমরা নিজের দেশকে যথার্থভাবে হারাই।’ এর কারণ রাষ্ট্রপ্রধান দেশে রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যেই বিশেষভাবে বন্ধ থাকে, দেশের মর্মস্থান; সমাজপ্রধান দেশে দেশের প্রাণ সর্বত্র ব্যাপ্ত হয়ে থাকে, যার কারণেই রবীন্দ্রনাথ ‘রাষ্ট্রতন্ত্র’ ও ‘সমাজতন্ত্রের’ মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন। তার মতে, রাষ্ট্রনামীয় একটি হৃদয়হীন যন্ত্রের হাতে সমাজ উন্নয়নকে ছেড়ে দেয়া যায় না। তৃতীয়ত, এর সাফল্যের জন্য পল্লীসমাজে তিনটি বিষয়ের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে—শিক্ষা, কৃষি ও যন্ত্র। শিক্ষার বিস্তারের মাধ্যমে, কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়নের দ্বারা ও উন্নততর প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাম উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

আমাদের দেশে যেভাবে নগর গড়ে উঠেছে, তাতে নগরে যোগ হয়েছে রাষ্ট্রশক্তির সঙ্গে বণিক শক্তির; রাষ্ট্রযন্ত্র ও বণিকতন্ত্রের মধ্যে বাঁধা পড়ে গিয়েছিল আমাদের গ্রামগুলো। নগরগুলো আমাদের দেশের শক্তির ক্ষেত্র, কিন্তু গ্রামগুলো প্রাণের ক্ষেত্র—এ বলে রবীন্দ্রনাথ এ সমাজে নগর ও গ্রামের অবস্থানকে চিহ্নিত করেছেন। নগরের সেই শক্তির উৎস যন্ত্র, রাষ্ট্রক্ষমতা ও বাণিজ্য। নগর তাই প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র, গ্রামের সহযোগিতাবৃত্তি সেখানে যথোচিত উৎসাহ পায় না। নগর তার শক্তির দাপটে গ্রামকে শোষণ করেছে দীর্ঘকাল ধরে। রবীন্দ্রনাথ তার পল্লীভিত্তিক সমাজ পরিকল্পনায় নগরের একটি স্বাভাবিক স্থান চিহ্নিত করেছেন।

রাশিয়া ভ্রমণের পর রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘‌অন্য দেশে যাদের আমরা জনসাধারণ বলি, এখানে তারাই একমাত্র, অসাম্য চলতে পারে না চিরদিন—কারণ অসামঞ্জস্য বিশ্ববিধির বিরুদ্ধে।’" তিনি এ কথাও বলেছেন যে, ‘মানুষের ব্যষ্টিগত ও সমষ্টিগত সীমা এরা যে ঠিকমতো ধরতে পেরেছে, তা আমার বোধ হয় না। সে হিসেবে এরা ফ্যাসিস্টদের মতো। এই কারণে সমষ্টির খাতিরে ব্যষ্টির প্রতি পীড়নে এরা কোনো বাধাই মানতে চায় না।’ তবে ফ্যাসিস্ট জাতি বলে যাদের বলা হয় তাদের সঙ্গে রুশদের পার্থক্য রবীন্দ্রনাথ চিহ্নিত করেছেন এই বলে যে মানুষকে এরা দেহের দিকে নিপীড়িত করেছে, মনের দিকে নয়। সুতরাং পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটা মাঝামাঝি ব্যবস্থা রবীন্দ্রনাথ প্রয়োজন বিবেচনা করেছেন। তার ভাষাতেই, ‘এর একটা মাঝামাঝি সমাধান ছাড়া উপায় আছে বলে মনে করি নে; অর্থাৎ ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকবে অথচ তার ভোগের একান্ত স্বাতন্ত্র্যকে সীমাবদ্ধ করে দিতে হবে। সেই সীমার বাইরেকার উদ্বৃত্ত অংশ সর্বসাধারণের জন্য ছাপিয়ে যাওয়া চাই।"অর্থাৎ অর্থনীতির সকল ক্রিয়াকাণ্ডে সমবায় নীতি গ্রহণ।’

রবীন্দ্রনাথের পক্ষে সমাজতন্ত্রী হওয়া সম্ভব নয়। যে মানুষটি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের অত বড় পূজারী, যিনি সৌন্দর্যতত্ত্বে প্রচণ্ড রকম অনুরাগী এবং যিনি অর্থনীতিতে বস্তুগত বিষয়ের চেয়ে চিত্তবৃত্তিকে প্রাধান্য দেন, তার পক্ষে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য সম্পূর্ণ রহিত করে উৎপাদন-উপাদানের পূর্ণ সামাজিকীকরণ, প্রয়োজনবোধে শক্তি প্রয়োগে সমষ্টিগত স্বার্থের কাছে ব্যক্তিস্বার্থের নতিস্বীকারে বাধ্য করা এবং সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির অতিপ্রকাশ্য বস্তুগত বিষয়গুলোকে কি করে মেনে নেয়া সম্ভব? রবীন্দ্রনাথের মনমানসিকতার পরিপ্রেক্ষিতে তার পক্ষে খুব বেশি হলে মৌল মানবতাবাদী হওয়া সম্ভব। কিন্তু প্রকৃত সমাজতন্ত্রী হওয়া সম্ভব নয়। তিনি ওই পর্যন্তই বলতে পারেন, ‘বহুকাল থেকেই আশা করেছিলুম, আমাদের জমিদারি যেন আমাদের প্রজাদেরই জমিদারি হয়। আমরা যেন ট্রটির মতো থাকি। অল্প কিছু খোরাক-পোশাক দাবি করতে পারবো কিন্তু সে ওদেরই অংশীদারের মতো।"আমরা একে মৌল মানবতাবোধসম্পন্ন একজন সমবায়ীর উক্তি বলে মানতে পারি, তার বেশী নয়।’

সেলিম জাহান: সাবেক অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ভূতপূর্ব পরিচালক, মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ বিভাগ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র