যশোরে করোনা পরিস্থিতি অবনতির দিকে। প্রতিদিন গড়ে ৮-১০ জন মারা যাচ্ছে। সারা দেশে চলছে কঠোর লকডাউন। এরই মধ্যে শার্শা উপজেলার সাতমাইলে অবস্থিত সবচেয়ে বড় গরুর হাট বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। যে কারণে আসছে কোরবানিতে পশু বিক্রি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন খামারিরা। যদিও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইনের মাধ্যমে বাড়িতে গিয়ে গরু বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবহন ব্যবস্থা সচল থাকলে চাহিদার সব গরু বিক্রি হয়ে যাবে।

যশোর জেলায় এবার কোরবানি উপলক্ষে ১১ হাজার ৭৭৫টি খামারে ৯৬ হাজার ৩৭টি গরু-ছাগল মোটাতাজা করা হচ্ছে। এর মধ্যে গরু ৪৪ হাজার ৫৫০টি ও ছাগল-ভেড়া ৫১ হাজার ২১১টি।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, এবার কোরবানিতে জেলায় ৭১ হাজার ৭১০টি গরু ও ছাগলের চাহিদা রয়েছে। সে হিসাবে জেলার আট উপজেলায় ৯৬ হাজার ৩৭টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। চাহিদার চেয়ে ২৪ হাজার ৩২৭টি বেশি গরু ও ছাগল রয়েছে।

খামারিরা অভিযোগ করে বলেন, ভারতীয় গরুর চাপে আগে এ খাতে কোনো সুফল পাননি। অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে গত তিন বছর ভারতীয় গরু না আসায় সুফল আসতে শুরু করে খামারিদের। কিন্তু গত বছর করোনায় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছিল খামারিদের। এবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনেক খামারি পথে বসবে।

চৌগাছা উপজেলার মশ্মিমনগর গ্রামের শরিফুল ইসলাম এবার কোরবানিতে ৩০টি গরু মোটাতাজা করেছেন। প্রতিদিন একটি গরুর পেছনে তার ব্যয় হয় গড়ে ১৫০ টাকা। গরুকে তিনি খেতে দেন খৈল, ভুসি, কুঁড়া, ফিড ও কাঁচা ঘাস। করোনার কারণে যদি তিনি চাহিদা অনুযায়ী গরুর দাম না পান তাহলে নিঃস্ব হয়ে যাবেন বলে জানান।

একই উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামের প্রবির বিশ্বাস ১২টি গরু প্রস্তুত করেছেন কোরবানিতে বিক্রির জন্য। তিনিও আশঙ্কা করছেন করোনায় পশু বিক্রি না হলে তাদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে। তার পরও তিনি আশাবাদী পশু পরিবহনের অনুমতি থাকলে গরু বিক্রি হয়ে যাবে।

যশোর সদরের লেবুতলা ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের শরিফুল ইসলাম ১০টি দেশী গরু লালনপালন করছেন। প্রতিদিন একটি গরুর পেছনে তার ব্যয় হচ্ছে ১৫০-১৭০ টাকা। তারা জানান, পশুর উপযুক্ত দাম পাওয়া গেলে ভারত থেকে গরু আনার দরকার হবে না। স্থানীয় খামারিরাই দেশের মাংসের জোগান দিতে পারবেন।

চৌগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রভাষ চন্দ্র গোস্মামি বলেন, উপজেলার খামারগুলো কোরবানিতে পশু বিক্রি করতে প্রস্তুত রয়েছে। তার নিয়ন্ত্রণে খামারগুলোতে সব গরু সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান। এরই মধ্যে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। আমরা অনলাইনের মাধ্যমে খামারিদের পশু বিক্রিতে সহযোগিতা করছি।

এ ব্যাপারে যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. বখতিয়ার হোসেন জানান, এবার কোরবানির ঈদে চাহিদা মিটিয়েও অতিরিক্ত গরু ও ছাগল উদ্বৃত্ত থাকবে। আমরা খামারিদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখছি। ভারতীয় গরু না এলে আমাদের কোনো প্রভাব পড়বে না জানিয়ে তিনি বলেন, করোনার শঙ্কা কাটিয়ে উঠতে আমরা চেষ্টা করছি। পরিবহন ব্যবস্থা ঠিক থাকলে চাহিদার সব পশু বিক্রি হয়ে যাবে।