কুমিল্লার চান্দিনায় এক নারী এনজিওকর্মীর ব্যক্তিগত ভিডিও করে হুমকি, চাঁদা আদায়ের চেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সিএসও অ্যালায়েন্স। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর এ ঐক্যজোট।

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) চান্দিনায় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার দুই কর্মীকে অপহরণ করে এক নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুরুষ কর্মীকে গাছে বেঁধে বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়। আর নারী কর্মীকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করা হয়। সে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে পরিবার থেকে দুই লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায়েরও চেষ্টা করা হয়।

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সিএসও অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে জানায়, এ ধরনের অমানবিক নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির আওতায় না আনলে এনজিওকর্মীদের নিরাপত্তা আরো হুমকির মুখে পড়বে।

বিবৃতিতে সিএসও অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঘটনার পরেও অপরাধীদের আইনের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তারা বলেন, এ ধরনের অপরাধকে ছোট করে দেখলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে এবং এনজিওকর্মীদের সুরক্ষা হুমকির মুখে পড়বে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এনজিওকর্মীরা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।

সিএসও অ্যালায়েন্স দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়ে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেছে। এগুলো হলো—

১. দোষীদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা করতে বাধা দেয়া বা তথ্য গোপনের চেষ্টা করলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
৩. গ্রামীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে কাজ করা উন্নয়নকর্মীদের জন্য যথাযথ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. উন্নয়নকর্মীদের সহিংসতা বা হয়রানির ভয় ছাড়া কাজ করার সুযোগ দিতে হবে, যা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
৫. নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রতিটি মামলা কঠোরভাবে নথিভুক্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিবৃতিতে নারী এনজিওকর্মীর ভিডিও ধারণের হুমকিকে জঘন্য নারী নির্যাতন উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে ছিলেন রাশেদা কে চৌধুরী, ড. ইফতেখারুজ্জামান, শাহিন আনাম, মালেকা বেগম, আসিফ সালেহ, ফারাহ্ কবির, মনসুর আহমদ চৌধুরী, নোমান খান, খায়রুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, সালমা মাহবুব, কেএএম মোর্শেদ ও সাঈদ আহমেদসহ আরো অনেকে।