যশোরে করোনার ভয়াবহ বিস্তৃতি ঘটছে।  করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ভারতীয় ধরন ৪২ শতাংশ ও আফ্রিকার গামা ধরন ৩০ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে। যশোর জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১৫৯। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আরো নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৮০ জন।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ আহমেদ জানিয়েছেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন চারজন। এছাড়া উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। যশোর হাসপাতালের রেডজোনে এখন ভর্তি আছেন ১০৩ জন। এছাড়া উপসর্গ নিয়ে ইয়েলো জোনে ভর্তি আছেন আরো ৬১ জন।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, যশোরে করোনার ভারতীয় ডেল্টা ধরন ৪২ শতাংশ ও আফ্রিকার গামা ধরন ৩০ শতাংশ ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতীয় ধরনে আক্রান্ত একজন রোগী ছয়জনকে আক্রান্ত করছে। তাদের হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ৮৩ শতাংশ, আর আফ্রিকার ধরনে হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ৬০ শতাংশ। এটাকে আটকাতে হলে দ্রুত টিকাদান অথবা মানুষের শরীরে ইমিউনিটি বাড়াতে হবে। না পারলে সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি আসতে পারে।

যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান জানান, যশোরে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। শনাক্তের ঊর্ধ্বগতি রুখতে কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকরে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। বিধিনিষেধ প্রতিপালনে বৃহস্পতিবার থেকে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। করোনা রুখতে জনগণকেও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বিধিনিষেধ প্রতিপালনে সবার সহযোগিতাও কামনা করেছেন তিনি।