বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারতফেরত পাসপোর্টধারী যাত্রীদের মাঝে খাবার ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করছে জেলা প্রশাসন।
তিনদিন ধরে এ কার্যক্রম চলছে।
করোনা পরিস্থিতি যতদিন থাকবে ততদিন এ মানবিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসনের হয়ে এ কাজে অংশ নিয়েছে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন।
জানা যায়, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের চলমান ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দূতাবাসের বিশেষ ছাড়পত্র নিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে ফিরছেন আটকে পড়া বাংলাদেশী পাসপোর্টধারী যাত্রীরা।
এসব যাত্রীর মধ্যে বেশির ভাগই চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন।
ভারতে দু-তিন মাস চিকিৎসা শেষে হাতে খরচের টাকা তেমন না থাকায় বর্তমান সময়ে অনেকটা অসহায় তারা।
যারা ভারত থেকে ফিরছেন তাদের আবার যশোর জেলার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ব্যক্তিগত খরচে ১৪ দিন থাকতে হচ্ছে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাত্রীদের খরচ কমাতে হোটেল ভাড়া অর্ধেক, গাড়ি ভাড়া নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে ও খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
ভারতফেরত যাত্রী সারমিন আক্তার জানান, জটিল রোগে তিনি আক্রান্ত তাই করোনার মধ্যেও বাধ্য হয়ে যেতে হয়েছিল ভারতে।
সেখানে দীর্ঘ দুই মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন।
হাতে বাস ভাড়া ছাড়া তেমন খরচের টাকা নেই।
বেনাপোল পোর্ট থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান জানান, পুলিশের একজন কর্মকর্তাসহ দুই সদস্য উপহার সামগ্রী বিতরণে বন্দরের টার্মিনালে কাজ করছেন।
এমন সেবামূলক কাজে অংশ নিতে পেরে তাদেরও ভালো লাগছে।
পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তারা এ সেবা দিয়ে যাবেন।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর আলিফ রেজা জানান, জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ভারতফেরত যাত্রীদের মাঝে বিনা মূল্যে করোনা সুরক্ষা সামগ্রী ও খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
এর আগে যাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে হোটেল ভাড়া কমিয়ে অর্ধেক ও কিলোমিটার প্রতি পরিবহন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, যারা জটিল রোগে আক্রান্ত তারা হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে থাকতে পারবেন।
এছাড়া কেউ বিপদে পড়লে তাকে সাধ্যমতো নগদ অর্থ দিয়েও সহায়তা করা হচ্ছে।
যতদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে, ততদিন এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান জানান, কোয়ারেন্টিনে যারা থাকছেন তাদের খাদ্য ও সুরক্ষা সামগ্রী সহায়তা অব্যাহত থাকবে।










